Wednesday, January 20, 2016

“(পুঁজিবাদী ব্যবস্থায়) শিক্ষা ধংসের চাবিকাঠি”

শিক্ষা উন্নয়নের পূর্বশর্ত- এই কথাটি আমাদের সমাজে খুবই প্রচলিত একটি বাক্য। ছোটকাল থেকেই এটা শুনে-বুঝেই বড় হচ্ছে নতুন প্রজন্ম। এরূপ আরও অনেক মন্ত্র মুখস্থ করতে বড় হওয়া শিশুরা জীবনে উন্নয়ন ঘটাতে দৌড়ঝাঁপ-প্রতিযোগিতা শুরু করেন। শিশু অবস্থায় তাদের ওজনের তুলনায় ব্যাগের ওজন বেশি থাকে আর বড় হলে তাদের জ্ঞানের তুলনায় টাকার ওজন বেশি হয়ে যায়।

প্রতিযোগিতামূলক এই ব্যবস্থাতে শিশু অবস্থায় স্কুলে ভর্তির দৌড়ঝাঁপ এস.এস.সির গণ্ডি পেরুনোর পরও থামেনা কলেজে ভর্তির জন্য এবং এরপর ভার্সিটির ভর্তি তো আছে। লক্ষ্য একটাই, কিছু একটা করা; জীবনে উন্নতি সাধন।

শেয়ার বাজারে শেয়ারের দাম নিম্নগতিতে হলেও উর্ধগতিতে বেড়ে চলেছে এসকল প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ফি। একদিকে শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত স্থানের ব্যবস্থা করা হয়না বেসরকারি কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার উদ্দেশ্যে এবং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের থেকে কচলিয়ে টাকা আদায় করা হয়। আর এখানেই উন্নয়নের স্বপ্ন ভেঙ্গে যায় অনেকের আর কঠিন এক হতাশা তাকে গ্রাস করে নেয়। আর টাকার দড়িতে ফাঁসিতে ঝুলে যায় বাংলাদেশ নেভি কলেজের মুন অথবা ঢাকা কলেজের শিমুলের মত অনেকেই। (জানুয়ারী ১ এবং ২, ২০১৬)

ধান মাড়ানোর মেশিনের তুলনাধীন এই শিক্ষাজীবন থেকে যারা বেড়িয়ে আসতে সক্ষম হয় তাদের জন্য এই ব্যবস্থা প্রস্তুত রেখেছে বেকারের জীবন। জীবনে উন্নয়নের জন্য বস্তাভর্তি ডিগ্রি অপেক্ষা যখন মোটা অংকের টাকার হিসাব অধিক সহজ এবং শক্তিশালী, তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদালয়ের সুক্তির কাছেও আত্মহত্যায় অধিক যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে। (২৯শে ডিসেম্বর, ২০১৫) 

পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শিক্ষা বর্তমান প্রজন্মের উন্নয়ন নয়, বরং আত্মহত্যার চাবিকাঠিতে পরিণত হয়েছে। মুন, সুক্তি বা শিমুল ছাড়াও অহরহ প্রতিনিয়তই শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করছে। কারণ পুঁজিবাদী চিন্তাধারা আমাদের চিন্তাকে করে রেখেছে বিষাক্ত। শিক্ষার উদ্দেশ্য হিসেবে আমাদের শেখানো হচ্ছে একটি ভালো চাকরি, কারিকারি টাকা, গাড়ি-বাড়ি ইত্যাদি... যেকারণে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে এগুলোকে নির্ধারণ করে যখন কেউ আগাচ্ছে, তা অর্জন করতে না পেরে হতাশাগ্রস্থ এক জীবনের সম্মুখীন হয়ে আত্মহত্যা করছে।

সমাধানঃ
শিক্ষা হচ্ছে সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি জাতির অন্তরে তাদের নিজ সংস্কৃতির বীজ বপন করা হয়। খিলাফত রাষ্টড়ব্যব্বস্থায় শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো ইসলামী আক্বীদাকে উম্মাহ’র অন্তরে প্রোথিতকরণ এবং এর মাধ্যমে প্রজন্মের সঠিক চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব গঠন। এবং শিক্ষার নিশ্চিতকরণের দায়িত্বে থাকবে রাষ্ট্র নিজের। খিলাফত হতাশাজনিত প্রজন্ম উপহার দেয়না, বরং সত্যিকার অর্থে দুনিয়ার আলোবহনকারীদের জন্ম দেয়। ইমাম শাফী এর মত আইনশাস্ত্রবিদ, আল রাযী এর চিকিৎসাবিদ, আল খোয়ারিজমী-এর মত গণিতবিদ(বীজগণিতের জনক) উওহার দেয়। খিলাফতের শিক্ষাব্যবস্থা উপহার দেয় আবু হানিফা এর মত অর্থনীতি ও সমাজবিদ, আল মাসূদীর মতো ভূগোলবিদ এবং জাফর আস-সাদিকের মতো প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ। ইতিহাসের পাতায় পাতায় খিলাফতের শিক্ষাব্যবস্থার আদলে গড়ে ওঠা এইসকল মুসলিম বিজ্ঞানীদের নাম বারবারই উঠে আসে এবং তাদের কাজসমূহ আজও বিশ্বকে আলো দেখিয়ে চলেছে।


আর এভাবেই খিলাফত মুনাফা বা অর্থকে কেন্দ্র করে নয়, বরং আল্লাহ’র সন্তুষ্টিকে কেন্দ্র করেই তার শিক্ষাব্যবস্থাকে সাজাবে এবং অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসবে এই উম্মাহকে, ইন-শা-আল্লাহ। 

“যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদেরকে বহু মর্যাদায় উন্নত করবেন”। (সুরা মুজাদিলা- ১১)

Saturday, January 2, 2016

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্নতা সরকারের কোন সাফল্য নয়

শীতকালে প্রচুর সবজি বাজারে দেখা যাওয়া কিংবা রাশিয়াতে উদ্ধৃত আলু রপ্তানি করা দেখে আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় এর পেছনে সরকারের নীতিগত কোন অবদান রয়েছে। সরকারের দশ টাকায় কৃষকের ব্যাংক একাউন্ট খোলা বা সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তি কিংবা বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিকে এই উৎপাদনশীলতার কারন হিসেবে বিবেচনা করলে ভুল হবে। কারন যেখানে বাংলাদেশের প্রান্তিক কৃষকের নুন আনতে পান্তা ফুরায় সেখানে তাদের উপর “অনিশ্চিত মুনাফার” (যা কিনা নুন কিনতেই ফুরিয়ে যায়) বিনিময়ে ঋণের বোঝা চাপানো হচ্ছে। ২০১৪-২০১৫ সালে বাজেটের ২.১ % বরাদ্ধ রাখা হয়েছে কৃষিতে অপরদিকে জনপ্রশাসন ও জননিরাপওার জন্য বরাদ্ধ প্রায় ৩৫% । যেখানে দেশের ৮০% ভুমি কৃষিতে ব্যবহারযোগ্য সেখানে এইরূপ পরিকল্পনা মূলত কৃষিতে সরকারের উদাসীনতাই প্রমান করে ।২০০৫ সালের দিকেও এদেশের ৮০ভাগ শ্রমজীবী মানুষ কৃষির উপর নির্ভর ছিল অথচ ২০১০ সালে এসে তা দাড়িয়েছে ৪০ ভাগে (সূত্র: উইকিপিডিয়া)। ক্রমাগত প্রবাশীদের পাঠানো অর্থের উপর নির্ভরশীলতা এই হার আরো কমিয়ে আনছে। তারপরেও যথেষ্ট পরিমানে খাদ্যশস্যের যোগান পাওয়ার কারন এই কৃষকদের ঋণের টাকায় উৎপাদন।যেই ঋণের সিংহভাগ যোগানদাতা NGO গুলো। ঋনের সুদের টাকার যোগান দিতেই কৃষকদের পুনরায় ঋণ নিতে হয় ।মুনাফার টাকা ও তাদের সুদ প্রদানেই খরচ হয়ে যায় ।

কৃষিখাতের এই দুরাবস্তা দূর করার একমাত্র উপায় হচ্ছে কৃষকদের আবার কৃষিজমিতে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। তাদের জন্য অনুদান ও সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করা, খাস জমি ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বন্টন, অব্যবহত জমি পুর্নবন্টন, বীজ সার ও সেচের সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরন, পেটেন্ট বা অধিসত্ব নামক পুজিবাদী ধারনা হতে কৃষি ও কৃষিজাত অন্যান্য পন্যদ্রব্যকে মুক্ত করা।

বিদেশী অধিক ফলনশীল বীজের নামে ব্যবহত হওয়া ক্ষতিকারক বীজের ব্যবহার বন্ধ করা। অধিক উৎপাদনক্ষমতা ও কৃষিজমির জন্য উপকারী বীজের ব্যবহার সুনিশ্চিত করা এবং এসবই সম্ভব এই পুঁজিবাদী অর্থনীতি সমুলে উৎপাটন করে ইসলামী অর্থনীতির প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-

"যে আমার বানী (কুরআন) প্রত্যাখ্যান করবে, তার জীবিকা সংর্কীন হবে এবং আমি তাকে পুনরুথান দিবসে অন্ধভাবে তুলব"। (সুরা : তোয়াহা - ১২৪)

অর্থাৎ আল্লাহ এর মনোনীত রাষ্ট্রব্যবস্থাকে প্রতিষ্টা করার মাধ্যমে রিযিক সম্প্রসারনের ব্যবস্থা করা এই অব্যবস্থা হতে উত্তরণের একমাত্র উপায়। তাই মুসলিম হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের উচিত খিলাফত(ইসলামী রাষ্ট্র ) প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা যা আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনের সাফ্যলের নিশ্চয়তা বহন করে।

-ফয়েজ আহমদ