Monday, February 9, 2015

পুঁজিবাদি গণতান্ত্রিক আদর্শের উনুনে ঝলসানো এক দেশ আজ বাংলাদেশ

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের ডাকা হরতালের কারণে গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারীর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। এর আগে গত রোববারের (২রা ফেব্রুয়ারী) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও একই কারণে পেছানো হয়েছিল।

পরীক্ষা পেছানোর কথা জানিয়ে গত রোববারই শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, পরীক্ষার দিন হরতাল থাকলে তা পরিবর্তন করা হবে। হরতালের কারণে পরীক্ষা পেছানো নতুন কোনো ঘটনা নয়। আমরা ১৯৯৬ সালেও দেখেছি আওয়ামীলীগের ডাকা হরতালের কারণে ৩ মাস এস. এস. সি পরীক্ষা পেছানো হয়েছিল। সরকারের হরতাল পেছানোর উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নয়, বরং ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার নিমিত্তে বিরোধী দলের প্রতি জনগণের আক্রোশ বৃদ্ধিই তার লক্ষ্য। সরকার যদি জনগণের নিরাপত্তার কথাই চিন্তা করতো তবে অফিস আদালত বন্ধ রাখতো, গার্মেন্টস আর মিল কারখানাগুলো বন্ধ রাখতো।

আজ দিনের আলোর মতো পরিস্কার যে, বিএনপির আন্দোলন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আর আওয়ামীলীগের আন্দোলন প্রতিরোধ শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। একদিকে বিএনপি জনগণের জান মালের নিরাপত্তার কথা তোয়াক্কা করছে না অন্যদিকে আওয়ামীলীগ তাদের দলীয় স্বার্থে জনগণের পরিশ্রমের টাকা পুরস্কার স্বরূপ দান করছে।

এ অবস্থার জন্য শুধুমাত্র বি এন পি বা আওয়ামীলীগ দায়ী নয়, বরং এই শাসন ব্যবস্থাই দায়ী যা শাসকবর্গকে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী করে দেয়। আজকের এই অবস্থার জন্য একমাত্র গণতন্ত্রই দায়ী যেখানে শাসকবর্গকে জবাবদিহিতার সম্মুখীন করার কোনো ব্যবস্থা নাই। এই দুরাবস্থার জন্য শুধুমাত্র এই শাসন ব্যবস্থাই দায়ী যে শাসন ব্যবস্থা ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্য কয়েকশ ক্ষমতাপিপাসু ও দূর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদদের হাতে ছেড়ে দেয়।

এই শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন আজ সময়ের দাবী, এই শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন আজ পুড়ে মরে যাওয়া মানুষদের স্বজনদের দাবী, এই শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন আজ বার্ণ ইউনিটে ঝলসে যাওয়া রোগীদের দাবী, এই শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন আজ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের যাতাকলে পিষ্ট প্রতিটি জনগনের দাবী, এই শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন আমাদের আক্বীদাহ ও ঈমানের দাবী। তাই এখনই আমাদের এই পুঁজিবাদী গণতন্ত্রকে উপড়ে ফেলে দিয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা প্রদত্ত জীবনব্যবস্থা তথা খিলাফত পূনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যোগ দিতে হবে। তা না হলে আমাদের উপর শুধু জালিমের জুলুমই নেমে আসবে না বরং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার আযাব ছেয়ে পড়বে। আবু দাউদ শরীফে রাসূল (সা) বলেন, “যারা কোনো অত্যাচার হতে দেখেও অত্যাচারকারীর হাত ধরে তাকে বিরত না রাখবে, তখন আল্লাহ তাদের সকলকে শাস্তি দিয়ে ছেয়ে ফেলবেন।”

মিরাজুল হক

Sunday, February 8, 2015

সুবিধাভোগী রাজনীতির বৃত্তে আবদ্ধ বাংলাদেশ এবং ভুক্তভোগী আমজনতা

বাংলাদেশে এই মুহুর্তে একটি রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ২০১৫ সালের প্রথম থেকেই দুইটি বিবাদমান পক্ষের ক্ষমতার চেয়ারে যাওয়ার দ্বন্দের মাঝখানে পরে অবরোধ – হরতালে, পেট্রোল বোমায়, সংঘর্ষে, পুলিশী নির্যাতনে অসংখ্য মানুষ আহত-নিহত হয়েছে, অনেকেই নিঃস্ব হয়ে গেছে, সর্বোপরি পুরো দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পরেছে। এ যেন এক অঘোষিত যুদ্ধের মাঝে পরে গেছে বাংলাদেশ।

চলমান বাস্তবতার দিকে কেউ এক পলক তাকালে যে কারো কাছেই একটি বিষয় প্রকট ভাবে চোখে পরবে, তা হলো, এই যে মারামারি –হানাহানি, সংঘর্ষ এতে কিন্ত দেশের ঐই সব রাজনীতিবিদ যারা ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য বা মসনদে বসার জন্য বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে উসকানি দিচ্ছে, কিংবা টক শো তে বিভিন্ন মতামত দিয়ে গলা ফাটিয়ে ফেলছে অথবা পত্রিকায় কলাম লিখে পাতা ভরিয়ে ফেলছে ইত্যাদি সহ বুদ্ধিজীবি, সুশীল সমাজ বলে পরিচিত একটি বিশেষ শ্রেনীর মানুষের কোনো সমস্যায় হচ্ছে না, এই দ্বন্দের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শুধুমাত্র সাধারন আমজনতার। এরই ফলে আমরা দেখি, ও লেভেল পরীক্ষা আসলে হরতাল, অবরোধ ইত্যাদিসহ আন্দোলন শিথিল করা হয়, কারন সমাজের এই বিশেষ শ্রেনীর ছেলেমেয়েরা ত ইংলিশ মিডিয়ামেই পরে!!!!! অপরদিকে, এস এস সি বা এইচ এস সি পরীক্ষার মধ্যেও হরতাল চলে, কারন আমজনতার সন্তানরাই ত এই পরীক্ষা দেয়। এথেকে স্পষ্ট হয়ে যায় বাংলাদেশের সমাজ আজ দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে যার একদিকে আছে আমজনতা এবং অপর দিকে আছে এই তথাকথিত রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবি সহ সুশীল সমাজ যাদের কাছে আমজনতার প্রাণের কোনো মুল্য নেই।

এই দ্বিধাবিভক্ত সমাজের মুলে আছে মানব-রচিত এই গণতান্ত্রিক শাসন-ব্যবস্থা, যা দাবী করে যে এটা সকল মানুষের সমানাধিকার সংরক্ষন করে কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এই গণতন্ত্র, সমাজের বিশেষ কিছু মানুষের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয় যারা একে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমত আইন বানিয়ে এর সুফল ভোগ করে আর ভুক্তভোগী হয় আমজনতা। মানুষ যখন এইভাবে আল্লাহ প্রদত্ত ব্যবস্থাকে পরিত্যাগ করে নিজের খেয়াল খুশীর অনুসরন করে তখন এই ধরনের কষ্টকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন,

“যে আমার স্মরন থেকে বিমুখ হবে তার জীবনকে আমি কষ্টের জীবনে পরিনত করব।’’ [২০; ১২৪]

কুরআনে বর্ণিত এই কষ্টের জীবনই কি আমরা যাপন করছি না!! আমরা এমন এক শাসক গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছি যারা আল্লাহ প্রদত্ত ব্যবস্থাকে এড়িয়ে গিয়ে নিজেদের খেয়াল-খুশীর অনুসরন করে আমাদের শাসন করছে এবং যার ফলে সমাজে ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।

তাই আসুন, আমরা এই মানব-রচিত গনতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এবং যারা এর মসনদে বসে আছে তাদের ছুড়ে ফেলি এবং সেনাবাহিনীসহ দেশের প্রভাবশালী মানুষের কাছে আহ্বান তুলি তারা যেন এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং এই সব দালাল শাসকদের উচ্ছেদ করে খিলাফত রাষ্ট্র কায়েম করার জন্য যোগ্য নেতৃত্বের হাতে অতি শীঘ্রই ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

মুনতাসির রাজিব

Sunday, February 1, 2015

প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহ্’কে ভয় করা

অধ্যায় ৫: প্রকাশ্যে এবং গোপনে আল্লাহ্’কে ভয় করা
 
আল্লাহ্’কে ভয় করা ফরয এবং যার দলিল হচ্ছে কুর’আন এবং সুন্নাহ্। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা পবিত্র কু’রআনে বলেন:

وَإِيَّايَ فَاتَّقُونِ

একমাত্র আমাকেই ভয় কর। ” [সূরা আল-বাক্বারা :৪১]

وَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ

আমি ছাড়া কাউকে ভয় করো না। ” [সূরা আল-বাক্বারা: ৪০]

إِنَّمَا ذَلِكُمُ الشَّيْطَانُ يُخَوِّفُ أَوْلِيَاءَهُ فَلَا تَخَافُوهُمْ وَخَافُونِ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ

নিশ্চয়ই শয়তান শুধুমাত্র তার বন্ধুগণ হতে তোমাদেরকে ভয় প্রদর্শন করে; কিন্তু যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তবে তাদেরকে ভয় করো না এবং আমাকেই ভয় করো। ” [সূরা আলি ইমরান: ১৭৫]

وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর (শাস্তি) সমপর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন। ” [সূরা আলি ইমরান: ২৮]

فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ

অতএব তাদেরকে ভয় করো না বরং আমাকে ভয় করো। ” [সূরা আল-মা’য়িদাহ্: ৩]

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ

হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো। ” [সূরা আন-নিসা: ১]

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ

যারা ঈমানদার, তারা এমন যে, যখন আল্লাহ্’র নাম নেয়া হয় তখন তাদের অন্তর ভীত হয়ে পড়ে। ” [সূরা আল-আনফাল: ২]

وَكَذَلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرَى وَهِيَ ظَالِمَةٌ إِنَّ أَخْذَهُ أَلِيمٌ شَدِيدٌ ، إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَةً لِمَنْ خَافَ عَذَابَ الْآَخِرَةِ ذَلِكَ يَوْمٌ مَجْمُوعٌ لَهُ النَّاسُ وَذَلِكَ يَوْمٌ مَشْهُودٌ ، وَمَا نُؤَخِّرُهُ إِلَّا لِأَجَلٍ مَعْدُودٍ ، يَوْمَ يَأْتِ لَا تَكَلَّمُ نَفْسٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ فَمِنْهُمْ شَقِيٌّ وَسَعِيدٌ ، فَأَمَّا الَّذِينَ شَقُوا فَفِي النَّارِ لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌ وَشَهِيقٌ

আর তোমার পরওয়ারদেগার যখন কোন পাপপূর্ণ জনপদকে পাকড়াও করেন, তখন এমনিভাবেই করে থাকেন। নিশ্চয়ই তাঁর পাকড়াও অত্যন্ত যন্ত্রনাদায়ক, কঠিন। নিশ্চয়ই ইহার মধ্যে নিদর্শন রয়েছে এমন প্রতিটি ব্যক্তির জন্য যে আখিরাতের আযাবকে ভয় করে। উহা এমন একটি দিন, যেদিন সমস্ত মানব সম্প্রদায়কে একসাথে সমবেত করা হবে, সেদিনটি হলো সকলের হাযিরের দিন। আর আমি ওটা শুধু সামান্য কালের জন্যে বিলম্বিত রেখেছি। যখন সেই দিন আসবে তখন কোন ব্যক্তি আল্লাহ্’র অনুমতি ছাড়া কথাও বলতে পারবে না। অনন্তর তাদের মধ্যে কতক তো দূর্ভাগা হবে এবং কতক হবে ভাগ্যবান। অতএব, যারা দূর্ভাগা হবে তারা তো দোযখে এই অবস্হায় থাকবে যে, তাতে তাদের চীৎকার ও আর্তনাদ হতে থাকবে। ” [সূরা হুদ: ১০২-১০৬]

وَالَّذِينَ يَصِلُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَنْ يُوصَلَ وَيَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ وَيَخَافُونَ سُوءَ الْحِسَابِ

এবং যারা বজায় রাখে ঐ সম্পর্ক, যা বজায় রাখতে আল্লাহ্ আদেশ দিয়েছেন এবং স্বীয় পালনকর্তাকে ভয় করে এবং কঠোর হিসাবের আশঙ্কা রাখে। ” [সূরা রাদ: ২১]

ذَلِكَ لِمَنْ خَافَ مَقَامِي وَخَافَ وَعِيدِ

এটা ঐ ব্যক্তি পায়, যে আমার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে এবং আমার আযাবের ওয়াদাকে ভয় করে।” [সূরা ইব্রাহীম: ১৪]

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ إِنَّ زَلْزَلَةَ السَّاعَةِ شَيْءٌ عَظِيمٌ ، يَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّا أَرْضَعَتْ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُمْ بِسُكَارَى وَلَكِنَّ عَذَابَ اللَّهِ شَدِيدٌ

হে মানব সম্প্রদায়! তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর। নিশ্চয়ই কিয়ামতের প্রকম্পন একটি ভয়ংকর ব্যাপার। যেদিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যধাত্রী তার দুধের শিশুকে বিসমৃত হবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত করবে এবং মানুষকে তুমি দেখবে মাতাল; অথচ তারা মাতাল নয় বস্তুত: আল্লাহ্’র আযাব অত্যন্ত কঠিন। ” [সূরা আল-হাজ্জ্ব:১-২]

وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ

যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দন্ডায়মান হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্যে রয়েছে দু'টি উদ্যান (অর্থাৎ, জান্নাতে)। ” [সূরা আর-রহমান: ৪৬]

مَا لَكُمْ لَا تَرْجُونَ لِلَّهِ وَقَارًا

তোমাদের কি হল, (যে তোমরা আল্লাহ্-কে (তাঁর শাস্তি) ভয় করছো না, এবং) (আল্লাহ্-এর কাছ থেকে) মানমর্যাদা পাওয়ার মোটেই আশা পোষণ করো না?” [সূরা নুহ: ১৩]

এর অর্থ হলো তোমাদের কি হলো যে তোমরা আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা-এর শ্রেষ্ঠত্বকে ভয় করছো না।

يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ ، وَأُمِّهِ وَأَبِيهِ ، وَصَاحِبَتِهِ وَبَنِيهِ ، لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنٌ يُغْنِيهِ

সেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার ভ্রাতার কাছ থেকে, তার মাতা, তার পিতা, তার পত্নী ও তার সন্তানদের কাছ থেকে। সেদিন প্রত্যেকেরই নিজের এক চিন্তা থাকবে, যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে।” [সূরা আবাসা: ৩৪-৩৭]

সুন্নাহ্-এর দলিলের ক্ষেত্রে বলা যায়, কিছু হাদীসের সরাসরি শব্দ প্রয়োগ (মানতূক) এবং কিছু হাদীসের অন্তর্নিহিত অর্থ (মাফহূম) থেকে আল্লাহ্-কে ভয় করা ফরয হওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করে:

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলতে শুনেছি :


শেষ বিচারের দিন সাত শ্রেণীর লোক আল্লাহ্-এর আরশের নীচে ছায়া পাবে যেদিন তাঁর (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) আরশের ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না। তাঁরা হলেন: একজন ন্যায়বিচারক শাসক, একজন যুবক যে আল্লাহ্-এর ইবাদতের মধ্যে বেড়ে উঠেছে, একজন ব্যক্তি যার üদয় মসজিদের সাথে সংযুক্ত, দুইজন ব্যক্তি যারা কেবলমাত্র আল্লাহ্-এর ওয়াস্তে একে অপরকে ভালবাসে-যারা একত্রিত হয় একমাত্র আল্লাহ্-এর কারণে এবং পরস্পর বিচ্ছিন্নও হয় একমাত্র আল্লাহ্-এর কারণে, যাকে কোন অভিজাত পরিবারের সুন্দরী রমণী অবৈধ যৌন সম্পর্কের জন্য আহ্বান জানায় এবং তখন সে বলে, ‘আমি আল্লাহ্-কে ভয় পাই’, একজন লোক যে গোপনে এমনভাবে দান করে যে, সে ডানহাতে দান করলে তার বাম হাত তা জানতে পারে না এবং সে ব্যক্তি যিনি একাকী গোপনে আল্লাহ্-কে স্মরণ করেন এবং অতঃপর তার চোখ অশ্রুতে ভরে উঠে।”

আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন:

আমি যা জানি যদি তোমরা তা জানতে তবে তোমরা হাসতে কম এবং কাঁদতে বেশি। ” [মুত্তাফাকুন আলাইহি]

‘আদী বিন হাতিম (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন :

বিচার দিবসে তোমাদের কারোই তার এবং আল্লাহ্-এর মাঝে কোন মধ্যস্থতাকারী থাকবে না, সে তার ডানদিকে তাকাবে এবং সে যা অর্জন করেছে তা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবে না, এবং অতঃপর সে তার বামদিকে তাকাবে এবং সে যা অর্জন করেছে তা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবে না। অতঃপর সে তার সামনে তাকাবে এবং আগুন ছাড়া কিছুই দেখতে পাবে না। এবং সুতরাং, তোমাদের প্রত্যেকেই তার নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাচানো উচিত, এমনকি একটি খেজুরের অর্ধাংশ (দান)-এর বিনিময়ে হলেও।” [মুত্তাফিকুন আলাইহি]

আয়েশা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত, যিনি বলেছেন যে তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বলতে শুনেছেন :

লোকেরা খালি পায়ে, নগ্ন ও খৎনাবিহীন অবস্থায় হাশরের ময়দানে একত্রিত হবে।” ‘আয়েশা (রা.) বললেন, “হে আল্লাহ্’র রাসূল! পুরুষ এবং মহিলাগণ কি একে অপরেরর দিকে তাকাবে?” প্রত্যুত্তরে তিনি (সা) বললেন, “পরিস্থিতি তাদের জন্য এতটাই ভয়াবহ হবে যে তারা এতে মনযোগ দেয়ার কোন সুযোগই পাবে না।” [মুত্তাফাকুন আলাইহি]

নু’মান বিন আল-বাশী’র (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বলতে শুনেছেন যে:

বিচারের দিন যে ব্যক্তি দোযখের অধিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে কম কষ্ট পাবে, তার পা দুটিকে জ্বলন্ত অঙ্গারের নীচে স্হাপন করা হবে এবং এতে করে তার মগজ ফুটতে থাকবে। ”

ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন:

দুনিয়ার সব মানুষ তার প্রভূর সামনে এমন অবস্থায় দাঁড়াবে যে, তখন প্রত্যেকে তার ঘামে কানের মধ্যখান পর্যন্ত ডুবে যাবে। ” [মুত্তাফাকুন আলাইহি]

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন:

“শেষবিচারের দিন মানুষ এমন অঝোরে ঘামতে থাকবে যে তাদের ঘামে ভৃ-পৃষ্ঠে সত্তর হাত গভীরতা তৈরি হবে, এবং তাদের কান অবদি ডুবে যাওয়া পর্যন্ত তা থামবে না। ” [মুত্তাফাকুন আলাইহি]

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন:

“আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন (ফেরেশতাদের উদ্দেশ্যে), ‘আমার বান্দা যখন কোন পাপ কাজের মনস্থির করে, তবে তোমরা তা তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ করো না, যতক্ষন না সে তা সম্পাদন করে। আর যদি সে করে তবে সেটিকে শুধুমাত্র একটি পাপ কাজ হিসেবেই লিপিবদ্ধ করো। কিন্তু যদি সে আমার ভয়ে কাজটি করা থেকে বিরত থাকে, তবে সেটিকে একটি ভালো কাজ হিসেবে লিপিবদ্ধ করো। আর বান্দা যখন ভালো কাজের মনস্থির করে, অতঃপর তা সম্পাদন না করলেও তার আমলনামায় একটি ভালো কাজ হিসেবে লিপিবদ্ধ করো, এবং যদি সে তা সম্পাদন করে, তখন সেটিকে দশ থেকে শুরু করে সাতশত গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে লিপিবদ্ধ করো। ” [মুত্তাফাকুন আলাইহি]

আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন:

“ঈমানদারগণ যদি জানতো যে আল্লাহ্ কী ধরণের শাস্তি মজুদ করে রেখেছেন, তাহলে তাদের কেউ আর জান্নাতের আশা পোষণ করতো না। এবং কাফিররা যদি জানতো আল্লাহ্’র হাতে কত ধরনের রহমত রয়েছে, তাহলে তারা জান্নাতে প্রবেশের আশা কখনও ত্যাগ করতো না। ” [মুসলিম]

ইবনে উমর বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন:

বনী ইসরাইলের সম্প্রদায়ের কিফল তার খারাপ কাজের জন্য গুনাহ্-এর পরোয়া করতো না। একদিন এক মহিলা তার কাছে এলো এবং সে ঐ মহিলাকে ৬০ দিনার দিল, তার সাথে যিনাহ্’র সম্পর্ক করার উদ্দেশ্যে। যখন কিফল মহিলাটি যিনাহ্’র দিকে আহ্বান করলো, তখন সে (মহিলাটি) ভয়ে থরথর করে কাঁপতে এবং ক্রন্দন করতে লাগলো। সে (কিফল) বলল: তুমি কাঁদছো কেনো? মহিলাটি বলল: এটা এমন এক ধরনের কাজ যা আমি আগে কখনও করিনি। কেবলমাত্র অভাবের তাড়নায় আমি এটা করতে বাধ্য হচ্ছি। কিফল বললো: তুমি এমন করছো কারণ তুমি আল্লাহ্-কে ভয় করো! তবে আমার তো আল্লাহ্-কে এর চেয়ে বেশি ভয় পাওয়া উচিত। যাও; টাকাগুলো নিয়ে চলে যাও, আল্লাহ্’র কসম, আমি কখনোই আর আল্লাহ্’র অবাধ্য হবো না। অতঃপর সে রাতেই কিফল মারা গেলো এবং লোকেরা তার দরজার উপর এই লেখা দেখতো পেলো: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্ কিফলকে মাফ করে দিয়েছেন’, যা দেখে সবাই বেশ অবাক হয়েছিল।’’ আত্-তিরমিযী এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং এটিকে হাসান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আল-হাকিম এটিকে সহীহ্ বলেছেন এবং আয-যাহাবী এর সাথে একমত পোষণ করেছেন। ইবনে হিব্বান তার সহীহতে এবং আল-বায়হাকী তার আল-শু’আবে তা উল্লেখ করেছেন।

আবু হুরায়রা (রা.)-এর বরাত দিয়ে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন যে, তাঁর রব বলেন:

আমার ইজ্জতের কসম, আমি আমার বান্দার জন্য দু’বারের জন্য ভয় এবং দু’বারের জন্য সুরক্ষা বয়ে আনবো না। যদি সে দুনিয়াতে আমাকে ভয় করে, তাহলে বিচার দিবসে আমি তাকে সুরক্ষা দিবো। আর দুনিয়াতে সে যদি (আমার ভয়ের ব্যাপারে) নিজেকে সুরক্ষিত মনে করে, তাহলে আখিরাতে আমি তার জন্য ভয়ের কারণ হবো। ” এটি ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহতে উল্লেখ করেন।

বর্ণিত আছে যে, ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন:
“যখন আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁর রাসূল (সা)-এর উপর নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল করেন:

হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ এবং পাথর। ’’ [সূরা আত-তাহরীম:৬]; একদা রাসূল (সা) সাহাবীগণদের সামনে আয়াতটি তিলাওয়াত করেন, তখন আয়াতটি শুনে এক যুবক অজ্ঞান হয়ে গেলো। রাসূল (সা) বালকটির হৃদপিন্ডের উপর হাত রাখলেন এবং তখনও তার স্পন্দন পেলেন, এবং বালকটিকে বললেন: হে যুবক, বল: লা’ ইলা’হা ইল্লাল্লাহ্। যুবকটিও পুনরাবৃত্তি করলো: লা’ ইলা’হা ইল্লাল্লাহ্, রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: এটা কি আমাদের মধ্য হতে তার জন্য, হে আল্লাহ্’র রাসূল (সা)? জবাবে রাসূল (সা) বললেন: তোমরা কি আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা’র এ আয়াতটি শুনতে পাওনি:

“এটা ঐ ব্যক্তি পায়, যে আমার সামনে (বিচার দিবসে অথবা আমার শাস্তির ভয়ে) দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে এবং আমার আযাবের ওয়াদাকেও ভয় করে।” [সূরা ইব্রাহীম :১৪]’’; ইহা আল-হাকিম হতে বর্ণিত এবং তিনি একে যাচাই করেছেন। আয-যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করেছেন।

বর্ণিত আছে যে, আয়েশা (রা.) বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট আল্লাহ্ ‘আজ্জা ওয়া যাল্লা-এর নিম্নোক্ত আয়াতটি তিলওয়াত করলাম:

এবং যারা যা দান করবার, তা ভীত, কম্পিত হৃদয়ে এ কারণে দান করে যে, তারা তাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তন করবে। [সূরা আল-মু’মিনুন: ৬০]; তিনি (রা.) আরও যোগ করে বললেন:

এরা কি তারা, যারা মদ খায় এবং চুরি করে, (ইত্যাদি)?”- ইবনে ইসহাকের বর্ণনা অনুযায়ী- এরা কি সে ব্যক্তি যারা যিনাহ্ করে, চুরি করে ও মদ খায় যদিও তারা আল্লাহ্ ‘আজ্জা ওয়া যাল্লা-কে ভয় করে? জবাবে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: না! ওয়াকী’র বর্ণনা অনুযায়ী: না, হে আস-সিদ্দিক-এর কন্যা, বরং তারা হলো যারা রোযা রাখে, সালাত আদায় করে ও দান করে, ইত্যাদি; এবং তারা এই ভয় করে যে তাদের ইবাদত হয়তো আল্লাহ্’র দরবারে কবুল নাও হতে পারে। ” আল-বায়হাকী তার শু’আব আল-ঈমান, আল-হাকিম তার মুসতাদরাক-এ এটিকে সহীহ্ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং আয-যাহাবী এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

সাওবান (রা.) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন:

আমি নিশ্চয়ই জানি, আমার উম্মতের মধ্যে কিছু লোক তিহামা সাদা পাহাড়ের ন্যায় নেক কাজ নিয়ে উপস্থিত হবে, কিন্তু আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকনায় পরিণত করে দিবেন। “সাওবান বললেন, ‘হে আল্লাহ্’র রাসূল (সা), আমাদেরকে তাদের সম্পর্কে অবগত করুন, যাতে অজ্ঞতাবশত: আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে যাই!’ তিনি (সা) বললেন, “তারা তোমাদের ভাই, এবং তোমাদের লোকদের মধ্য হতে, এবং তারা রাতগুলোকে সেভাবেই অতিবাহিত করে যেভাবে তোমরা অতিবাহিত করো (অর্থাৎ ইবাদতের মধ্য দিয়ে, ইত্যাদি।), কিন্তু তারা সেই সমস্ত লোক, যারা, যখন একাকী অবস্থায় থাকে তখন হারাম কাজে লিপ্ত থাকে এবং আল্লাহ্’র নিষেধ অমান্য করে।” (ইবনে মাজাহ্) মিজবা’হ্ আজ-জুযা’যাহ্ বইয়ের লেখক আল-কান্নানী হাদিসটিকে সহীহ্ এবং এর বর্ণনাকারীদের বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আবদুল্লাহ্ বিন মাস’উদ (রা.) আমাদের দু’টি হাদীস বর্ণনা করেছেন; এদের একটি রাসূল (সা) এবং অপরটি তার উপর বর্তায়। বর্ণনাটি নিম্নরূপ:

একজন ঈমানদারের নিকট তার পাপসমূহ এমন পর্বতের ন্যায় দৃশ্যমান যেন সে তার নীচে বসে আছে এবং তা তার উপর যেকোনো মুহুর্তে ধ্বসে পড়তে পারে। আর একজন খোদাদ্রোহীর কাছে তার গুণাহসমূহ এমন তুচ্ছ মাছির ন্যায় দৃশ্যমান যেন সেটা তার নাকের ডগার সামনে ঘুর্ণিমান এবং সে থাপ্পর দ্বারা সেটাকে তাড়িয়ে দিচ্ছে...।” আল-বুখারী হতে বর্ণিত।

সা’দ (রা.) বর্ণনা করেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বলতে শুনেছি:

“আল্লাহ্ (সর্বশক্তিমান, সর্বসম্মানিত) সেই বান্দাকে ভালবাসেন, যিনি ত্বাকীঈ’ (অর্থাৎ, আল্লাহ্ ভীরু), ঘানীঈ’ (অর্থাৎ, হৃদয়ের দিক থেকে ধনী) এবং খাফিঈ’ (অর্থাৎ, যে লোক দেখানো কাজ হতে বিরত থাকে)।’’ মুসলিম হতে বর্ণিত।

উসামাহ্ বিন সুরাইক বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন:

“তোমাদের যেকোনো প্রকারের কাজ যা আল্লাহ্ নিকট অপছন্দীয়, তা হতে দূরে থাকো, বিশেষত: যখন তোমরা একা থাকো। ইবনে হিব্বান তার সহীহতে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।

আবদুল্লাহ বিন আমর হতে বর্ণিত:

“রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে জিজ্ঞেস করা হলো; কারা সর্বশ্রেষ্ঠ? জবাবে তিনি (সা) বললেন: প্রত্যেক মাখমুম আল-কালব এবং সৎ জবান সম্পন্ন ব্যক্তি। তারা বললো: সৎ জবান সম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্পর্কে আমরা জানি কিন্তু মাখমুম আল-কালব কি? তিনি (সা) বললেন: প্রত্যেক আল্লাহ্ ভীরু ও পবিত্র হৃদয়, যেখানে কোনো পাপ, অন্যায়, ঘৃণা কিংবা শত্রুতা স্থান পায়নি। ” আল-কান্নানী এর ইসনাদকে সহীহ্ বলেছেন এবং আল-বায়হাকী তার সুনানে একইভাবে তা উল্লেখ করেছেন।

আবু উমা’মাহ্ (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল (সা) বলেছেন:

আমার দৃষ্টিতে আমার বন্ধুদের (আউলিয়া’) মধ্যে সবচেয়ে ঈর্ষণীয় ব্যক্তি হলো সেই ঈমানদার যার রয়েছে সামান্য সম্পদ, কিন্তু সালাতে রয়েছে তার গভীর মনোযোগ, যে আল্লাহ্’র ইবাদত করে সর্বোৎকৃষ্ট উপায়ে এবং তাকে (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা-কে) সে সবার অগোচরে মান্য করে, এবং সে লোকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কেউ নয় এবং তার দিকে কেউ অঙ্গুলি নির্দেশ করে না (লোকেরা তার কাছে ধরনা দেয়না), প্রাপ্ত রিযক তার জন্য যথেষ্ট এবং এতেই সে সন্তুষ্ট। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার আঙ্গুলে টোকা দিলেন এবং বললেন, ‘উপরে উল্লেখিত ব্যক্তি খুব দ্রুত মারা যায় (দ্রুত জীবন পার করে), এবং খুব কম লোক তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এবং সে সামান্য সম্পদ রেখে যায়। ” আত-তিরমিযী হতে বর্ণিত, হাদীসটিকে হাসান আখ্যায়িত করেছেন।

বাহায বিন হাকিম বর্ণনা করেন যে, বানু কুসাইর মসজিদে জুরা’রাহ্ বিন আবি আও’ফা (রা.) আমাদের নামাজে ইমামতি করছিলেন। তিনি সূরা আল-মুদ্দাস্সির তিলাওয়াত করছিলেন যতক্ষণ না তিনি নীচের আয়াতটিতে পৌছান:

অতঃপর যখন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে।” [সূরা মুদ্দাস্সির:৮]; এরপরই তিনি (রা.) পড়ে যান এবং মারা যান। এটি আল-হাকিম হতে বর্ণিত, যিনি ইসনাদকে সহীহ্ বলেছেন।

ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেন যে, বদরের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন:

যদি তোমাদের কেউ আল-‘আব্বাসের দেখা পাও তবে তাকে হত্যা করো না, কারণ তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আসতে বাধ্য করা হয়েছে। আবু হুযাইফা বিন ‘উতাবা বলেন: ‘আপনি কি আমাদের পিতা, সন্তান ও গোত্রের লোকদের হত্যা করতে চান এবং আল-‘আব্বাসকে ছেড়ে দিতে চান?’ আল্লাহ্’র কসম, আমি যদি তার দেখা পাই তবে আমি তাকে আমার তলোয়ার দিয়ে আঘাত করবো। এ কথা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কানে পৌছালো, এবং তিনি (সা) ‘উমর বিন আল-খাত্তাব (রা.)-কে বললেন: হে আবু হাফস- এবং উমর (রা.) বর্ণনা করেন যে সেটাই ছিল প্রথমবার যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) এই নামে সম্বোধন করেছিলেন - আল্লাহ্ রাসূল (সা)-এর চাচার চেহারা কি তলোয়ারের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হওয়া উচিত? ‘উত্তরে উমর (রা.) বললেন: আমাকে তার গর্দান হতে মাথা আলাদা করতে দিন, কারণ সে মুনাফেকী প্রদর্শন করেছে। আবু হুযাইফা বলতেন: সেদিনের পর থেকে আমার এই কথার জন্য আমি নিজেকে কখনোই নিরাপদ মনে করতাম না। শাহাদাতের মৃত্যুই যার একমাত্র প্রায়শ্চিত্ত, তাই আমি সর্বদা ভীত থাকতাম যদি আমার শাহাদাতের মৃত্যুর সৌভাগ্য না হয়। আল-ইয়ামামার যুদ্ধে তিনি শহীদ হন”। আল-হাকিম তার আল-মুসতাদরাক গ্রন্থে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং মুসলিম-এর শর্তানুযায়ী একে সহীহ্ বলেছেন।