Thursday, December 31, 2015

খাদেমুল আমেরিকার নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর তথাকথিত ইসলামিক জোট- পশ্চিমা কুফর শক্তির ঘৃণ্য চক্রান্তের সর্বশেষ দৃষ্টান্ত

বাস্তবতা:
গত মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর, ২০১৫) সৌদি আরব ৩৪টি মুসলিম দেশের সমন্বয়ে ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, মিশর, আফগানিস্তান ও অন্যান্য মুসলিম দেশে তথাকথিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য একটি সামরিক জোটের ঘোষণা দেয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায় এবং বলে যে, বাংলাদেশ এই জোটে অংশগ্রহনের জন্য আন্তরিকভাবে সম্মত হয়েছে কারণ এটা ‘সহিংস উগ্রবাদের’ বিরুদ্ধে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, অন্যকথায়, ইসলামের বিরুদ্ধে যালিম হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। 

কারণ:
মার্কিন নেতৃত্বাধীন  ক্রুসেডার পশ্চিমারা শক্তিশালী খিলাফত রাষ্ট্রের দাবিতে নিষ্ঠাবান মুসলিমদের বিশ্বব্যাপী আন্দোলনে অংশগ্রহণকে ঠেকাতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে যা সিরিয়াতে তীব্ররূপ ধারন করেছে। সকল বিকল্প ব্যবহার শেষে, অবশেষে ক্লান্ত হয়ে ঘৃণ্য মার্কিনীরা এখন শুধু সিরিয়াতেই নয় প্রয়োজনে মুসলিম বিশ্বের যেকোন প্রান্তে সত্যনিষ্ঠ মুসলিমদের জাগরণকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে মুসলিম সেনাবাহিনীর গভীরতর অংশগ্রহণ চাচ্ছে, এবং তাই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে এই ধরনের সামরিক জোটের উত্থান দেখা যাচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব এশ কার্টার মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে আরও সমর্থন জোগানোর জন্য তার আঞ্চলিক সফরের অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার তুরষ্কে ইনকিরলিক বিমানঘাটিতে পৌছানোর পর তৎক্ষণাৎ এই জোট ঘটেেনর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে: “এই জোটকে হুবুহু আমাদের নীতির সাথে এক মনে হচ্ছে, যা আমরা বেশকিছুদিন যাবৎ আকাঙ্খা করছিলাম, যা আইএসআইএল-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সুন্নী আরব দেশগুলো কর্তৃক অভিযানে বড় অবদান রাখবে।” 


সচেতন উম্মাহ’র যা জানা উচিত:
  •  উম্মাহ্’কে পেছন দিক থেকে ছুরিকাঘাত করতে সৌদি রাজতন্ত্র সবসময় কেন্দ্রীয় ভুমিকা পালন করে আসছে, পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের সাথে চক্রান্তের মাধ্যমে খিলাফত রাষ্ট্র ধ্বংসের মাধ্যমে যার যাত্রা শুধু হয়। এবং এখন ২য় খিলাফতে রাশেদাহ্’র প্রত্যাবর্তন যখন আসন্ন, তখন কৃত্রিমভাবে গঠিত মুসলিম জাতি-রাষ্ট্রসমূহের বিশ্বাসঘাতক শাসকেরা খিলাফতের জন্য উম্মাহ্’র আকাঙ্খা ও সংগ্রামের উপর চরম ক্ষতি সাধনের লক্ষ্যে স্বঘোষিত ‘খাদেমুল হারামাইন’(!)-এর নেতৃত্বের অধীনে একত্রিত হয়েছে।
     
  •  যখন পশ্চিমাদের জারজ সন্তান ইসরাইল অর্ধশতকেরও বেশী সময় ধরে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের রক্তপাত ঘটাচ্ছে, আমাদের প্রথম কিবলা আল আকসাকে অপবিত্র করছে, তখন মুসলিম শাসকেরা তাদের সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে বন্দী করে রেখেছে- যদিও সংখ্যা ও সাহসিকতায় ইয়াহুদীদেরকে তারা অনেক আগেই অতিক্রম করেছে। যখন মূর্তিপূজারী হিন্দুরা মুসলিমদেরকে কসাইয়ের মত হত্যা করেছে এবং উম্মাহ’র সম্মানিত মুসলিম নারীদের অসম্মান করেছে তখন শাসকেরা মুহম্মদ বিন কাসিমের উত্তরসুরি মুসলিম সেনাবাহিনীকে প্রেরণ করেনি। যখন মায়ানমারের বৌদ্ধ মুশরেকরা হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা করেছে, তাঁদের দেহগুলোকে পুড়িয়ে দিয়েছে মুসলিম শাসকেরা তখন খালিদ বিন ওয়ালিদের উত্তরসুরি মুসলিম সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করেনি। যখন মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের মুসলিমদের পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছিল ও তাদেরকে বাস্তুচ্যুত করা হচ্ছিল তখন মুসলিম শাসকেরা মুসলিম সেনাবাহিনীকে সেখানে প্রেরণ করেনি। যখন আমেরিকা ও পশ্চিমা ক্রুসেডাররা আফগানিস্তান ও ইরাককে দখল করল এবং মুসলিমদের রক্তের বন্যা বইয়ে দিল তখন মুসলিমদের রক্ষায় শাসকেরা সাইয়্যুদনা সুহাদা(শহীদদের সর্দার) হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিবের উত্তরসুরী মুসলিম সেনাবাহিনীকে প্রেরণ করেনি, বরং তারা যথাসম্ভব ক্রুসেডারদের সহায়তা করেছে।
  • যখন নির্যাতিত মুসলিমদের প্রয়োজনে ও জালিম কাফিরদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী প্রেরণ করার শারী'য়াহগত দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছিল তখন জালিম শাসকগণ নিজস্ব দূর্বলতা ও উপনিবেশিকদের বেঁধে দেয়া সীমান্তের পবিত্রতা লঙ্ঘিত হওয়ার অজুহাত দাঁড় করিয়েছে। কিন্তু আজকে তাদের সত্যিকারের প্রভূ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমারা যখন ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছে তখন দূর্বলতা ও ‘পবিত্র’ সীমান্তের অজুহাতকে অতিক্রম করে তারা সাড়া দিয়েছে।
  •  আমাদের মনে রাখতে হবে খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ (সা) এর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, ‘...আবার আসবে নবুয়্যতের আদলের খিলাফত।’ (মুসনাদে আহমদ)

    পুরো পৃথিবী এক হয়েও প্রতিশ্রুত খিলাফত ফিরে আসাকে রুখতে পারবে না। কারণ ইতিহাস স্বাক্ষী জালিম ফিরাউন মুসা (আ)এর উত্থানকে প্রতিহত করতে কোন প্রচেষ্টাই বাদ রাখেনি। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁর ইচ্ছা বাস্তবায়নে ছিলেন সবচেয়ে উত্তম কৌশলী। আল্লাহ(সুওতা) বলেন, ‘যাদেরকে(বনী ইসরাইলকে) দূর্বল করে রাখা হয়েছিল, আমার ইচছা হল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করার, তাদেরকে নেতা করার এবং তাদেরকে উত্তরাধিকারী করার। এবং তাদেরকে ক্ষমতায় আসীন করার এবং ফেরাউন, হামান ও তাদের সৈন্য-বাহিনীকে তা দেখিয়ে দেয়ার, যা তারা সেই দূর্বল দলের তরফ থেকে আশংকা করত।’ (সূরা কাসাস:৫-৬)
  • মুসলিম উম্মাহ ও এর সেনাবাহিনীকে অবশ্যই এসব জালিম বিশ্বাসঘাতক শাসকদের সহযোগী ও সমর্থনকারী হওয়া যাবে না এবং তাদের প্রত্যাখান করতে হবে । মুসলিম সেনাবাহিনীকে অনতিবিলম্বে খিলাফত প্রতিষ্ঠায় অগ্রসর হতে হবে এবং সেই অতুলনীয় আল্লাহ’র সন্তুষ্টির দিকে ধাবিত হতে হবে যা তাদের আগে কেবলমাত্র মদীনার আনসারগন অর্জন করার সৌভাগ্য লাভ করেছিল। আল্লাহ(সুওতা) বলেন, 
‘হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, আল্লাহ্ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা দৃঢ়প্রতিষ্ঠ করবেন।’(সূরা মুহম্মদ:৭) 

- রাফীম আহমেদ

Friday, December 11, 2015

জনসংখ্যার আধিক্য: আশির্বাদ নাকি অভিশাপ!

মা হওয়ার প্রতি উদ্ধুদ্ধ করার জন্য গোটা একদিন ছুটি ধার্য করেছে সরকার। সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থা বিজ্ঞাপন দিয়ে দেশের দম্পতিদের গর্ভধারন করার জন্য আবেদন জানানো হচ্ছে। যেই ভাবে শিশু জন্ম হার কমছে তা ক্রমশ নিন্ম হতে নিন্মগামী হচ্ছে। যা যথেষ্ট চিন্তার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে সে দেশের সরকারের। দম্পতিদের যৌন সংসর্গ স্থাপনের জন্য বাড়তি ছুটির দিন ধার্য করা হয়েছে। এমনকি বিজ্ঞাপন দিয়ে বলা হচ্ছে “ডু ইট ফর মম, ডু ইট ফর কান্ট্রি”। উপরের তথ্যগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে ডেনমার্ক সম্পর্কে।

আবার, ডেনমার্কের মতই সন্তান জন্ম দানের জন্য মা-বাবাদের উদ্ধুদ্ধ করতে ২০০৭ সাল হতে ২০১২ সালকে জাতীয় গর্ভধারন দিবস হিসেবে ঘোষনা করেছে রাশিয়া সরকার। এমনকি সন্তান জন্ম গ্রহণে পুরষ্কার ও ঘোষনা করেছে রুশ সরকার।

উপরের দৃশ্যের মত দৃশ্য দেখা যায় উন্নত বিশের দেশ জার্মানী, সুইজারলেন্ড, জাপান এবং পূর্ব ইউরোপের কিছু রাষ্ট্র। যারা সবচেয়ে বড় সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা হলো-জনসংখ্যার বৃদ্ধির হারের নিন্মগতি।

উপরের দৃশ্যপটের ঠিক উল্টো দৃশ্য দেখা যায় বিপুল জনসংখ্যার ভারে নাভিশাস উঠা বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনিশিয়া, পাকিস্তান এর মত দেশ গুলোর। বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৯৭১ সালে ছিল ৭ কোটি, তা এখন এসে দাড়িয়েছে প্রায় ১৬ কোটিতে। ভারতে বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৩০ কোটির বেশী। 

আমাদের জ্ঞানীগুনী ও বিশিষ্ট চিন্তাবিদের মতে আমাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অন্যান্য সার্বিক সমস্যার মূল কারণ হল-অধিক জনসংখ্যা। তাই তাদের প্রধান পরামর্শ হল- একটি সন্তান জন্মদান। এটি বাস্তবায়নের জন্য তাদের সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করে জনসংখ্যা কম সমস্যা নিয়ে ভোগা উন্নত (!) দেশ সমূহের বিভিন্ন NGO সংস্থা। এই ছাড়াও বেশি জনসংখ্যা বিশিষ্ট দেশ সমূহে জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার কমানোর জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা ও সামাজিক আন্দোলন, জন্ম বিরতিকরন প্রকল্প, পরিবার পরিকল্পনা সহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাষ্ট্র ও সহযোগী NGO সমূহ। কম জনসংখ্যা নিয়ে সমস্যা থাকা রাষ্ট্র সমূহ আবার অধিক জনসংখ্যা নিয়ে থাকা রাষ্ট্র সমূহে জনসংখ্যা কমানোর জন্য সহযোগিতা করছে। 

আমাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক সমস্যার আসল কারণ খুজতে গেলে দেখা যায় জনসংখ্যা নয়, সমস্যা অন্য কোথাও। বাংলাদেশ একটি খাদ্যে স্বয়ংসম্পর্ন দেশ, তার মানে বর্তমানে উৎপাদিত খাদ্যশস্য বাংলাদেশের সকল জনগনের জন্যই যথেষ্ট, পাশাপাশি বিগত দশকগুলোতে জনসংখ্যার অনুপাতে খাদ্য উৎপাদন পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। তবুও বাংলাদেশের ৪০% মানুষ এক বেলা খায় একবেলা উপোস থাকে। কারণ প্রভাবশালী পুঁজিপতি ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারক বাহকরাই এই সকল অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের নিয়ন্ত্রন করে। ফলশ্রুতিতে অর্থনৈতিক সকল কর্মকান্ডে পুঁজিবাদী সমাজের পুজিপতিরা দিনদিন লাভবান ও অর্থশালী হন এবং অধিকাংশ জনগণ তাদের দ্বারা নিষ্পেষিত ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার মুখোমুখি হন। অথচ এই অর্থনৈতিক দুরবস্থার জন্য অধিক জনসংখ্যাকেই দায়ী করা হয়। রাষ্ট্র তার জনগনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পারার দায়ভার অধিক জনসংখ্যার উপর চাপিয়ে দেয়া হয়। এই ছাড়াও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও গণমালিকানাধীন সম্পদ আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক শক্তি লুটে-পুটে নিয়ে যায় এবং দেশের জনগোষ্ঠীকে দূরবস্থার মধ্যে পেলে অধিক জনসংখ্যার দোহাই দেয়।

‌এছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের দিকে একটু মনোনিবেশ করলেই দেখা যায় কোথাও অধিক খাদ্য উৎপাদন হয়, আবার কোথাও প্রচুর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে কিন্তু তা ওই কর্ম করার মত জনবল নেই। আবার জনগোষ্ঠী সমূহকে ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীতে জাতীয়তাবাদী কৃত্রিম বর্ডার দিয়ে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। তাই কোথাও খাদ্যের অভাব নেই কিন্তু খাবার খাওয়ার মানুষ নেই, আবার কোথাও কর্মসংস্থান আছে কিন্তু কর্ম করার মানুষ নেই।

এখন পশ্চিমা সমাজের মানুষের প্রধান চাহিদা হল- ঈন্দ্রিয়গত সুখ। তাই তারা অবাধ যৌনাচারে লিপ্ত এবং যৌন চাহিদাকে সন্তান জন্ম দানের মাধ্যম মনে না করে শুধুমাত্র পুর্তির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা তাদের সুখের জন্যে অধিক অর্থের পিছনে ছোটে এবং যত প্রকার ঈন্দ্রিয়গত সুখ রয়েছে তার সবটুকু তারা ভোগ করতে চায়। তাই তারা সুদীর্ঘ সময় সন্তান জন্মদানের যে আকাঙ্খা তা হতে দূরে থাকে এবং বর্তমানে সন্তান জন্মদানের জন্য তাদেরকে বিজ্ঞাপন দিতে হচ্ছে।

তাই বলা যায় যে, জনসংখ্যা সমস্যা নয় বরং আশির্বাদ এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এর রহমত সরূপ, যারা আল্লাহর সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ভূমিকে উর্বর করে। রাষ্ট্র তার জনগণকে সঠিকভাবে ব্যবহার করবে এবং সঠিকভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগোষ্ঠীকে সম্পদে পরিনত করতে পারে। পৃথিবীতে জেলখানার মত জাতীয়তাবাদী বর্ডার দিয়ে আটকে রাখা জনগণকে অবাধ বিচরনের মাধ্যমে যেখানে প্রচুর কর্মসংস্থান রয়েছে সেখানে পৌছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এ বাস্তবতা তখনই তৈরি হবে যখন এই জাতীয়তাবাদী চিন্তায় আটকে রাখা বর্ডারকে ভেঙ্গে দেয়া হবে। মুসলিম উম্মাহকে এক জাতি হিসেবে মেনে নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন ভূমিতে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক সমাজ হতে বের হওয়ার মাধ্যমেই এই উদ্যোগগুলো নেয়া সম্ভব।

সকল প্রাণীকূলের রিজকের দায়িত্ব যেহেতু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা নিয়ে নিয়েছেন তাই অধিক জনসংখ্যায় রিজকের সমস্যাও হবেনা এবং এটাই একজন মুসলিমের বিশ্বাস।

যেখানে রাসূল (সা) বলেন,
“তোমরা উর্বর নারীদেরকে বিয়ে কর (যেন তারা অধিক সন্তান জন্ম দিতে পারে)।

তিনি (সা) বলেন,
“হাশরের ময়দানে আমি আমার উম্মতের আধিক্য নিয়ে অন্য উম্মতের সাথে গর্ব করব”।

অর্থনৈতিক, সামাজিক যেরকম সমস্যাই হোক না কেন যার মূলে তারা অধিক জনসংখ্যাকে দায়ী করে, এই সকল সমস্যার সমাধান পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সমাধান করতে পারবেনা বরং দিন দিন আরোও সমস্যা বৃদ্ধি করবে যা আমরা পশ্চিমা বিশ্ব এর দিকে তাকালেই বুঝতে পারি। সকল সমস্যার সমাধান একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা মনোনিত ব্যবস্থা খিলাফতই দিতে পারে। এবং যা শীঘ্রই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তার মুমিনদের দান করবেন, ইনশাআল্লাহ।

-আবদুস সামাদ