Thursday, February 28, 2019

ইমরান খান IMF-কে সহযোগিতার মাধ্যমে পাকিস্তানকে ঔপনিবেশিক কর্তৃত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করছে

০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আইএমএফ প্রধানের সাথে ইমরান খান এর বৈঠকটি দ্বারা উপনিবেশবাদীরা পাকিস্তানের জন্য নতুন বিপদ নিয়ে আসছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রকাশিত ফিল্ড ম্যানুয়াল, সেপ্টেম্বর, ২০০৮ এর একটি লেখা অনুযায়ীমার্কিন সামরিক বাহিনী উপনিবেশিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ক্ষতির একটি বড় উত্স হিসেবে বিবেচনা করে, যেমন IMF, বিশ্বব্যাংক ও OECD আর্থিক, গতানুগতিক, “সাধারণ সহ বৃহ আকারের যুদ্ধকালীন সময়ের অস্ত্র প্রকৃতপক্ষে, এটি একটি সত্য যে আইএমএফ একটি ঔপনিবেশিক হাতিয়ার যা ঔপনিবেশিক শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য কোনও দেশকে তার পায়ে দাঁড়াতে ঋণ গ্রহণ করতে কখনও অনুমতি দেয় না। ক্ষমতায় আসার আগেই ইমরান খান এই সত্যটি স্বীকার করেছিলেন। ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান এ প্রকাশিত, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ তারিখে ইমরান খান সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “একটি দেশ যা সাহায্যের উপর নির্ভর করে! মৃত্যু তার চেয়ে ভাল। এটি আপনাকে আপনার সম্ভাব্যতা অর্জনে বাধা দেয়, ঠিক যেমন ঔপনিবেশিকতা করেছিল। সাহায্য অপমানজনক। যত দেশ আমি জানি যারা IMF বা বিশ্বব্যাংকের কর্মসূচী গ্রহণ করেছে তা শুধুমাত্র দরিদ্রকে আরো দরিদ্র করেছে এবং ধনীকে আরো ধনী করেছে।তবুও, ইমরান খান উত্সাহ সহকারে ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯-এ টুইট করেছেন “IMF এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন লাগার্ডের সঙ্গে আজ আমার বৈঠকে টেকসই উন্নয়নের পথে দেশকে প্রবেশ করাতে গভীর কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভংগি ছিল, যাতে সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলি সুরক্ষিত থাকেগভীর কাঠামোগত সংস্কার (Deep Structural Reform) উদযাপনের কারণ হওয়া থেকে অনেক দূরে। তারা ঔপনিবেশিক ফর্মুলা ও ওয়াশিংটনের ঐক্যমত অনুযায়ী পরিচালিত, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য স্থানীয় দেশের মুদ্রা, শিল্প ও কৃষির মূল্যে সাজানো হয়েছে।

হে পাকিস্তানের মুসলিমগণ! ইমরান খান নিশ্চিতভাবেই প্রমাণ করেছেন যে, শুধুমাত্র চেহারা পরিবর্তন কখনও পাকিস্তানে পরিবর্তন আনবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত পাকিস্তানে মানবরচিতইনের ব্যবস্থা বোঝা হয়ে আছে, ততক্ষন এটি ক্রমাগত ভোগান্তিতে থাকবে প্রত্যেক পূর্ববর্তী শাসককে বর্তমানের তুলনায় আরও ভালো মনে হবে, কেবলমাত্র এই কারণে যে পাকিস্তান ক্রমাগত উপনিবেশিক ফাঁদে আরো গভীরভাবে ডুবে যাচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে কর বৃদ্ধি, ভর্তুকির হ্রাস, দুর্বল রুপি এবং হাড়ভাঙা দামবৃদ্ধির যাতাকলে পিষ্ট যতদিন পাকিস্তান IMF এর সদস্য থাকবে, বাস্তবতা আরও খারাপ হবে। এখন আমাদের সকলের উপর বর্তায় যে আমরা খিলাফতের আহ্বানকারীদের দাবির সমর্থন করবো যাতে পাকিস্তান সব ঔপনিবেশিক প্রতিষ্ঠানকে ছেড়ে দেয়, আইএমএফ কিংবা জাতিসংঘ, কারণ এসব উপাদানের মাধ্যমে কাফেরগণ আমাদের কার্যাবলীর উপর কর্তৃত্ব রাখতে পারে এবং এগুলো মহা ক্ষতির উৎস। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন,

﴿وَلَن يَجْعَلَ اللَّهُ لِلْكَافِرِينَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ سَبِيلًا

এবং কিছুতেই আল্লাহ কাফেরদেরকে মুসলমানদের উপর বিজয় দান করবেন না [সূরা নিসা: ১৪১]

রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন,

«لاَ ضَرَرَ وَلاَ ضِرَارَ»

“কোনো ক্ষতি নয়, কোনো ক্ষতির বদলে ক্ষতিও নয়” [মুওয়াত্তা ইবন মালিক, ইবন মাজাহ]

আমাদের সকলের জন্য বর্তায় যে আমরা রাত-দিন একত্র করে হলেও সেই ব্যবস্থা তথা নবুয়্যতের আদলের খিলাফতের জন্য কাজ করি যা পাকিস্তানকে তার পূর্ণ সম্ভাব্যতা অর্জন করতে সহায়তা করবে।

No comments: