Thursday, August 28, 2014

সমাজ পরিবর্তন - কোন পথে?

ইসলামে দাওয়াহ একটি ফরয ইবাদত এবং এর উদ্দেশ্য হল সমাজ পরিবর্তন করা। কিন্তু সমাজের উপাদানসমূহ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে বা সমাজের গঠন সর্ম্পকে ধারণা না থাকলে সমাজ পরিবর্তনের কাজটি ফলদায়ক হবে না।

আমরা জানি মুসলিম উম্মাহ’র মধ্যে সমাজ পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন দল বিভিন্নভাবে কাজ করছে। এদের প্রায় সবগুলোই ব্যক্তি পরিবর্তনের কাজ করছে। অর্থাৎ নৈতিক অবস্থা পরিবর্তন করার মাধ্যমে ব্যক্তিকে পরিশুদ্ধ করার কাজ করছে। এর জন্য
  • কোন কোন দল ব্যক্তিকে নামাজী হওয়া, ব্যক্তিগত সুন্নতী আমল(দাঁড়ি রাখা, লম্বা জুব্বা ও টুপি পরিধান করা, মসজিদমুখী করা, জিকির করা) এর দিকে আহ্বান করছে। এগুলো হল অরাজনৈতিক ধর্মনিরপেক্ষ প্রচেষ্টা।
     
  • কেউবা ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রচুর সনদপ্রাপ্ত আলেম তৈরি করে সমাজ পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। এখানেও ব্যক্তি পরিবর্তনই লক্ষ্য।
  • পীরপন্থার উদ্দেশ্যও ব্যক্তি পরিবর্তন বা পরিশুদ্ধি। কোন পীরই সমাজ পরিবর্তনের জন্য সমাজকে সামগ্রিকভাবে দেখার প্রয়োজন বোধ করেনি বা দেখতে সক্ষম হয়নি।
  • সমাজ পরিবর্তনের রাজনৈতিক প্রচেষ্টাসমূহও ব্যক্তিকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছে। কারণ তারা মনে করে অধিকাংশ লোক ইসলামিক হয়ে গেলে সমাজ আপনাতেই পরিবর্তিত হয়ে যাবে। সমাজের প্রতিষ্ঠিত চিন্তা(ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম, দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠাই সাফল্য), আবেগ(স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারী, ভ্যালেন্টাইনস ডে, ঈদ, পহেলা বৈশাখ) বা ব্যবস্থাকে(গনতন্ত্র) তারা সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেনি। বরং এগুলোর সাথে তারা আপোষ করেছে এবং ইসলামের মধ্যে এগুলোর অস্তিত্ব আবিষ্কার করেছে।
এর কারণ হল এ দলসমূহ সমাজের মধ্যে কেবলমাত্র ব্যক্তিকেই দেখতে পায়। কিন্তু কেবলমাত্র ব্যক্তি পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কেননা সমাজের চারটি উপাদানের মধ্যে একটি হল ব্যক্তি। বাকী তিনটি উপাদান হল সমাজের সাধারণ/প্রভাবশালী চিন্তা, সাধারণ বা প্রভাবশালী আবেগ ও সমাজ পরিচালনার জন্য একটি ব্যবস্থা। এই চারটি উপাদান পরিবর্তন করার চেষ্টা না করলে সমাজে কাঙ্খিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। একারণেই তাবলীগ জামাতের ইজতেমাতে দিন দিন লোক বাড়া সত্ত্বেও এই ঈমান ও আমলের মেহনত ইজতেমা মাঠের দেয়ালে নোংরা, অশ্লীল সিনেমার পোষ্টার লাগানোকে বন্ধ করার মত ক্ষুদ্রতম কাজটিও করতে পারেনি। মসজিদ, মাদ্রাসা, মাওলানা, মুফতী সাহেবের সংখ্যা, ইসলামিক চ্যানেল, প্রকাশনা ক্রমাগত বাড়া সত্ত্বেও সমাজে হত্যা, ধর্ষণ, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, সুদের ব্যাপক প্রসার, জালিম শাসকের জুলুম কমেনি, বরং বেড়েছে। অর্থাৎ কেবলমাত্র ব্যক্তি পরিবর্তনের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ধর্মনিরপেক্ষ চেষ্টা সমাজ পরিবর্তন করতে দারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আর বিভিন্ন দল ও তথাকথিত পীরগণ সমাজ পরিবর্তনের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা) এর পদ্ধতির বাস্তবতা নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন বোধ করেনি।

সমাজে কী কেবল ব্যক্তিই রয়েছে?


সমাজে কেবলমাত্র ব্যক্তি নেই। যদি কেবল ব্যক্তি থাকত তাহলে একটি স্টেডিয়ামে যখন হাজার হাজার ব্যক্তি জড়ো হয় তখন সেখানে সমাজ কায়েম হয়ে যেত। কিন্তু আমরা জানি সেখানে সমাজ কায়েম হয় না। ব্যক্তি সমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ব্যক্তি সমাজে বসবাস করে ও সমাজ তাকে প্রভাবিত করে । তাকে সমাজ থেকে আলাদা করে পরিবর্তনের কথা চিন্তা করা সমাজের বাস্তবতাকে অস্বীকার করার নামান্তর মাত্র। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বুঝা যাক। সমাজকে একটি ওয়াল ক্লথের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। আর সমাজের ব্যক্তি মানুষকে সে ওয়াল ক্লথের উপরে থাকা একটি অবুঝ শিশুর সাথে তুলনা করা যেতে পারে। ধরা যাক সে শিশুটি মলত্যাগ করে নিজেকে ও ওয়াল ক্লথটিকে নোংরা করে ফেলল। এমতাবস্থায় শিশুটির মা যদি বাচ্চাটিকে পরিষ্কার করে এনে অপরিষ্কার ওয়াল ক্লথে রেখে দেয় তাহলে বাচ্চাটি আবার নোংরা হয়ে যাবে। যদি বাচ্চাটির মা শিশুটিকে পুরোপুরি পরিষ্কার রাখতে চায় তাহলে শিশুটির পাশাপাশি ওয়াল ক্লথটিকেও পরিষ্কার করতে হবে। এভাবে ব্যক্তি থাকার জায়গা হল সমাজ। সে কারণে ব্যক্তির পাশাপাশি সমাজকেও পরিবর্তন করতে হবে। আর যদি তা না করা হয় তবে পরিবর্তিত ব্যক্তি খারাপ সমাজে এসে আবারও খারাপ হয়ে যাবে। একারণেই ইসলাম মুসলিমদের জন্য ইসলামিক সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যে থাকাকে বাধ্যতামূলক করেছে।

ব্যক্তি কীভাবে মন্দ বা দূর্নীতিগ্রস্ত হয়?

আমাদের সমাজে কোন ব্যক্তি খারাপ বা দূর্নীতিগ্রস্ত হলে সে ব্যক্তিকেই এর জন্য দায়ী করা হয় এবং তাকে জেলে পুড়ে দেয়ার মাধ্যমে সমাজ থেকে আলাদা করা হয়। কিন্তু একজন ব্যক্তি কখনওই নিজে নিজে খারাপ বা দূর্নীীতগ্রস্ত হয় না বা কেউ খারাপ হয়ে জন্মায়ও না। বরং ব্যক্তি খারাপ হয় সমাজে প্রতিষ্ঠিত রীতিনীতি, ঐতিহ্য থেকে যা আসে জীবন সম্পর্কিত মৌলিক চিন্তাধারা থেকে।

রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, ‘প্রতিটি মানবসন্তান ইসলামের ফিতরাতের উপর জন্মায় এবং অতপর তার পিতামাতা ও সমাজ তাকে কাফের বানিয়ে ফেলে।’
এ হাদীস থেকে স্পষ্ট, ব্যক্তির উপর তার পরিবার ও সমাজের কী ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। সমাজের প্রতিষ্ঠিত চিন্তা, আবেগ ও ব্যবস্থা ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রন করে। যদি সে চিন্তা, আবেগ ও ব্যবস্থা ইসলাম ছাড়া অন্য কিছু থেকে উৎসরিত হয়, তাহলে সে সমাজে মন্দের ব্যাপক প্রসার হবে এবং ব্যক্তি দূর্নীতিগ্রস্ত ও খারাপ হবে। যেমন: এ সমাজ ইন্দ্রিয় সুখ লাভ করাকে সুখের সংজ্ঞা ঠিক করেছে, সে কারণে এ সমাজ ক্রমাগতভাবে এমন সব ব্যক্তি তৈরি করছে যারা তাদের বেঁচে থাকার প্রবৃত্তি ও যৌন প্রবৃত্তিকে বল্গাহীন করে দিয়েছে। এসব প্রবৃত্তিকে চরিতার্থ করতে গিয়ে ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ সমাজ আখেরাত নয় দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠা লাভ করাকে সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে নির্ধারণ করেছে। সে কারণে এ সমাজের ব্যক্তি-মানুষ দুনিয়ার সাফল্যের পেছনে ক্রমাগত ছুটছে। দুনিয়ার সাফল্য লাভ করতে হলে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে হয়। সে কারণে ব্যক্তি-মানুষ অর্থের পেছনে ছুটার অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে এবং অর্থকে ইলাহ এর জায়গায় নিয়ে গেছে(নাউযুবিল্লাহ)। অল্প সময়ে ব্যাপক অর্থ বিত্তের মালিক হতে গিয়ে ব্যক্তি সব ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। কারণ এ সমাজ অর্থ বিত্তের মালিককে সফল মনে করে। কিন্ত অর্থ কীভাবে অর্জিত হয়েছে সে বিষয়ে মোটেও চিন্তিত নয়। অর্থাৎ হালাল-হারাম এ সমাজের প্রতিষ্ঠিত চিন্তা নয়। মুনাফা লাভ করাকে এই সমাজ কাজের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। সে কারণে বৈধ বা অবৈধ উপায়ে ব্যক্তি মুনাফা অর্জন করতে চায়- সেটি যদি খাদ্যে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ফরমালিন বা ভেজাল দিয়েও হয়। এসমাজের আরেকটি প্রতিষ্ঠিত চিন্তা হল ধর্মনিরপেক্ষতা-যা মানুষকে সার্বভৌম করেছে এবং মহাবিশ্বের স্রষ্টা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার ভূমিকা মসজিদ ও পালন সর্বস্ব ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। মানুষ যথেচ্ছভাবে আইন তৈরির কারণে সে স্বেচ্ছাচারী হচ্ছে ও বিরোধী মত দমনের জন্য ফেরাউন ও নমরুদের মত জুলুম করছে। একটি শাসন ব্যবস্থা এসব চিন্তাকে সুরক্ষা দেয়, বাস্তবায়ন করে -যার নাম হচ্ছে গনতন্ত্র। গনতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা তার বাস্তবায়িত চিন্তা ও আবেগ দ্বারা ক্রমাগত মন্দ ও দূর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি তৈরি করছে। ব্যক্তি-মানুষ প্রচলিত ব্যবস্থা দ্বারা প্রভাবিত হয়।

বিষয়টি একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝা যাক। যে ব্যক্তিটি চাপাচাপি করে ঢাকার রাস্তায় ৩ নম্বর বাসে উঠে সেই একই ব্যক্তি কোন সিটিং সার্ভিস বাস যদি যাত্রীকে লাইনে দাড়িয়ে টিকিট নিয়ে বাসে উঠতে বাধ্য করে তবে সুশৃংখলভাবে সে ব্যক্তি তাই করে। অথবা আমাদের দেশের একজন ব্যক্তি যখন ইউরোপ বা আমেরিকায় যায় তখন সেখানে খুব সুশৃংখলভাবে দাড়িয়ে বাসে উঠে। অর্থাৎ একই ব্যক্তি দু’জায়গায় দু’রকম আচরণ করছে ব্যবস্থাপনার পার্থক্যের দরুণ। সুতরাং ব্যবস্থা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রন করে। হাসিনার প্রধামন্ত্রীর চেয়ারে যদি কোন ইমাম সাহেবকেও বসিয়ে দেয়া হয়, তবে কিছুদিনের মধ্যে তিনিও জালিম ও দূর্নীতিপরায়ণ হয়ে যাবে।

সমাজের পরিবর্তন কোন পথে?

রাসূলুল্লাহ (সা) তৎকালীণ জাহেল সমাজকে উন্নত ইসলামী সমাজে পরিবর্তন করার জন্য জাহেল ব্যক্তি, সমাজের প্রতিষ্ঠিত জাহেল চিন্তা(মূর্তিপূজা, কন্যা সন্তান পুতে ফেলা, ওজনে কম দেয়া, অন্ধ গোত্রবাদ), প্রতিষ্ঠিত জাহেল আবেগ ও জাহেল ব্যবস্থাকে(মানবরচিত ব্যবস্থা- তারা দারুল নাদওয়াতে বসে বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিত) পরিবর্তন করেছিলেন এবং এগুলোকে ইসলামিক ব্যক্তিত্ব, চিন্তা, আবেগ ও ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিস্থাপন করেছিলেন।

এক বা একাধিক ব্যক্তি নৈতিকভাবে ভাল হলে তা সমাজে কোন প্রভাব ফেলে না। বরং সমাজের চিন্তা, আবেগ, ব্যবস্থা ও সর্বোপরি প্রতিষ্ঠিত জনমত চ্যালেঞ্জ্যের সম্মুখীন হলে তা প্রকৃতপক্ষে প্রভাব বিস্তার করে। । কন্যা সন্তান পুতে ফেলা, কাবার ভেতরে মূর্তি রেখে উপাসনা করা, ওজনে কম দেয়া, দূর্বলের উপর সবলের অত্যাচার ইত্যাদি ছিল জাহেল সমাজের জনমত বা রীতিনীতি। রাসূলুল্লাহ (সা) মক্কার জাহেল সমাজের প্রতিষ্ঠিত জনমত বা রীতিনীতিকে কোরআনের আয়াত দ্বারা চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। আজকের সমাজের প্রতিষ্ঠিত জনমত হল ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙ্গালী বা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবর্তনের পদ্ধতি নির্বাচন, আখেরাত নয় দুনিয়ার সাফল্যই মুখ্য,.....ইত্যাদি এবং ব্যবস্থার জায়গায় রয়েছে গনতন্ত্র। আজকের এ জাহেল সমাজকে পরিবর্তন করতে চাইলে রাসূলুল্লাহ (সা) কে অনুসরণ করে ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙ্গালী বা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবর্তনের পদ্ধতি নির্বাচন, আখেরাত নয় দুনিয়ার সাফল্যই মুখ্য, গনতন্ত্র....ইত্যাদিকে ইসলামিক চিন্তা দ্বারা চ্যালেঞ্জ করতে হবে।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিভিন্ন রাজনৈতিক ইসলামিক দল (জামায়াতে ইসলামী, চরমোনাই পীর, খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিস...ইত্যাদি) ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙ্গালী বা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবর্তনের পদ্ধতি নির্বাচন, আখেরাত নয় দুনিয়ার সাফল্যই মুখ্য, গনতন্ত্র.... প্রভৃতিকে ইসলাম দ্বারা চ্যালেঞ্জ করেনি। বরং এসব জাহেল জনমত, চিন্তার সাথে আপোষ রফা করেছে এবং ইসলামের মধ্যে এসব জাহেল জনমত ও চিন্তার অস্তিত্ব আবিষ্কার করেছে বিধায় এসব জাহেল জনমত, চিন্তা ও ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে। সেকারণে আজকে উম্মাহ’র ও সমাজের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে ও জাহেল চিন্তা, জনমত, ব্যবস্থা সমাজকে, সমাজের অধিবাসী ব্যক্তিমানুষকে অন্ধকারের অতলে নিয়ে যাচ্ছে।

সমাজ পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত ব্যক্তির সংখ্যার কোন সর্ম্পক আছে কি?

সমাজ পরিবর্তনের সাথে কতজন ব্যক্তি ইসলামিক হল তার কোন সর্ম্পক নেই। বরং সমাজের সব লোক নামাজী, রোজাদার, যাকাত প্রদানকারী ও হজ্জব্রত পালনকারী হলেও সমাজ পরিবর্তিত হবে না যদি সে সমাজের প্রতিষ্ঠিত চিন্তা, আবেগ ও ব্যবস্থা অনৈসলামিক থাকে। কিন্তু সমাজের কিছু লোক ইসলামিক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং তার সাথে ইসলামিক চিন্তা, আবেগ ও ব্যবস্থার পক্ষে শক্তিশালী জনমত গঠন করা সম্ভব হলে সমাজের পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। এরকমটিই ঘটেছিল মদীনাতে। শতকরা মাত্র আঠার থেকে বিশ ভাগ লোক ইসলাম গ্রহণ করলেও সমাজে ইসলামিক চিন্তা ও ব্যবস্থার ব্যাপারে শক্তিশালী জনমত তৈরি করা হয়েছিল বলেই মদীনাতে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সব বা অধিকাংশ লোক ইসলামিক হলে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে এটি ইসলামসম্মত ও বাস্তবতসম্মত চিন্তা নয়, বরং সব বা অধিকাংশ লোক ইসলামিক রাষ্ট্র বা সমাজ প্রতিষ্ঠার পর ইসলামের মধ্যে এসেছিল, আগে নয়। একারণেই ইসলাম প্রতিষ্ঠার আগে মক্কাতে রাসূলুল্লাহ (সা) এর অনুসারীর সংখ্যা ছিল মাত্র কয়েকশ আর ইসলাম প্রতিষ্ঠার পর তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল লক্ষ লক্ষ। মৃত্যুর আগে বিদায় হজ্জ্বের ভাষণে রাসূল (সা) এর সম্মুখে প্রায় সোয়া লাখ সাহাবী উপস্থিত ছিলেন। সুতরাং সমাজ পরিবর্তনের সাথে সংখ্যাতত্ত্বের কোন সর্ম্পক নেই।

রাফীম আহমেদ

Sunday, August 3, 2014

মুসলিম উম্মাহর অধঃপতনের মূল কারন চিন্তার অধঃপতন

মুসলিম উম্মাহ্ বর্তমানে যে পশ্চাদপদতা ও লাঞ্ছনার গহ্বরে পতিত তা থেকে উম্মাহ্কে উদ্ধার করা এবং উম্মাহকে কুফরী চিন্তা, কুফরী ব্যবস্থা, কুফরী বিধি-বিধান, কুফর দেশসমূহের আধিপত্য ও প্রভাব-প্রতিপত্তি থেকে মুক্ত করা কেবল মাত্র তখনই সম্ভব হবে যখন উম্মাহর চিন্তার বর্তমান অধঃপতনকে পরিবর্তন করে উন্নত চিন্তার বিকাশ ঘটানো যাবে আর এটা করার উপায় হচ্ছে যে চিন্তাগুলো মুসলিম উম্মাহ্কে অপদস্থতার এই চরম অবস্থা পর্যন্ত এনে পৌঁছিয়েছে সেগুলোকে চিহ্নিত করে ইসলামী চিন্তা দ্বারা সেগুলোর পরিবর্তন ঘটানো

বস্তুতঃ উম্মাহর বর্তমান অবস্থার কারণ হচ্ছে ইসলামকে বুঝে তার বিধি-বিধানকে মান্য করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক অবহেলা এবং দুর্বলতা, যা অনেক আগে থেকে শুরু হয়ে আজও চলছে এই চিন্তাগত অধঃপতনের দরুন উম্মাহ্‘র মাঝে বহু নতুন বিষয়ের উদ্ভব ঘটেছে, যার প্রধান প্রধান কিছু বিষয় নিচে উল্লেখ করা হলো

ক. হিন্দু, পারসিক এবং গ্রীক দর্শনের অনুপ্রবেশের পর ইসলাম আর এসব দর্শনের মাঝে পূর্ণ বৈপরিত্য থাকা সত্বেও কেউ কেউ ইসলামকে এগুলোর সাথে মিলানোর চেষ্টা করেছেন

খ. ইসলামের দুশমনরা ইসলামের দুর্নাম করা এবং মুসলমানদেরকে ইসলাম থেকে দূরে রাখার জন্য ইসলামের নামে মুসলমানদের মাঝে এমন কিছু বিধি-বিধান ও চিন্তার অনুপ্রবেশ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে, যা আদৌ ইসলামী নয়

গ. ইসলামের উপলব্ধি এবং এর বিধি-বিধানগুলো কার্যকর করার ক্ষেত্রে আরবী ভাষার প্রতি অবহেলা প্রদর্শনের ক্রমবর্ধমান ধারাবাহিকতার এক পর্যায়ে হিজরী সপ্তম শতাব্দীতে একে ইসলাম থেকে পৃথক করে দেওয়া হয়েছে; যদিও আল্লাহ্‌র দ্বীনকে তার মূল ভাষা থেকে বিচ্ছিন্ন করে অন্য কোন ভাষা দিয়ে পুরোপুরি উপলব্ধি করা অসম্ভব তাছাড়া নতুন নতুন পরিস্থিতিতে ইজতিহাদের মাধ্যমে মাসআলা ইস্তিম্বাত করা এবং সে আলোকে ফাতওয়া প্রদানের জন্য আরবী ভাষার নাহু-সরফ, আদাব, বালাগাত-ফাসাহাত (ব্যাকরণ, সাহিত্য ও অলংকার) ইত্যাদি বিষয়ের সুগভীর জ্ঞান থাকা অত্যাবশ্যক

ঘ. খৃষ্টীয় সতের শতাব্দী হতে পশ্চিমা কুফর দেশগুলো মুসলমানদের উপর মিশনারী, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক আগ্রাসন চালাতে শুরু করে তাদের এই আগ্রাসনের উদ্দেশ্য ছিল উম্মাহর মধ্যে ইসলামের বুঝ এর ব্যাপারে বিকৃতি ঘটিয়ে মুসলমানদেরকে ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে ইসলামকে ধ্বংস করা

এহেন পরিস্থিতিতে মুসলমানদেরকে জাগ্রত করার জন্য বিভিন্ন ভাবে প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে ইসলামী-অনৈসলামী বহু আন্দোলনের জন্ম হয়েছে কিন্তু বাস্তবিক অর্থে সবই অকৃতকার্য রয়ে গেছে না মুসলমানদেরকে জাগ্রত করা সম্ভব হয়েছে, না অধঃপতন ও জিল্লতীর পথ রোধ করা গেছে ইসলাম দ্বারা মুসলমানদেরকে জাগ্রত করার এসব চেষ্টা ও আন্দোলন সফল না হওয়ার পিছনে অনেক কারন রয়েছে, যেমন-

(১) অনেক ক্ষেত্রেই এমন হয়েছে যে, যাঁরা মুসলমানদেরকে জাগ্রত করার সুকঠিন দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন, তারা নিজেরাই ইসলামিক চিন্তাকে যথাযথ গভীরতায় অনুধাবন করেননি এটা এ জন্য হয়েছে যে, তাঁরা প্রায়শই কিছু আচ্ছন্নকারী বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন তাঁরা মুসলিম উম্মাহ্কে জাগ্রত করার মাধ্যম হিসাবে সুনির্দিষ্ট কোন চিন্তা ও পদ্ধতির কথা বলেননি; বরং মোটা দাগে ইসলামের দিকে আহ্বান করেছেন মুসলমানদের বাস্তব সমস্যাবলীর ইসলামিক সমাধান এবং ঐ সমাধানগুলোর প্রায়োগিক দিক নিয়ে তারা সুগভীর আলোচনা করেননি এসব সমাধানগুলো তাঁদের নিজেদেও চিন্তার মাঝেও স্বচ্ছভাবে ছিলনা ফলে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে পারিপার্শিক অনৈসলামিক বাস্তবতাই তাদের চিন্তার ভিত্তি হিসাবে কাজ করেছে শুধু তাই নয়, বাস্তবতার সাথে ইসলামকে মিলানোর জন্য কেউ কেউ ইসলামের এমনসব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন, যা নুসূস তথা কুরআন ও হাদীস দ্বারা অনুমোদিত নয় এবং যা রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কিরাম থেকে বর্ণিত হয়ে আসা মূল ব্যাখ্যার পরিপন্থী মোট কথা অনৈসলামিক বাস্তবতাকে ইসলাম দ্বারা পরিবর্তন করার বিষয়টিকে মুখ্য হিসাবে দেখার পরিবর্তে প্রচলিত বাস্তবতার সাথে ইসলামকে মিলিয়ে ও মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এজন্যই ব্যক্তিস্বাধীনতা, গণতন্ত্র, পুঁজিবাদ, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ইত্যাদির সাথে ইসলামের পরিপূর্ণ বৈপরিত্য থাকা সত্বেও তাঁদের কেউ কেউ এগুলোকে ইসলামী বলে গণ্য করেছেন এবং মানুষকে এগুলোর প্রতি আহ্বান করেছেন

(২) ইসলামী চিন্তা ও আহকাম বাস্তবায়নের সঠিক ও সুনির্দিষ্ট পন্থা অবলম্বন করার পরিবর্তে আপাতঃ ফলদায়ক কিছু করাকেই তাদের কেউ কেউ ইসলাম বাস্তবায়নের পথ মনে করেছেন আর ইসলামী পুণঃর্জাগরণের উপায় হিসাবে শুধুমাত্র মসজিদ নির্মাণ, বই পত্র প্রকাশ, দাতব্য ও সমাজ-সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান খোলা, চরিত্র গঠন ও ব্যক্তির সংশোধনকেই মনে করেছেন যথেষ্ট অন্য দিকে সমাজ নষ্ট হওয়া কিংবা সমাজের উপর প্রাধান্য বিস্তারকারী কুফর চিন্তা, কুফর ব্যবস্থা ও কুফর বিধি-বিধানের প্রাবল্য সম্পর্কে তারা ছিলেন অনেকটাই অমনোযোগী তাদের ধারনা ছিল ব্যক্তির সংশোধন দ্বারাই সমাজ সংশোধন হয়ে যাবে অথচ সমাজ সংশোধন করার কার্যকর উপায় হচ্ছে ব্যক্তির সংশোধনের পাশাপাশি সমাজের চিন্তাধারা, অনুভূতি এবং ব্যবস্থাদিরও সংশোধন করা আর ব্যক্তির সংশোধনও অনেকাংশে সমাজ সংশোধন দ্বারাই সম্ভব কারন সমাজ শুধুমাত্র কতিপয় ব্যক্তির সমষ্টিরই নাম নয়, বরং সমাজ হচ্ছে ব্যক্তি ও কতিপয় সম্পর্কের সমষ্টির নাম অর্থাৎ সমাজ বলা হয়, ব্যক্তি, চিন্তা, অনুভূতি এবং শাসন ব্যবস্থার সমষ্টিকে তাই সমাজ পরিবর্তন করতে হলে এ সবগুলোকেই পরিবর্তন করতে হবে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জাহেলী সমাজকে ইসলামী সমাজে পরিবর্তন করার জন্য এ কাজগুলোই করেছেন তিনি (সাঃ) সমাজে বিদ্যমান আকীদা (বিশ্বাস) কে পরিবর্তন করে ইসলামী আকীদায় পরিনত করেছেন জাহেলী চিন্তা-ভাবনা, ধ্যান-ধারণা এবং প্রথাগুলোকে তিনি ইসলামী চিন্তা- ভাবনা, ইসলামী ধ্যান-ধারণা এবং ইসলামী আচরণ দ্বারা পরিবর্তন করে দিয়েছেন এভাবেই আল্লাহ্‌র রাসূল (সাঃ) মানুষের আবেগ-অনুভুতি তগুলোকে জাহেলী চিন্তা, জাহেলী বিশ্বাস এবং জাহেলী প্রথা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ইসলামী আকীদা এবং ইসলামী চিন্তা ও আহকামের সাথে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন আর এ পথেই আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা‘আলা তাঁর রাসূলকে মদীনার সমাজ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার মর্যাদায় ভূষিত করেছেন যখন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মদীনাবাসী ইসলামী আকীদার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরা ইসলামী চিন্তা, ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইসলামী আহকামকে আপন করে নিয়েছেন, তখনই তিনি (সাঃ) এবং তাঁর সাহাবীগণ “বাই‘আতে‘আকাবায়ে ছানিয়ার” (আকাবার দ্বিতীয় বাই‘আত) পর মদীনায় হিজরত করেছেন এবং সেখানে ইসলামী বিধি-বিধান সমূহ রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর করার পদক্ষেপ নিয়েছেন এভাবেই মদীনায় একটি ইসলামী সমাজ কায়েম হয়েছিল

(৩) কেউ কেউ মনে করেছেন মুসলিম জনগনের উপর শক্তি প্রয়োগ করে ইসলামের পুর্ণজাগরণ সম্ভব তাই তারা অস্ত্র তুলে নিয়েছেন কিন্তু তারা “দারুল কুফর” এবং “দারুল ইসলামের” মাঝে পার্থক্য করতে সক্ষম হননি তারা এটাও উপলব্ধি করেননি যে, দারুল কুফর এবং দারুল ইসলামে দাওয়াত এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করার ক্ষেত্রে কী ধরনের ভিন্নতা থাকা উচিত? আজকে আমরা যে সব দেশে বসবাস করছি, এগুলোও নীতিগতভাবে দারুল কুফর কারন এখানে মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও কাফেরদের চিন্তা, বিধি-বিধান ও কুফরী শাসন ব্যবস্থাই কার্যকর এ অবস্থাটি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর নবুয়্যত প্রাপ্তির সময়ের মক্কা শরীফের অবস্থার সাথে অনেকাংশেই সামঞ্জস্যপূর্ণ অতএব, এখানের দাওয়াতের ধরনও হবে সেসময়ের মতই অর্থাৎ এক্ষেত্রে রাসূল (সাঃ) এর মক্কী জীবনের সুন্নাহ্ অনুযায়ী ইসলাম প্রতিষ্ঠার কর্মসূচীগুলো শুধু দাওয়াত ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, কোনরূপ সশস্ত্র তৎপরতার রূপ লাভ করবেনা কারণ তখনকার কাজের উদ্দেশ্য এটা ছিলনা যে, শুধুমাত্র এমন কোন শাসককে হটানো যে ইসলামী রাষ্ট্রে কুফর আইন চালু করেছে কিংবা সে নিজে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে (যাকে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে অপসারণ করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে) বরং উদ্দেশ্য ছিল একটি দারুল কুফরকে তার সমস্ত চিন্তা ও ব্যবস্থাদিসহ পুরোপুরি পরিবর্তন করা আর এই পরিবর্তন সম্ভব সে দেশের বা সে সমাজের ব্যাপক জনগণের মধ্যে বিদ্যমান চিন্তা, অনুভূতি এবং প্রচলিত রাষ্ট্রকাঠামোকে পুরোপুরি পরিবর্তনের মাধ্যমে রাসূল (সাঃ) মক্কায় সে উদ্দেশ্যেই কাজ করেছিলেন অপরদিকে দারুল ইসলামের বিষয়টি ভিন্ন দারুল ইসলাম হচ্ছে এমন ভূমি যেখানে আল্লাহ্‌র অবতীর্ন আহ্কাম দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালিত হয়ে আসছে কিন্তু কোন শাসক যদি ক্ষমতায় এসে সরাসরি স্পষ্ট কুফরী বিধান দ্বারা প্রকাশ্যে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে শুরু করে, তাহলে তার বিরোধিতা করা মুসলমানদের জন্য ফরয মুসলমানরা তাকে চ্যালেঞ্জ করবে, যেন সে পুনরায় ইসলামের দিকে ফিরে আসে যদি সে ফিরে না আসে, তাহলে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করা উম্মাহ্‘র উপর ফরয হয়ে যাবে এবং এর মাধ্যমে তাকে পুনরায় আল্লাহ্‌র নাযিলকৃত বিধান চালু করার জন্য বাধ্য করা হবে যেমন হযরত উবাদাহ বিন সামিত (রাঃ)-বর্ণিত এক হাদীসে আছে,

“এবং (আমরা রাসূল (সাঃ) এর সাথে এ বাই’আতও করেছি যে) আমরা ‘উলূল আমরের’ সাথে ততক্ষন পর্যন্ত বিবাদ করবনা, যতক্ষন না সে প্রকাশ্য কুফুরীতে লিপ্ত হয়; (রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন) এমন কুফুরী যে বিষয়ে তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত কোন শক্তিশালী প্রমান রয়েছে

ইমাম মুসলিম (রহঃ) হযরত আ’উফ ইবনে মালিক (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেন,

“বলা হলো হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তরবারী দ্বারা তাদেরকে অপসারণ করবো না ? তিনি বল্লেন ‘না! যতক্ষন পর্যন্ত তারা তোমাদের মাঝে সালাত কায়েম রাখবে


সালাত কয়েম রাখার কথা বলে এখানে ইসলামী আহ্কাম মোতাবেক শাসন পরিচালনার প্রতি ইংগিত করা হয়েছে (দ্বীনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ রুকন উল্লেখ করে সম্পূর্ণ দ্বীনকে বুঝানোর মূলনীতি অনুযায়ী)' এই দু'টি হাদীস আমাদেরকে দারুল ইসলামে শাসকদেরকে চ্যালেঞ্জ করা এবং তাদেরকে স্পষ্ট কুফরী থেকে বিরত রাখার জন্য কিভাবে কখন অস্ত্র ধরা বা শক্তি প্রয়োগ করা যাবে, তার পন্থা শিখিয়ে দিয়েছে

Friday, August 1, 2014

জনমতের গুরুত্ব


প্রকাশ্য সামাজিক পর্যায়ে জনগণ যে বিষয়টাকে সম্মান বা অসম্মান করে তার ভিত্তিতেই
একটা জাতি পরিচালিত হয়। ব্যক্তিগত মতামতের ভূমিকা এক্ষেত্রে অত্যন্ত গৌণ। মানুষের সংগঠিত মতামত বা কাজ যা সামাজিক সিদ্ধান্তকে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে করা হয় কেবল তার দ্বারাই জনমত প্রভাবিত হয়। আলাদা আলাদা ভাবে ব্যক্তিরা কী মনে করে বা বিশ্বাস করে তার দ্বারা সমাজ পরিচালিত হয় না। সমাজের সম্মিলিত নীতিবোধই সবসময় জনমত তৈরী করে ও ব্যক্তির মতামতকে প্রভাবিত করে। এর একটা উদাহরণ হচ্ছে কুরাইশদের দ্বারা বয়কট চুক্তির বিলোপ সাধন। আবু জেহেল ও কুরাইশ নেতারা একে পবিত্র ও অলঙ্ঘনীয় বললেও জনমতের চাপের কারণে কুরাইশরা এই বয়কটের সমাপ্তি টানতে বাধ্য হয়েছিল।

সমাজ পরিবর্তন করতে হলে সমাজের প্রত্যেককেই পরিবর্তন করতে হবে এমন কোনও আবশ্যকতা নেই। যা আবশ্যক তা হল সম্মিলিত মতামত বা জনমতের পরিবর্তন সাধন। তাই কুফর সমাজকে ইসলামিক সমাজে পরিণত হতে হলে সম্মিলিত চিন্তা ভাবনা ও জনমতগুলোকে অবশ্যই ইসলামিক হতে হবে। মুসাব (রাঃ) যখন মদীনা থেকে প্রত্যাবর্তন করে রাসূল (সাঃ) কে তাঁর কাজের ফলাফল সম্পর্কে বিবরণ দিচ্ছিলেন তখন তিনি (রাঃ) জানালেন যে ইসলাম মদীনার ঘরে ঘরে প্রবেশ করেছে, তার মানে এই নয় যে সবাই ইসলাম গ্রহণ করেছে, বরং তার মানে হচ্ছে ইসলাম জনগণের সম্মিলিত মতামতের উপর প্রাধান্য বিস্তার করেছে। এই ভিত্তির উপরই রাসূল (সাঃ) মদীনায় প্রথম ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।