Thursday, February 28, 2019

একমাত্র খিলাফত শাসনব্যবস্থাই অর্থপাচার রোধ করে শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারে


সাম্প্রতিক সময়ে গ্লোবাল ফিনেনশিয়াল ইন্টেগ্রিটি নামক একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ দক্ষিন এশিয়ার মধ্যে অর্থ পাচারে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। বৈশ্বিকভাবে ১৯ তম। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালের এক বছরেই বাংলাদেশ থেকে পাচার হয় ৫ শ' ৯০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। পাচারের অর্থের বেশিরভাগই গেছে আমদানি-রফতানির বাণিজ্যের আড়ালে। ১৫ সালের আগের এগারো বছরে পাচার হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা। (কালের কন্ঠ ২৯/১/২০১৯)

দেশ থেকে অতিমাত্রায় অর্থ বিদেশে চলে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারন হল বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ পুজিবাদী শাসকেরা ৪৯ বছরেও দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে নি।

মূল সমস্যা নিয়ে আলোচনা না করে ঢালাওভাবে অর্থপাচারের দায় ফেলা হয় হুন্ডি, ভিওআইপি ব্যাবসার উপরে। কিন্তু আলোচনা করা হয় না কেন জনগন দেশে টাকা রাখতে চায় না। এতে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অরাজকতাই দায়ী তা সামনে আসে না।

দেশে বিনিয়োগ ও ব্যাবসা-বানিজ্যের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ, উৎপাদনমুখী অর্থনীতির জন্য সহায়ক অবকাঠামো, উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা এবং শক্তিশালী স্থানীয় ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলা যার মাধ্যমে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি সহ দেশের অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় পন্য সরবরাহ করা যায়; এর কিছুই এদেশের শাসকশ্রেনী নিশ্চিত করতে পারে নি বরং ব্যর্থ হয়েছে।

দেশের অর্থনীতির প্রতি এরুপ অবহেলা প্রদর্শন করে, দুর্নীতিতে বিরল নজির স্থাপন করে, জনগণের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে বরঞ্চ ‘অর্থপাচার দেশের অর্থনীতিতে কোন প্রভাব ফেলবে না’ বলে বক্তব্য দিয়েছে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।(যুগান্তর, ১৯/১/২০১৯) এভাবেই ধর্মনিরপেক্ষ শাসকেরা এদেশের জনগনের সাথে প্রতারনা করেই যাচ্ছে,এবং জনগনের স্বার্থকে উপেক্ষা করেই যাচ্ছে।

দেশে আওয়ামী-বিএনপি কোন্দলে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে ব্যাবসা বানিজ্যে তীব্র মন্দা বিনিয়োগের পরিবেশ নেতিবাচক হচ্ছে।  দেশে চাদাবাজি, দূর্নীতি, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর গুন্ডাবাহিনীর তান্ডবে মানুষ বাধ্য হচ্ছে যেকোন উপায়ে নিজেদের অর্থ সম্পদ বাইরের দেশগুলোতে পাঠিয়ে রক্ষা করতে। দেশে বিনিয়োগ না করে বরং বিদেশে বিনিয়োগ করতে।

দেশের জ্বালানী সম্পদ ব্যাবহার করে ভারী ইন্ডাষ্ট্রি গড়ে তোলার জন্য যে সুউচ্চ ভিশন তা বর্তমান গতান্ত্রিক শাসকদের না থাকায়, বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে না, চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। বরঞ্চ আমাদের শাসকেরা এদেশের জ্বালানী খাতকে পশ্চিমা কোম্পানীগুলোর হাতে তুলে দিয়েছে, ফলে জ্বালানীর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্রমান্বয়ে। এর ফলে দেশে পন্য উৎপাদন ব্যয়বহুল হওয়ায়, দেশ আমদানীমুখী হয়ে পড়ছে। স্বাভাবিকভাবেই আমদানীর প্রভাবে দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে।

এছাড়াও ব্যাবসা বানিজ্যে নানাবিধ অতিরিক্ত কর আরোপ করার কারনেও দেশে বিনিয়োগে সদিচ্ছার অভাব দেখা দিচ্ছে। করের হাত থেকে টাকা বাচাতে তা পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে সুইজারল্যান্ড সহ বিভিন্ন ‘ট্যাক্স হ্যাভেন’ দেশগুলোতে।
দেশের শিক্ষার মান না থাকায় অন্য দেশে পড়াশোনা ও তার করতে যাচ্ছে প্রচুর ছাত্র, যাদের বেশিরভাগই বিদেশে পড়শোনা শেষ করে সেখানেই চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন দেখে। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রতিবছরই মানুষ হচ্ছে বিদেশমুখী। যার ফলে প্রচুর অর্থ দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।

এদেশের গণতান্ত্রিক শাসকরাও দূর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করছেন। প্রকৃতপক্ষে আমাদের শাসকেরা জনগণের কল্যান সাধনের কোন তোয়াক্কাই করে না বরঞ্চ নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যাস্ত।

সমাধান

একমাত্র নবুয়্যতের আদলের খিলাফতই পারে ক্রমবর্ধমান এই অর্থপাচার (capital flight) ঠেকাতে।

১। একমাত্র খিলাফত রাষ্ট্রই এক খলিফার নের্তৃত্বে মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

রাসুল (সা) বলেন, যখন একজন ইমামের হাতে বাইয়াত সম্পূর্ন হয়ে যায় তখন তাকে যথাসাধ্য মান্য করবে, এমতাবস্থায় যদি কেউ তার সাথে বিরোধ করতে আসে, তবে দ্বিতীয়জনকে হত্যা করবে। [সহিহ মুসলিম হাদিস নং ১৮৪৪]

তাই রাজনৈতিক অরাজকতা সৃষ্টির কোন সুযোগ থাকবে না। 

২। এছাড়াও দেশের অফুরন্ত সম্পদ কাজে লাগিয়ে একটি শক্তিশালী অর্থনীতি নির্মান করবে খিলাফত, যাতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে। যেভাবে ১৪০০ বছরের একটি শক্তিশালী অর্থনীতি তৈরি করেছিল খিলাফত।

খিলাফত রাষ্ট্র দেশের জ্বালানী খাতকে গমালিকানাধীন সম্পদে পরিনত করবে, এবং দেশের জ্বালানী বৈদেশিক শক্তির হাত থেকে মুক্ত করে এর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ভারী শিল্প কাঠামো গড়ে তুলবে। ফলে পর্যাপ্ত জ্বালানী সরবরাহ নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে। শুধুমাত্র তাই নয়, এটি খিলাফত রাষ্ট্রের ভিশন কার ভারী সমরশিল্প গড়ে তোলা, এবং উন্নত প্রযুক্তির বিকাশ সাধন খিলাফত রাষ্ট্রের জন্য ফরয, কেননা আল্লাহ বলেন,

‘আর প্রস্তুত কর তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য যাই কিছু সংগ্রহ করতে পার নিজের শক্তি সামর্থ্যের মধ্যে থেকে এবং পালিত ঘোড়া থেকে, যেন প্রভাব পড়ে আল্লাহর শুত্রুদের উপর এবং তোমাদের শত্রুদের উপর আর তাদেরকে ছাড়া অন্যান্যদের উপর ও যাদেরকে তোমরা জান না; আল্লাহ তাদেরকে চেনেন। বস্তুতঃ যা কিছু তোমরা ব্যয় করবে আল্লাহর রাহে, তা তোমরা পরিপূর্ণভাবে ফিরে পাবে এবং তোমাদের কোন হক অপূর্ণ থাকবে না’। [আনফাল ৬০]  

ফলে দেশের অর্থ বাইরে যাওয়ার হার কমে আসবে। কেননা এভাবে খিলাফত রাষ্ট্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে।

৩। খিলাফত রাষ্ট্র জনগনের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা প্রদান করবে, এতে করে সম্পদ ও অর্থের পাচার থেমে যাবে। আবু বাকরা (রা) রাসুল (সা) থেকে বর্ননা করেন,

أَلاَ إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَيْكُمْ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ، كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا، فِي بَلَدِكُمْ هَذَا، فِي شَهْرِكُمْ هَذَا

নিশ্চই তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সম্মান আল্লাহ পবিত্র ও হারাম করেছেন যেমন তোমাদের এই দিন, এই শহর, এই মাস’। [বুখারী, হাদিস নং ৪৪০৩, আসসুনাসুস সাগির লি বাইহাকি, হাদিস নং ৩১২১]

৪। খিলাফত রাষ্ট্র খারাজ, জিজিয়া ও উশর ছাড়া অন্য কোন কর আরোপ করবে না। কেননা আয়কর, এবং বিভিন্ন ধরনের শুল্ক ইসলাম হারাম ঘোষনা করেছে। শুধুমাত্র ব্যাবসায়িক পন্য থেকে এর যাকাত নেওয়া হবে, অন্য কোন কর থাকবে না। ফলে জনগন করের বোঝায় জর্জরিত হয়ে অর্থ বিদেশে পাঠাবে না। রাসুল সা বলেছেন,

«لَا يَدْخُلُ صَاحِبُ  مَكْسٍ الْجَنَّةَ»

অবৈধভাবে কর আদায়কারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না’ [মুসনাদ আল আহমাদ, হাদিস নং ১৭০২৩]

৫। খিলাফত রাষ্ট্র উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করবে, যেরকমভাবে পূর্বে যখন ইউরোপ অন্ধকার গহ্বরে নিমজ্জিত ছিল, তখন খিলাফত রাষ্ট্রে ফেয, কর্ডোভা, আলেক্সান্দ্রিয়া, বাগদাদ আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের পীঠস্থান ছিল। তাই ইউরোপ থেকে ছাত্র এসে খিলাফত রাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটিগুলোতে পড়ালেখা করত।

৬। খিলাফত রাষ্ট্র উন্নত চিকিৎসার ব্যাবস্থা করবে, খিলাফত রাষ্ট্রের খসড়া সংবিধানে ১৬৪ ধারায় রয়েছে:

‘রাষ্ট্র সকলের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যাবস্থা করবে’।

কেননা রাসুল (সা) মদীনায় ডাক্তার নিয়োগ করেছিলেন। তাই খিলাফত রাষ্ট্রে বাইতুল মাল চিকিৎসাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার ব্যাবস্থা করবে। এতে করে দেশের অর্থ বিদেশে যাবে না।

৭। এছাড়াও, খিলাফত রাষ্ট্র দূর্নীতি রোধে সর্বত্র তাকওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করবে। এতে করে প্রশাসন থেকে শুরু করে সব জায়গায় দূর্নীতি দূর করা সম্ভব হবে। এছড়াও হিসবাহ আদালত সকল পর্যায়ে দূর্নীতি মনিটর করবে যাতে তা কমে আসে। ফলে জনমনে উদ্বিগ্নতা ও আস্থার অভাব (lack of confidence) দূর হবে। অর্থ বাহিরে বিনিয়োগ ও নিরাপত্তার জন্য প্রেরন করার প্রবণতা হ্রাস পাবে। শাসকরা বায়তুল মাল থেকে প্রাপ্ত ভাতার বাইরে কোন ধরনের ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক কার্যক্রমে জড়িত থাকতে পারবে না। তাদেরকে অর্থসম্পদের উপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হবে। যেকোন অনাকাংক্ষিত অর্থ বৃদ্ধি দেখা গেলে  তা বাজেয়াপ্ত করে বায়তুল মালে জমা করা হবে। তাই শাসকশ্রেনীর অর্থের পাহাড় গড়ে তা পাচারের সুযোগ খিলাফত রাষ্ট্রে থাকবে না।

এবং এভাবেই খিলাফত রাষ্ট্র ইসলামী বিধিবিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে আল্লাহু সুবহানাহু ওয়া তা’আলার রহমত দ্বারা পরিবেষ্টিত হবে, এবং তার সন্তুষ্টি অর্জনে সক্ষম হবে।

وَابْتَغِ فِيمَا آتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الآخِرَةَ وَلاَ تَنسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا وَأَحْسِنْ كَمَا أَحْسَنَ اللَّهُ إِلَيْكَ وَلاَ تَبْغِ الْفَسَادَ فِي الأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ لاَ يُحِبُّالْمُفْسِدِينَ

আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন, তদ্বারা পরকালের গৃহ অনুসন্ধান কর, এবং ইহকাল থেকে তোমার অংশ ভূলে যেয়ো না। তুমি অনুগ্রহ কর, যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ অনর্থ সৃষ্টিকারীদেরকে পছন্দ করেন না। [কাসাস: ৭৭]

লেখক: ইবনুল আযরাক

ইয়েমেনের স্কুল শিশু হত্যাকারী কসাই এবং উম্মাহর তেল সম্পদ লুণ্ঠনকারী পাকিস্তানে অবশ্যই স্বাগতম না

সংকোচন নীতির আওয়াজ ও হৈচৈ তুলে, বাজওয়া-ইমরান সরকার সৌদি শাসক বিন সালমান (এমবিএস) -কে স্বাগত জানানোর জন্য কোন খরচ বাদ দিচ্ছে না, উম্মাহর সম্পত্তি মুক্তভাবে খরচ করছেওদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াচ্ছে, কিন্তু পাকিস্তান বিমান বাহিনীর জেএফ-১৭ জেট এর মাধ্যমে এমবিএস এর জেট এর প্রোটোকল প্রদানের ক্ষেত্রে নির্বিচারে জ্বালানী খরচ করছে অথচ দখলকৃত কাশ্মিরের মুসলিমদের সামরিক সাহায্য হতে বঞ্চিত করছেপাকিস্তান সেনাবাহিনীকে ব্যস্ত রাখছে এমবিএসকে নিরাপদ করার জন্য, যদিও তার শতাধিক সৌদি আরবীয় রয়েল গার্ড রয়েছেঅথচ গৃহায়নের জন্য জনগণের উপর অভিশপ্ত সুদ ভিত্তিক ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। সরকার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন সাজাচ্ছে, ওদিকে এমবিএস ১১০০ কর্মকর্তা ব্যবসায়ী ব্যক্তি, পাঁচ ট্রাক ব্যক্তিগত মালপত্র, শি কন্টেইনার লাগেজ এবং ডজনখানেক গাড়ি আনয়ন করেছে পাশাপাশি সম্পূর্ণরূপে দুটি পাঁচ তারকা হোটেল এবং তিন শত ল্যান্ড ক্রুসার গাড়ি বুকিং করেছেআর এগুলো আবার পাকিস্তানের এয়ারস্পেস, ট্র্যাফিক এবং ফোন যোগাযোগের ব্যাঘাতের অর্থনৈতিক খরচ ব্যতিত হিসাব

কে এই এমবিএস যাকে এরকম ঢের খরচ ও বিঘ্ন ঘটিয়ে স্বাগত জানানোর জন্য উপযুক্ত মনে করে সরকার?! এমবিএস হচ্ছে জামাল খাশুজির খুনী, যে পাকিস্তান সফর করছে তার আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা ভেঙ্গে দেয়ার উদ্দেশ্যে, যাতে তিনি ভালভাবে বাজওয়া-ইমরান এর প্রভু, আমেরিকার সেবা করতে পারেন। ইয়েমেনের নৃশংস সৌদি সামরিক হস্তক্ষেপের কারিগর এই এমবিএস, মুসলিমদের বিশুদ্ধ রক্ত ঝরিয়ে, পৃথিবীর চার প্রান্তে এর জনগণকে বিক্ষিপ্ত করে দিয়েছে এই এমবিএস ভিশন ২০৩০এর প্রকৌশলী এই এমবিএস, যা হারামাইনের বরকতময় জমির উপর ধ্বংসাত্মক পশ্চিমা অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কবজা তৈরির জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এমবিএস সেই সৌদি শাসক পরিবারের অংশ যা উম্মাহর তেল সম্পদকে দখল করে আছে, যদিও ইসলাম একে উম্মাহর সুবিধার জন্য জনসাধারণের সম্পত্তি হিসাবে ধার্য করেছে। এমবিএস সেই সৌদি রাজতন্ত্রের ভবিষ্যত যা আল্লাহ তা'আলা যা নাযিল করেছেন তা দ্বারা শাসন করে না, যে আলেমদের কারাবন্দী ও হত্যা করে এবং মসজিদ আল-আকসার দখলদারদের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। আর এমবিএস হচ্ছে অর্থনৈতিক মাফিয়ার মুখ্য ব্যক্তি, যা এখন বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগের নামে পাকিস্তানে অবস্থিত উম্মাহর সম্পদকে কুক্ষিগত করতে চায়।

হে পাকিস্তানের মুসলিমগণ! আমাদের শাসকগণ সারা মুসলিম বিশ্ব জুড়ে আমাদের জন্য একটি বোঝা। তারা আমাদের সম্পদ থেকে খরচ করার ক্ষেত্রে একইরকম, যেমন এটি তাদের পিতৃপুরুষদের উত্তরাধিকারী সম্পদ। আমাদের দ্বীন, ভূমি ও সম্পদের লঙ্ঘন সত্ত্বেও ঔপনিবেশিক স্বার্থকে এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে তারা এক। আসুন আমরা আর আমাদের সম্পদ লুণ্ঠন আমাদের জনগণের হত্যার দর্শক না হই নিপীড়নের মুখে ধৈর্য কোনো গুনাবলী না, এটি পাপ মূর্খতা। আসুন আমরা দৃঢ়তার সাথে নবুয়্যতের আদলের খিলাফত এর সমর্থকদের সাথে কাজ করি যাতে যুলুমের শাসনের চুড়ান্ত এক পতন ঘটে। আহমদ হুজাইফা বিন ইয়ামান এর বরাতে রাসূলুল্লাহ (সা) হতে বর্ণনা করেন,

«ثُمَّ تَكُونُ مُلْكًا جَبْرِيَّةً فَتَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةً عَلَى مِنْهَاجِ النُّبُوَّةِ ثُمَّ سَكَتَ»

এরপর আসবে জবরদস্তির শাসন, তা থাকবে যতক্ষন আল্লাহ চান তা থাকুক, এরপর আল্লাহ এর পতন ঘটাবেন যখন তিনি তা চান, এরপর আসবে নবুয়্যতের আদলের খিলাফত।” এরপর তিনি চুপ থাকলেন।

ইমরান খান IMF-কে সহযোগিতার মাধ্যমে পাকিস্তানকে ঔপনিবেশিক কর্তৃত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করছে

০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আইএমএফ প্রধানের সাথে ইমরান খান এর বৈঠকটি দ্বারা উপনিবেশবাদীরা পাকিস্তানের জন্য নতুন বিপদ নিয়ে আসছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রকাশিত ফিল্ড ম্যানুয়াল, সেপ্টেম্বর, ২০০৮ এর একটি লেখা অনুযায়ীমার্কিন সামরিক বাহিনী উপনিবেশিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ক্ষতির একটি বড় উত্স হিসেবে বিবেচনা করে, যেমন IMF, বিশ্বব্যাংক ও OECD আর্থিক, গতানুগতিক, “সাধারণ সহ বৃহ আকারের যুদ্ধকালীন সময়ের অস্ত্র প্রকৃতপক্ষে, এটি একটি সত্য যে আইএমএফ একটি ঔপনিবেশিক হাতিয়ার যা ঔপনিবেশিক শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য কোনও দেশকে তার পায়ে দাঁড়াতে ঋণ গ্রহণ করতে কখনও অনুমতি দেয় না। ক্ষমতায় আসার আগেই ইমরান খান এই সত্যটি স্বীকার করেছিলেন। ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান এ প্রকাশিত, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ তারিখে ইমরান খান সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “একটি দেশ যা সাহায্যের উপর নির্ভর করে! মৃত্যু তার চেয়ে ভাল। এটি আপনাকে আপনার সম্ভাব্যতা অর্জনে বাধা দেয়, ঠিক যেমন ঔপনিবেশিকতা করেছিল। সাহায্য অপমানজনক। যত দেশ আমি জানি যারা IMF বা বিশ্বব্যাংকের কর্মসূচী গ্রহণ করেছে তা শুধুমাত্র দরিদ্রকে আরো দরিদ্র করেছে এবং ধনীকে আরো ধনী করেছে।তবুও, ইমরান খান উত্সাহ সহকারে ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯-এ টুইট করেছেন “IMF এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন লাগার্ডের সঙ্গে আজ আমার বৈঠকে টেকসই উন্নয়নের পথে দেশকে প্রবেশ করাতে গভীর কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভংগি ছিল, যাতে সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলি সুরক্ষিত থাকেগভীর কাঠামোগত সংস্কার (Deep Structural Reform) উদযাপনের কারণ হওয়া থেকে অনেক দূরে। তারা ঔপনিবেশিক ফর্মুলা ও ওয়াশিংটনের ঐক্যমত অনুযায়ী পরিচালিত, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য স্থানীয় দেশের মুদ্রা, শিল্প ও কৃষির মূল্যে সাজানো হয়েছে।

হে পাকিস্তানের মুসলিমগণ! ইমরান খান নিশ্চিতভাবেই প্রমাণ করেছেন যে, শুধুমাত্র চেহারা পরিবর্তন কখনও পাকিস্তানে পরিবর্তন আনবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত পাকিস্তানে মানবরচিতইনের ব্যবস্থা বোঝা হয়ে আছে, ততক্ষন এটি ক্রমাগত ভোগান্তিতে থাকবে প্রত্যেক পূর্ববর্তী শাসককে বর্তমানের তুলনায় আরও ভালো মনে হবে, কেবলমাত্র এই কারণে যে পাকিস্তান ক্রমাগত উপনিবেশিক ফাঁদে আরো গভীরভাবে ডুবে যাচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে কর বৃদ্ধি, ভর্তুকির হ্রাস, দুর্বল রুপি এবং হাড়ভাঙা দামবৃদ্ধির যাতাকলে পিষ্ট যতদিন পাকিস্তান IMF এর সদস্য থাকবে, বাস্তবতা আরও খারাপ হবে। এখন আমাদের সকলের উপর বর্তায় যে আমরা খিলাফতের আহ্বানকারীদের দাবির সমর্থন করবো যাতে পাকিস্তান সব ঔপনিবেশিক প্রতিষ্ঠানকে ছেড়ে দেয়, আইএমএফ কিংবা জাতিসংঘ, কারণ এসব উপাদানের মাধ্যমে কাফেরগণ আমাদের কার্যাবলীর উপর কর্তৃত্ব রাখতে পারে এবং এগুলো মহা ক্ষতির উৎস। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন,

﴿وَلَن يَجْعَلَ اللَّهُ لِلْكَافِرِينَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ سَبِيلًا

এবং কিছুতেই আল্লাহ কাফেরদেরকে মুসলমানদের উপর বিজয় দান করবেন না [সূরা নিসা: ১৪১]

রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন,

«لاَ ضَرَرَ وَلاَ ضِرَارَ»

“কোনো ক্ষতি নয়, কোনো ক্ষতির বদলে ক্ষতিও নয়” [মুওয়াত্তা ইবন মালিক, ইবন মাজাহ]

আমাদের সকলের জন্য বর্তায় যে আমরা রাত-দিন একত্র করে হলেও সেই ব্যবস্থা তথা নবুয়্যতের আদলের খিলাফতের জন্য কাজ করি যা পাকিস্তানকে তার পূর্ণ সম্ভাব্যতা অর্জন করতে সহায়তা করবে।

Sunday, February 24, 2019

প্রাগমেটিজম: একটি অনৈসলামি মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধি

প্রাগমেটিজম শব্দের কোন যুতসই বাংলা প্রতিশব্দ না পেয়ে এর ইংরেজী পরিভাষাটিই ব্যবহার করছি। শাব্দিক অর্থ নয় বরং এর প্রায়োগিক দিকটি নিয়েই আলোচনা করব। প্রাগমেটিজম বলতে বাস্তবতা প্রবণতাকে বুঝায়। কোন ব্যক্তির চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি যদি নিছক বাস্তবতাই হয় তবে তাকে প্রাগমেটিক বলে। সাধারণত যারা পুঁজিবাদী আদর্শ অনুসারে সিদ্ধান্ত নেয়, তারা প্রাগমেটিক বা বাস্তবতানুরাগী হয়। কারণ পুঁজিবাদে সুনির্দিষ্ট কোন নীতি নেই, বরং বাস্তবতা থেকে আইন আসে বা বাস্তবতা হল আইনের উৎস। কিন্তু ইসলামে আইনের উৎস হল ইসলামী শরী’আহ-যা সুনির্দিষ্ট। স্থান, কাল, পাত্র ভেদে এই শরী’আহ পরিবর্তনীয় নয়। সেকারণে একজন মুসলিম বিভিন্ন বাস্তবতায় সঙ্গতিপূর্ণ অপরিবর্তনীয় শরী’আহ এর দলিল থেকে তার করণীয় নির্ধারণ করে। সে কখনওই বাস্তবতা থেকে তার করণীয় ঠিক করবে না। বাস্তবতা এখানে চিন্তা বা সিদ্ধান্তের উৎস নয়, বরং বিষয়বস্তুমাত্র। সে সঙ্গতিপূর্ন অপরিবর্তনীয় শরী’আহ থেকে বাস্তবতা পরিবর্তনের জন্য হুকুম গ্রহণ করবে। বিধায় একজন ধর্মনিরপেক্ষ পুঁজিবাদী প্রাগমেটিক হলেও মুসলিম কখনওই প্রাগমেটিক হতে পারে না। মুসলিম প্রাগমেটিক হলে সে হুকুম শরী’আহ ব্যবহার করে বাস্তবতা পরিবর্তন করতে পারবে না, বরং সেই বাস্তবতা অনুসারে নিজেই পরিবর্তিত হয়ে যাবে। অনেকে এ আলোচনা শুনে মনে করতে পারেন তাহলে একজন মুসলিম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বাস্তবতাকে কী বিবেচনায় রাখবে না? উত্তর হল, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই বাস্তবতাকে বিবেচনায় রাখতে হবে, কিন্তু বাস্তবতা দ্বারা প্রভাবিত হওয়া যাবে না। বাস্তবতাকে বিবেচনায় না রাখলে সে কী করে বাস্তবতাকে পরিবর্তন করবে?

কুরআন এবং সুন্নাহতে এ বিষয়ে অসংখ্য দৃষ্টান্ত আমাদের জন্য রয়েছে। পবিত্র কুরআনে পূর্বের অনেক নবী রাসূলদের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহ বর্ণণা করা হয়েছে। নিশ্চয় এগুলো থেকে উম্মাতে মোহাম্মদীর জন্য শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত রয়েছে। অন্যথায় এগুলো কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা উল্লেখ করতেন না। আমরা দেখি সাইয়্যুদনা ইবরাহীম (আ) আল্লাহ’র নির্দেশে পরাক্রমশালী বাদশাহ নমরুদের পৌত্তলিকতার বিরুদ্ধে কিরূপ অবস্থান নিয়েছিলেন। তখন তিনি ছিলেন একা। অনেকে তার এই একাকী অবস্থান নেয়াকে বাস্তবানুগ বা প্রাগম্যাটিক না ও বলতে পারেন। কিন্তু সাইয়্যুদনা ইবরাহীম (আ) আল্লাহ’র নির্দেশ পালনকে বাস্তবতার উপর প্রাধান্য দিয়েছিলেন। একারণে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সাইয়্যুদনা ইবরাহীম (আ) কে নমরুদের ভয়ংকর অগ্নিকুন্ডের মধ্যে হেফাজত করেছিলেন এবং নমরুদকে নগন্য মশা দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। সাইয়্যুদনা মুসা (আ) এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তিনি পরাক্রমশালী ফেরাউনকে আল্লাহ’র একত্ববাদ বা তাওহীদের দিকে আহ্বান করেছিলেন। তখন শক্তির দিক থেকে মুসা (আ) ফেরাউনের সমকক্ষ ছিলেন না বলে প্রাগমেটিক লোকেরা তার এ আচরণকে ভুল ভাবতে পারেন। ফেরাউনের ভয়ে মুসা (আ)কে প্রায় দশ বছর নির্বাসনেও কাটাতে হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ’র রাস্তায় দৃঢ় থাকায় দিনশেষে আল্লাহ মুসা (আ) কে বিজয়ী করেছেন এবং অত্যাচারী ফেরাউনকে বিপর্যস্ত করেছেন। একই কথা আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা) এর ক্ষেত্রেও সত্য। মক্কায় অত্যন্ত প্রতিকূল একটি পরিবেশে রাসূলুল্লাহ (সা) এবং সাহাবী (রা) ইসলামের দাওয়াত বহন করেছেন। এক্ষেত্রে তারা অসম প্রতিদ্বন্দীতার মুখোমুখি হয়েছেন। মক্কার কাফেরদরে কর্তৃক মিথ্যা প্রপাগান্ডা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, হত্যার বাস্তবতায় আপোসের প্রস্তাবে রাজী হয়ে তারা প্রাগমেটিক হননি। রাসূল (সা) এবং সাহাবীগন বাস্তবতা দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে একমাত্র শরী’আহ’র প্রতি দায়বদ্ধ থেকেছেন। যার পরিণতিতে তারাই বিজয়ী হয়েছেন। কারণ বিজয় তো হুকুম প্রদানকারী আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার পক্ষ থেকেই আসে। আর তিনিই বাস্তবতাকে মুমিনদের অনুকূলে এনে দেন। তিনিই ভয়কে নিরাপত্তা ও সম্মান দ্বারা প্রতিস্থাপন করেন।

এক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা) মি’রাজের ঘটনাটি প্রণিধানযোগ্য। মানুষের ক্ষুদ্র জ্ঞানে অসম্ভব একটি সফর ছিল ইসরা ও মিরাজ। রাসূল (সা) এমন একটি সময়ে মিরাজে গিয়েছিলেন যখন বিচক্ষণ স্ত্রী খাদিজাতুল কুবরা (রা) ইন্তেকাল করেছেন এবং আশ্রয় দানকারী চাচা আবু তালিবও ইইলোক ত্যাগ করেছিলেন। আর মক্কার পরিস্থিতি ছিল দারুণভাবে প্রতিকূল। এই ভয়ংকর প্রতিকূল পরিবেশে ইসরা ও মিরাজ থেকে ফিরে এসে রাসূল (সা) এ বিষয়টি আল্লাহ’র নির্দেশে মক্কাবাসীকে জানাতে চাচ্ছিলেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত না জানানোর ব্যাপারে তার তৎকালীণ স্ত্রী পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু রাসূল (সা) প্রাগমেটিক না হয়ে আল্লাহ’র নির্দেশে তাঁর সবচেয়ে বড় শত্রু আবু জাহেলকে দিয়ে মিরাজের বিষয়টি প্রচার করা শুরু করলেন। কাফেরগণ ইসরা ও মিরাজের ঘটনাকে বাস্তবতাবিবর্জিত ও অসুস্থ মস্তিষ্কপ্রসূত চিন্তা বলে প্রপাগান্ডার নতুন জাল বুনতে লাগল। এমতাবস্থায় একদিন কাবা’র সামনে কাফেররা রাসূল (সা)কে বায়তুল মাকদিস সর্ম্পকে বর্ণণা দিতে বলল। আল্লাহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বায়তুল মাকদিসকে রাসূল (সা) এর সামনে এনে রাখল এবং তিনি (সা) দেখে দেখে কাফেরদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলেন এবং কাফেররা সেদিন নতশিরে অপমানিত হয়ে চলে গিয়েছিল। প্রাগমেটিক না হয়ে আল্লাহ’র নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করায় সেদিন রাসূল (সা) কাফেরদের ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে পেরেছিলেন।

বদর, খন্দক, তাবুক প্রভৃতি জিহাদের বিজয়ও অসম প্রতিদ্বন্দীতার মাধ্যমে এসেছিল। অর্থাৎ সেখানে কাফেরদের সংখ্যা, অস্ত্র ও আয়োজনের বিপরীতে মুসলিমদের সংখ্যা ও প্রস্তুতি ছিল অনুল্লেখযোগ্য। তারপরও বাস্তবতা নয়, তাওয়াক্কুল ও শরী’আহকে প্রাধান্য দেয়ায় আল্লাহ বিজয়ী করেছিলেন। 

নবী-রাসূলদের এসব ঘটনা শুনার পর অনেক প্রাগমেটিক লোক এগুলো নবীদের মত বিশেষ মানুষ দ্বারা সম্ভব হিসেবে দেখতে পারে।  এবং আমাদের মত সাধারণ মানুষের জন্য এইরকম হুকুম মানা বাস্তবসম্মত নয় বলে যুক্তি দেখাতে পারে। কিন্তু আমরা দেখেছি রাসূল (সা) ওফাতের পর সাহাবী (রা), তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীনগন এবং তৎপরবর্তী মুসলিমগণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রাগমেটিক ছিলেন না, বরং শরী’আহ’র অনুবর্তী ছিলেন। রাসূল (সা) এর ওফাতের পর আবু বকর (রা) যখন ধর্মত্যাগ, ভন্ডপীর, যাকাত অস্বীকারকারীদের উদ্ভব হয়েছিল তখন তিনি প্রাগমেটিক না হয়ে এদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছিলেন। যদিও সেসময় উমর (রা) আবু বকর (রা) কে মদীনায় উম্মুল মুমিনীনদের অরক্ষিত রেখে বাইরে গিয়ে মুরতাদদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেই উমর (রা) স্বীকার করেছিলেন যে, আবু বকর (রা) এর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। কারণ তিনি বাস্তবতা দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে তাওয়াক্কুলের সাথে শরী’আহ মেনে করণীয় নির্ধারণ করেছিলেন। 

ইসলামের ইতিহাসে তারপর অসংখ্য বিজয় এসেছে। মুসলিমগণ তারেক বিন জিয়াদের নেতৃত্বে স্পেন বিজয় নিশ্চিত করেছিল সামান্য কিছু সৈনিক নিয়ে, মহাবীর সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ূবী ক্রুসাডারদের বিশাল সম্মিলিত বাহিনীর বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছিলেন। তারা কেউই নবী ছিলেন না। বর্তমান সময়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি একক সুপার পাওয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোভুক্ত আরও প্রায় ৪০টি দেশ নিয়ে বিগত ১৮ বছর ধরে প্রচেষ্টা চালিয়ে পুরো আফগানিস্তান তালেবানমুক্ত করতে পারছে না। উল্টো তালেবানরা আফগানিস্তানের ৭০ শতাংশ ভূমি এখনও দখল করে রেখেছে এবং আমেরিকা তাদের সাথে সমঝোতায় বসতে বাধ্য হচ্ছে। তালেবানদের নেই সুপ্রশিক্ষিত বাহিনী, আমেরিকার মত সর্বাধুনিক অস্ত্র-ভান্ডার, পারমাণবিক বোমা, যুদ্ধ জাহাজের বহর। তাহলে বাস্তবতার বিপরীতে গিয়ে কীভাবে এটি সম্ভব হচ্ছে? 

তিরমিযী শরীফের একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন,

‘‘যখন কেউ আল্লাহকে অখুশী করে মানুষকে খুশী করে, তখন তাকে মানুষের মর্জির উপর ছেড়ে দেয়া হয়। আর যখন কেউ মানুষকে অখুশী করে আল্লাহকে খুশী করে, তখন তাকে মানুষের নির্ভরশীলতা থেকে (আল্লাহ) মুক্ত করে দেন।’’ 

সেকারণে ইসলাম বহন করার সময় কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সুন্নাহ’র বাইরে যাওয়া উচিত হবে না। যদি সুন্নাহ’র বাইরে যায় তবে তারা দুনিয়াতে হবে লাঞ্চিত এবং আখেরাতে পাবে মর্মন্তুদ শাস্তি। আর একটি বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে কুরআন এবং সুন্নাহতে রাসূলুল্লাহ (সা) এর উপর যে আদেশসমূহ আমভাবে এসেছে সেগুলো মুসলিম হিসেবে আমরা সবাই মানতে বাধ্য। এক্ষেত্রে  নবী কি নবী না, সাহাবী কী সাহাবী না, এটি বিবেচ্য বিষয় নয়।

বল, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সূরা আল ইমরান:৩১)

রাসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন-তা থেকে বিরত হও।’ (সূরা হাশর:৭)