Wednesday, November 21, 2018

মুসলিম বিশ্বে গণতন্ত্র: নব্য উপনিবেশবাদের মোক্ষম হাতিয়ার

উপনিবেশবাদ বা সাম্রাজ্যবাদ পুঁজিবাদের স্বাভাবিক পরিণতি। ইউরোপে খ্রীস্টান ধর্মযাজক, শাসকশ্রেণী এবং নির্যাতিত সাধারণ জনগণ ও বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর মধ্যে শতকের পর শতক ধরে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর তারা জীবন থেকে ধর্মকে পৃথকীকরণের প্রতিক্রিয়াশীল সিদ্ধান্ত- ধর্মনিরপেক্ষতায় উপনীত হয়। এটি ছিল ইউরোপীয়দের পূর্ণজাগরণ। এ পূর্ণজাগরণ ইউরোপীয়দের একটি চিন্তার (অর্থাৎ ধর্মনিরপেক্ষতা) ভিত্তিতে গড়ে উঠা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মাধ্যমে বস্তুগত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। যার ফলশ্রুতিতে শিল্প বিপ্লব আসে। কাঁচামাল, পুজি, জ্বালানী ও বাজারের জন্য ইউরোপের পুঁজিবাদী রাষ্ট্রসূহ এশিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ল্যাটিন আমেরিকার রাষ্ট্রসমূহে প্রত্যক্ষ উপনিবেশ স্থাপন করে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে সফল ছিল ব্রিটেন। তার পরের সারিতেই ছিল ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল।

ব্রিটিশদের সর্ম্পকে বলা হয় তারা তাদের মগজের শেষটুকু দিয়ে চেষ্টা করে। যে কারণে তারা অন্যদের চেয়ে একটু বেশীই সফল। শক্তিশালী নৌবাহিনী, ধূর্ত রাজনৈতিক কূটকৌশল, সুদূরপ্রসারী আদর্শিক চিন্তাকে ব্যবহার করে বিশাল উপনিবেশ গড়ে তুলেছিল ব্রিটিশরা। তারা যেখানে গিয়েছে সেখানে কেবল ভূমিকে দখল করেনি, সে ভূমির মানুষের মগজকেও দখল করেছে। এর জন্য শিক্ষাব্যবস্থা তথা কালচারের মাধ্যমে মানুষের চিন্তাপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। তাদের মত চিন্তা করতে, জীবনকে দেখতে শিখিয়েছে। যেখানে তারা গিয়েছে সেখানে ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, শাসনব্যবস্থা, নিপীড়নমূলক পুঁজিবাদী অর্থনীতি বাস্তবায়ন করেছে। এতে করে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয় মুসলিম বিশ্বের। কারণ মুসলিমদের রয়েছে নিজস্ব আক্বীদা, শাসনব্যবস্থা, সমাজব্যবস্থা, অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা-যা কাফির ব্রিটিশদের চেয়ে সম্পূর্ণরূপে পৃথক।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় ব্রিটিশদের জন্য প্রত্যক্ষ উপনিবেশ বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন তাদের শিক্ষাব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, শাসনব্যবস্থা, নিপীড়নমূলক পুঁজিবাদী অর্থনীতি বাস্তবায়নের ফলে উপনিবেশবাদকে তারা নতুন রূপ দিতে সক্ষম হয়েছিল। এই নতুন রূপের উপনিবেশবাদের নাম হল নব্য উপনিবেশবাদ বা নিও কলোনিয়ালিজম। এখানে ব্রিটিশরা প্রত্যক্ষভাবে কোন ভূমিতে শাসনে না থাকলেও তাদেরই পছন্দনীয় ঐ ভূমির কাউকে শাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। ফলে জনগণের মধ্যে স্বাধীন সার্বভৌমত্বের একধরনের নকল অনুভূতি বিরাজ করতে থাকে-যদিও এ অনুভূতিই শেষ কথা। বাস্তবে এ রাষ্ট্রসমূহ স্বাধীন বা সার্বভৌম নয়। এই দালাল শাসক ঐ ভূমিতে ব্রিটিশদের স্বার্থ রক্ষা করে এবং ব্রিটিশরা এর বিনিময়ে ঐ শাসককে ক্ষমতার থাকার নিশ্চয়তা প্রদান করে। এই শাসক এক নায়ক স্বৈরাচার হতে পারে, আবার গণতান্ত্রিকও হতে পারে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর বিশ্ব রাজনীতিতে পরাশক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর্বিভূত হয়। তারা মুসলিম এবং অমুসলিম বিশ্বে নব্য উপনিবেশবাদের এ ধারাকে অব্যাহত রাখে।

মুসলিম বিশ্বে দ্বিদলীয় গণতন্ত্র প্রত্যক্ষ উপনিবেশকালীন সময়ে উপনিবেশবাদী ব্রিটিশদের শেখানো রাজনৈতিক কালচারের ফলাফল। ব্রিটিশরা নিশ্চিত করতে চেয়েছিল তারা চলে যাওয়ার পর কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো তাদের দেখানো রাজনৈতিক ধারার মধ্যেই থাকে। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ভারতীয় কংগ্রেস পার্টির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস থেকে-যার প্রতিষ্ঠাতা কোন ভারতীয় নয়, বরং একজন ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ- এলান অক্টোভিয়ান হিউম। ব্রিটিশ ওয়েস্ট মিনিস্টার ধারার রাজনীতিতে দুইটি বড় রাজনৈতিক দল থাকে যারা পালাক্রমে জনগণকে শাসন করে। একই চিত্র আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও দেখতে পাই। এ দু’টি দলের মধ্যে একটি থাকে দেশপ্রেমিক ঘরানার এবং অন্যটি জাতীয়তাবাদী ঘরানার। মুসলিম বিশ্বে এদের কোনটি আমেরিকান ব্লকের আবার কোনটি ব্রিটিশ ব্লকের। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, তুরষ্ক, তিউনেশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতি এরকমই।

  • আদর্শিক হওয়ায় দ্বিদলীয় রাজনীতি আমেরিকা, ব্রিটেনের জনগণকে বিভক্ত না করলেও গণতন্ত্র মুসলিম বিশ্বে আরোপিত ব্যবস্থা হওয়ায় জনগণকে বিভক্ত করে। বিধায় রাষ্ট্রের মধ্যে নৈরাজ্য ও বিশৃংখলা দেখা দেয়। জনগণ ও রাজনৈতিক দলের বিভক্তি উপনিবেশবাদীদের খবরদারি ও দরকষাকষির মোক্ষম সুযোগ এনে দেয়। এভাবে মুসলিম বিশ্বে কাফের উপনিবেশিক শক্তিসমূহের আধিপত্য ও প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়।


  • পুঁজিবাদ বাস্তবায়নের ফলে সাধারণ জনগণ জুলুমের মধ্যে থাকে এবং ক্ষোভ দানা বাধতে থাকে। কয়েক বছর পর পর নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নতুন চেহারা নিয়ে এসে সেই ক্ষোভ প্রশমনের ব্যবস্থা করা হয়। জনগন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ ও ভোট প্রদানের মাধ্যমে নতুন কাউকে নিয়ে এসে পুরাতন জালিমকে প্রতিস্থাপন করে ক্ষোভকে প্রশমিত করে।

  • গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মিডিয়া কিছুটা স্বাধীনতা ভোগ করে এবং জনগণ সভা সমাবেশ করার অধিকার পায়। এভাবেও ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হয়। তবে উপনিবেশবাদীদের পছন্দনীয় শাসকের পক্ষে জনগমত তৈরির ও জনগনের সাথে প্রতারণার জন্যও মিডিয়াকে ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু একই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকায় নতুন মুখও কিছুদিনের মধ্যে জালিম হয়ে উঠে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পশ্চিমা উপনিবেশিকদের পছন্দমত শাসক না আসলে সেসব দেশে তারা পছন্দনীয় এক নায়ককে বেছে নেয়। যেমনটি ঘটেছে মিশরে। সেখানে আমেরিকা জনপ্রিয় শাসক মুরসীকে সেনাপ্রধান ফাত্তাহ আল সিসির মত একনায়ক দ্বারা প্রতিস্থাপন করেছে। এতে গণতন্ত্র ধর্ষিত হলেও উপনিবেশবাদীদের কোন ক্ষতি নেই। মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ স্বৈরশাসক আমেরিকা ব্রিটেনের প্রত্যক্ষ মদদে পরিচালিত হয়। গণতন্ত্র রপ্তানি করতে আমেরিকা ইরাক আফগানিস্তানকে চরদখলের মত জবরদখল করলেও মধ্যপ্রাচ্যের স্বৈরশাসকদের নিয়ে তাদের কোন সংকোচ বোধ বা অ্যালার্জি নেই। এ থেকে বুঝা যায়, মুসলিম বিশ্বে গণতন্ত্র নিয়ে আমেরিকা ব্রিটেন যতটা না চিন্তিত, তার চেয়ে বেশী চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন সেসব দেশে যে কোন প্রকারে নব্য উপনিবেশবাদ বজায় রাখার ক্ষেত্রে। কারণ নব্য উপনিবেশবাদের মাধ্যমে ধূর্ততার সাথে পশ্চিমা উপনিবেশবাদীরা মুসলিম বিশ্বের জনগণ ও সম্পদের উপর কর্তৃত্ব, খবরদারি ও আধিপত্য বিস্তার করতে পারে। আর মুসলিম বিশ্বে গণতন্ত্র এক্ষেত্রে একটি মোক্ষম হাতিয়ার।

Friday, November 9, 2018

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও সঠিক ইসলামি ভাবনা


নির্বাচনকে নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আবার সরগরম হয়ে উঠেছে। পশ্চিমাদের অনুকরণে ও প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রনে গড়ে উঠা বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক সংস্কৃতি মানেই হল জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেমের সস্তা বুলি এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক ক্ষমতার লড়াইয়ের হীন মহোৎসব। ইসলামে রাজনীতি বা সিয়াসাহ একটি ফরয বিষয়-যার অর্থ হল জনগনের দেখভাল করা। অপরদিকে পুঁজিবাদে রাজনীতি এর অথনীতিকে ঘিরে আবতিত হয়। সেকারণে পুঁজিবাদে রাজনীতি হল সাধারণ জনগনকে জিম্মী করে অথবা তাদেরকে ধোকা দিয়ে পুঁজিপতি শ্রেণীর পুঁজি বাড়ানোর একটি ঘৃণ্য কৌশল। মুখে উন্নয়ন, জনগনের সেবা ইত্যাদি শ্লোগান থাকলেও, পুঁজিবাদী রাজনীতি হল পুঁজিপতি শাসকশ্রেণীর ভাগ্য পরিবর্তনের মাধ্যম। একারণে বাংলাদেশে সংসদ সদস্যদের অধিকাংশই ব্যবসায়ী। এই ব্যবসায়ীরা তাদের স্বার্থে আইন প্রণয়ন করে। ছলে বলে কৌশলে জনগণের কষ্টার্জিত সম্পদ আইনের মাধ্যমে নিজেদের পকেটে পুড়ে নেয়। একারণে এইসব রাজনীতিবিদ ও এই রাজনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের আশা আম গাছ লাগিয়ে জাম খাওয়ার দিবাস্বপ্ন দেখার মতই অবান্তর।

আর এ ক্ষেত্রে নির্বাচন হল পুঁজিবাদী ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখে শাসকের চেহারা পরিবর্তনের একটি মাধ্যম। নিবাচনের মাধ্যমে কখনওই ব্যবস্থা পরিবর্তন হয় না, বরং নির্বাচন হল একটি ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার প্রক্রিয়া মাত্র। মিডিয়ার মাধ্যমে পশ্চিমা উপনিবেশিকগন তাদের এদেশীয় সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদ এজেন্টদের মাধ্যমে এ নির্বাচনকে জনগণের পছন্দমত শাসকশ্রেণী বেছে নেয়ার সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে প্রচার করে। কিন্তু এসব নির্বাচন এজেন্ট রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে উপনিবেশিক প্রভূদের দরকষাকষির একটি সুগোগ করে দেয়। দরকষাকষির মাধ্যমে একটি রফা হওয়ার পর পছন্দনীয় রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন নামক সাজানো নাটকের মাধ্যমে ক্ষমতায় নিয়ে আসা হয়। এসব নির্বাচনে জনগণকে প্রভাবিক করতে ব্যবহার করা হয় উপনিবেশিক নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাসমূহকে। এ বাস্তবতা প্রতীয়মান হয় যখন বতমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসংখ্যবার সংসদে ও সংসদের বাইরে বলে, ‘২০০১ সালে গ্যাস বিক্রি করতে রাজি হইনি বলে ক্ষমতায় আসতে পারিনি।’ স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যবধি বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা জনগণের আশা আকাঙ্খা পূরণে সম্পূণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। কিছু উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

১. ওয়াল্ড আল্ট্রা ওয়েলথ রিপোট ২০১৭: চীন ভারতের চেয়েও দ্রুতহারে ধনী বাড়ছে বাংলাদেশে (সূত্র: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, দৈনিক যুগান্তর)। 

বাংলাদেশের অতি ধনীদের সম্পদ প্রতিবছর ১৭.৩% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে যা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ মাকিন যুক্তরাষ্ট্রের অতি ধনীদের সম্পদ বৃদ্ধির দ্বিগুনেরও বেশি। এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের অতি ধনীদের সম্পদ বৃদ্ধির চেয়ে বেশি। এর অর্থ হল ধর্মনিরপেক্ষে পুঁজিবাদী রাজনীতি সম্পদকে কেবলমাত্র ধনীদের মধ্যে কুক্ষিগত ও কেন্দ্রীভূত করার একটি কার্যকর ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে, জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে ইত্যাদি প্রচারণা উদ্দেশ্যমূলক পরিসংখ্যানিক ও রাজনৈতিক প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

২. মাথাপিছু ঋণ ৬০ হাজার টাকা (সূত্র: ০৯জুন- ২০১৮, দৈনিক যুগান্তর)। এ সুদের পরিমাণ পদ্মা সেতুর ব্যয়ের দ্বিগুন। 

ধর্মনিরপেক্ষ পুঁজিবাদী রাজনীতি ও বিশ্বব্যাংক আই এম এফ নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি আমাদের সাধারণ জনগনের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির বদলে মাথাপিছু ঋণ ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে। এ ঋণ পরিশোধের জন্য সরকার প্রতিটি বাজেটে জনগণের উপর নিপীড়নমূলক ভ্যাট ও কর বাড়িয়ে চলেছে। অপরদিকে শেভরণ, কনকো ফিলিপস এর মত উপনিবেশিক মাল্টিন্যাশনাল জায়ান্টদের স্বার্থে সরকার গ্যাসের দাম বাড়িয়ে চলেছে এবং সামিট পাওয়ারের মত দেশী বিদেশী লুটেরাদের পকেটে জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ তুলে দিতে বিদ্যুতের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি করে চলেছে।

৩. What makes Dhaka the second worst city to live in? (বসবাসের ক্ষেত্রে কী ঢাকাকে দ্বিতীয় নিকৃষ্টতম নগরীতে পরিণত করল?) (সূত্র:১৭ আগস্ট, ২০১৮, ঢাকা ট্রিবিউন)

ইকোনেমিক ইন্টেলিজেন্স এর রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ সিরিয়ার রাজধানীর দামেস্কের পর বসবাসের জন্য দ্বিতীয় নিকৃষ্ট নগরী ঢাকা। ঢাকা কোন যুদ্ধ বিদ্ধস্ত নগরী নয়। গত ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ পুঁজিবাদী শাসন চলছে এবং এই শাসনের ফলাফল হল এই রিপোর্ট। শুধু এই রিপোট নয়, ঢাকায় বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিক প্রতিনিয়ত হাড়ে হাড়ে টের পায় এই ধর্মনিরপেক্ষ শাসকগোষ্ঠী আমাদের কত জঘন্য একটি নগরী উপহার দিয়েছে। ১৬ মার্চ ২০১৮ তে ঢাকা ট্রিবিউনে প্রকাশিত ইকোনেমিক ইন্টেলিজেন্স এর অন্য এক রিপোর্টে বলা হয়, অন্যান্য দক্ষিণ এশিয়ার নগরীসমূহের মধ্যে ঢাকা সবচেয়ে ব্যয়বহুল নগরী। ব্যয়ের ক্ষেত্রে সবাধিক আর নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিকৃষ্ট-এই হল ধর্মনিরপেক্ষ পুঁজিবাদী শাসনের নিকৃষ্ট উপহার!

৪. Global Innovation Index 2018: Bangladesh ranked least innovative country in Asia (বাংলাদেশ এশিয়ার মধ্যে সবনিম্ন উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন দেশ) (সূত্র: ১৮ সেপ্টেম্বর,২০১৮, ডেইলি স্টার)

ধর্মনিরপেক্ষ পুঁজিবাদী শাসকেরা আমাদেরকে এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও শিক্ষাব্যবস্থা উপহার দিয়েছে যা মানুষের সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে অন্তরায়। জাতি হিসেবে আমরা পরিশ্রমী ও মেধাবী হওয়া সত্বেও শাসকশ্রেণীর ভিশন না থাকায় আমাদের দেশ থেকে ক্রমাগত মেধা ও সৃজনশীলতা পাচার হয়ে যাচ্ছে। ক্রিকেট খেলা, রাস্তার সৌন্দযবর্ধন, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের পেছনে হাজার হাজার কোটি টাকা সরকার খরচ করলেও গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির পেছনে সরকারের উল্লেখযোগ্য কোন প্রয়াস দেখা যায় না-যদিও বলা হয় বাজেটের শতকরা ১৫ ভাগ মানবস্পদ উন্নয়নে বরাদ্দ করা হয়।

৫. দেশে বেকারের সংখ্যা ৪ কোটি ৮২ লক্ষ (সূত্র: দৈনিক যুগান্তর, ২০১৮)
ঘরে ঘরে চাকুরী দেয়ার সস্তা শ্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় আসলেও ১৬ কোটি মানুষে মধ্যে দেশে বেকারের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। দ্য ইকোনিমিস্টের মতে বাংলাদেশে স্নাতকদের মধ্যে ৪৭% বেকার। এ করুণ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য কোন সদিচ্ছা বা পরিকল্পনাও এসব অযোগ্য শাসকদের মধ্যে দেখা যায় না।

৬. ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ঢাকা ট্রিবিউন রিপোট, অর্থ মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী দেশে খেলাপী ঋণের পরিমাণ ১৩১৬৬৬ কোটি টাকা। 

এ টাকা সংগ্রহে সরকারের কোন উদ্যোগ নেই। বরং সরকার জনগণের উপর বিভিন্নভাবে কর ও ভ্যাট বৃদ্ধির মাধ্যমে জুলুম চাপিয়ে দিচ্ছে। কিছু দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদকে ব্যাংক থেকে জনগণের অর্থ লুটপাটের পথ সুগম করে দিচ্ছে সরকার। ২০১২ সালে হলমার্ক গ্রুপ কর্তৃক সোনালী ব্যাংকের ৩৬০০ কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনায় এবং বেসিক ব্যাংক কর্তৃক ২০১০-২০১৩ সালে ৫০০০ কোটি টাকা ঋণ প্রতারণার কেলেঙ্কারিতে লজ্জিত না হয়ে এই সরকার এসব লুটেরাদের রক্ষার জন্য ব্যাংকগুলোকে অনৈতিক ভর্তুকি প্রদান করে চলেছে। উপরন্তু, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত চলতি অর্থবছরে (২০১৮-১৯) এই খাতে ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে, যাতে কষ্ট করে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতকারী এসব “সম্মানিত উদ্যোক্তাদের” ঋণ পরিশোধে সহায়তা দেয়া যায়, যা দেশের মানুষের সাথে পরিহাস করারই নামান্তর।

৭. ১২ জানুয়ারী ২০১৮ তারিখে দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত অপর এক রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে ২০১৭ সালে গুমের শিকার হয়েছেন মোট ৮৬ জন-যাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক থেকে শুরু করে ফেসবুকে সরকারবিরোধী পোস্ট শেয়ার করা সাবেক কূটনীতিবিদও রয়েছেন।

এখানে মাত্র ৭ টি উদাহরণ দেয়া হল। এরকম আরও অসংখ্য তথ্য উপাত্তের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ পুঁজিবাদী শাসনব্যবস্থার প্রকৃত বাস্তবতা আমরা উপলদ্ধি করতে পারি।

বাংলাদেশে নির্বাচনের পর নির্বাচন হয়েছে। অথচ কোন নির্বাচনের মাধ্যমে এমন সরকার আসেনি যে জনগণের আশা আকাংখা অনুযায়ী দেশকে শাসন করেছে। আমরা আগেই বলেছি নির্বাচনের মাধ্যমে যেহেতু একটি ব্যবস্থাকে অব্যাহত রাখা হয় সেহেতু এর মাধ্যমে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই বিগত নির্বাচনগুলোর মত আসন্ন নির্বাচনও সুনিশ্চিতভাবে জনগণের জন্য সত্যিকারের পরিবর্তন বয়ে নিয়ে আসবে না। কেননা বিএন পি বা বিএনপি যুক্তফ্রন্ট জোট ইত্যাদি আওয়ামীলীগকে প্রতিস্থাপন করলেও তারা একই ব্যর্থ ধর্মনিরপেক্ষ পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে। এমতাবস্থায় আমাদের মাহী বি চৌধুরীর প্লান বি এর চটকদার কথার ফাঁদে পড়লে চলবে না। বি চৌধুরী, মাহমুদুর রহমান মান্না বা ডক্টর কামালের সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাজনীতির মোহে বিভ্রান্ত হলে চলবে না। কারণ ধর্মনিরপেক্ষ পুঁজিবাদ সবসময়ই কপট, অসাধু ও দূনীতিবাজ শাসক তৈরি করে। আর এ ব্যবস্থা আমাদের মাকিন-ব্রিটিশ-ভারত উপনিবেশিক বলয়ের মধ্যে আবদ্ধ রাখবে; বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এর নিয়ন্ত্রনাধীন অর্থনৈতিক কাঠামোর জুলুমের মধ্যেই বেধে রাখবে। এই ব্যবস্থায় আমাদের বেকার সমস্যার সমাধান করতে পারেনি এবং পারবেও না, এই ব্যবস্থা আমাদের খনিজ সম্পদের উপর উপনিবেশিক বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রন থেকে মুক্ত করতে পারেনি এবং পারবেও না, এই ব্যবস্থা সম্পদের বৈষম্য দূর করতে পারেনি এবং পারবেও না, এই ব্যবস্থায় উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণ সম্ভব হয়নি এবং কখনও সম্ভব হবেও না, এই ব্যবস্থা জনগণের সম্পদ লুটপাট ঠেকাতে পারেনি এবং পারবেও না। ব্যক্তি, দল বা কোন জোটের পরিবর্তনের মাধ্যমে এসব পরিবর্তন আসবে না। বরং এসব ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষ পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে ত্রুটিমুক্ত, পক্ষপাতশূন্য, পূণাঙ্গ ও জবাবদিহীতামূলক ইসলামি খিলাফত ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করতে হবে-যা রহমত ও একমাত্র দ্বীন বা ব্যবস্থা হিসেবে মহাবিশ্বের স্রষ্টা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের জন্য মনোনীত করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন,

‘…আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।..’ (সূরা মায়েদাহ:৩)

মুসলিম হিসেবে আমরা ধর্মনিরপেক্ষতাকে মেনে নিতে পারি না। এটি কাফেরদের জীবনব্যবস্থা পুঁজিবাদের আক্বীদা-যা পুরোপুরি হারাম-যেভাবে একজন মুসলিমের জন্য মদ খাওয়া হারাম, সুদ খাওয়া হারাম, জিনা করা হারাম। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে রাষ্ট্রের মধ্যে সব ধর্মের সমান সুযোগ নয়, বরং এর মানে হল ইসলাম কেবলমাত্র আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে থাকবে এবং জীবনের আর কোন অংশে ইসলাম থাকবে না। অথাৎ আমাদের সামাজিক জীবন, অর্থনীতি, ব্যবসা বাণিজ্য, রাষ্ট্র পরিচালনা, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক জীবন, বিচারকার্য কোথাও ইসলাম থাকবে না। কোথাও ইসলাম থাকবে না মানে হল আল্লাহ’র হুকুম থাকবে না এবং আল্লাহ’র সাবভৌমত্বের বদলে মানুষের সাবভৌমত্ব মেনে নিতে হবে। অথচ কুরআন এবং সুন্নাহতে মানুষের সামগ্রিক জীবন সম্পর্কে স্রষ্টার নিদেশনা ও হুকুম রয়েছে-যা মানা আমাদের জন্য ফরয বা বাধ্যতামূলক। একজন মুসলিমের জন্য ব্যক্তিগত জীবনে আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করা (নামাজ পড়া, রোযা রাখা, হজ্জ করা ইত্যাদি) এবং বাদবাকী জীবনে (সামাজিক জীবন, অথনীতি, ব্যবসা বাণিজ্য, রাষ্ট্র পরিচালনা, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক জীবন, বিচারকার্য ইত্যাদি) মানবরচিত আইন দিয়ে পরিচালনা করা ইসলামে নিষিদ্ধ অথাৎ তার জীবনের সবক্ষেত্রে আল্লাহকে ইলাহ হিসেবে মেনে নিতে হবে। ধর্মনিরপেক্ষতা যেভাবে হারাম সেভাবে তা থেকে উদ্ভুত যে কোন ব্যবস্থা বা সমাধানও (পুজিবাদ, গণতন্ত্র) হারাম। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন,

‘..তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস কর এবং বাকী অংশ অবিশ্বাস কর? যদি এরূপ কর, তবে তোমরা দুনিয়ার জীবনে হবে লাঞ্চিত এবং আখেরাতে তোমাদের জন্য রয়েছে মমন্তুদ শাস্তি..।’ (সূরা বাক্বারা:৮৫) 

কেবলমাত্র ইসলামী খিলাফত ব্যবস্থা তার জনগণের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা প্রত্যেকটি ব্যক্তি পযায়ে গিয়ে নিশ্চিত করবে এবং জিডিপি, জিএনপি, মাথাপিছু আয়ের পরিসংখ্যানিক প্রতারণা দিয়ে মানুষকে ধোঁকা দিবে না। খলিফা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সক্ষম ব্যক্তির কমসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। মাহকামাতুল মাজালিম, মাজলিশ আল উম্মাহ ও ইসলামি রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে শাসকশ্রেণীর জবাবদিহীতা সুনিশ্চিত করা হবে। প্রতিরক্ষা শিল্পকেন্দ্রিক ভারী শিল্প নিভর অথনীতি হওয়ায় ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ইসলামী অথনীতির মূলনীতি হবে, সম্পদ যাতে কেবলমাত্র ধনীদের মধ্যে পরিগ্রহ না করে। ইসলামী অথনীতির সুশীতল ছায়ায় সাধারণ জনগণ ভ্যাট ও আয়করের জুলুম থেকে রক্ষা পাবে ও উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা হবে। তাকওয়া হবে রাষ্ট্রের জ্বালানী। মসজিদের ইমাম সাহেব যেভাবে নামাজে দূনীতি করেন না তেমনিভাবে ইসলামী রাষ্ট্রের ইমামও শাসনকায পরিচালনার ক্ষেত্রে দূনীতি করবেন না। কেননা দু’টোই ইবাদত। গণমালিকানাধীন সম্পত্তি (খনিজ সম্পদ, নদী, চারণভূমি, বিদ্যুৎ ইত্যাদি) রাষ্ট্রীয় তত্তাবধানে প্রয়োজন অনুযায়ী জনগণের জন্যই ব্যয় করা হবে। বর্তমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মত কোন ব্যক্তি বা বহুজাতিক কোম্পানিকে গণমালিকানাধীন সম্পত্তির মালিকানা বা অংশীদার করা হবে না। অন্যান্য ইসলামি ব্যবস্থা বাস্তবায়ন সাপেক্ষে গণমালিকানাধীন বিশাল সম্পদ যখন খিলাফত রাষ্ট্রের তত্তাবধানে জনগণের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী বন্টন করা হবে তখনই জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ হওয়ার পর সাধ্যমত বিলাসপণ্যের চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হবে। আর তখনই খলিফা উমর বিন আবদুল আজিজ এর সময়ের মত এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে যখন যাকাত নেয়ার মত লোক খুঁজে পাওয়া হবে বিরল ইন শা আল্লাহ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন,

‘আর জনপদের অধিবাসীরা যদি ঈমান আনত ও তাক্বওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি আসমান ও জমীনের সব নেয়ামত উজাড় করে দিতাম।…’ (সূরা আল আ’রাফ:৯৬)

খিলাফত রাষ্ট্র আমাদের অবশ্যই অথনৈতিক সমৃদ্ধি এনে দিবে। তবে কেবলমাত্র এই অথনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা কাজ করব না। বরং কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা এ সাহাবার শক্তিশালী ও প্রামাণিক দলিল রয়েছে যা সাব্যস্ত করে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা একটি গুরুত্বপূণ ফরয। এটি উম্মুল ফারায়েজ তথা সকল ফরযের মা, অর্থাৎ এটি সবচেয়ে মৌলিক ফরয। কারণ খিলাফত প্রতিষ্ঠা না করলে ইসলামের অনেক ফরজ হুকুম অবাস্তবায়িত থেকে যায়। যেমন: সব ইসলামী ব্যবস্থা বাস্তবায়ন, হুদুদ বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রীয়ভাবে জিহাদ ঘোষণা করা ইত্যাদি। তাই আমাদের প্রতিটি মুসলিমের কালবিলম্ব না করে খিলাফত প্রতিষ্ঠার বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামে অবতীণ হতে হবে। কারণ বতমান ধর্মনিরপেক্ষ পুজিবাদী শাসনব্যবস্থার নিরাপত্তাহীন, অপমানজনক ও জুলুমের অবস্থা থেকে ইসলামী খিলাফত ব্যবস্থার নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও সম্মানের জীবনে উত্তরণের জন্য যারপরনাই প্রচেষ্টা ও ত্যাগের বিকল্প নেই। আল্লাহু সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন,

‘আমি ততক্ষণ পযন্ত কোন জাতির ভাগ্যের পরিবতন করি না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের পরিবতনে সচেষ্ট হয়…।’ (সূরা রা’দ:১১)

‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, তাদের আল্লাহ ওয়াদা দিচ্ছেন যে, তিনি পৃথিবীতে তাদের শাসন কতৃত্ব দান করবেন, যেভাবে তিনি দান করেছিলেন পূববতীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের দ্বীনকে যাকে তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ভীতির পরিবতে নিরাপত্তা প্রদান করবেন…।’ (সূরা নূর:৫৫)