Sunday, March 31, 2013

আপনি কার উপাসনা করেন?

প্রতিটি মানব সন্তানই কোন একটি সত্ত্বার উপাসনা করতে চায় । কিন্তু মানুষ উপাসনা করতে চায় কেন? প্রকৃতিগতভাবে মানুষ দুর্বল । সে দুর্বলতা আমরা আমাদের মাঝে উপলব্ধি করতে পারি এবং কোন কিছুর উপর নির্ভর করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি । ফলে মানুষ যখন তার চেয়ে শক্তিশালী কারও অস্তিত্ব টের পায়,তখন প্রায়শঃ তারা তত্ত্বাবধান, নিরাপত্তা ও আশা পুরণের জন্য ঐ সত্ত্বার উপর নির্ভর করে । প্রাচীনকালে মানুষ সূর্য, চাদঁ, তারা, পর্বত, পশু এমনকি তার নিজ হাতে তৈরি মূর্তির সম্মুখেও মাথা নত করত।

তেমনিভাবে, বর্তমান কালে আমরা দেখতে পাই, অসংখ্য দেবতার অস্তিত্ব- যাদের সামনে মানুষ মাথা নত করে। অনেক দার্শনিক, রাজনীতিবিদ ও চিন্তাবিদকে উপদেবতা জ্ঞানে আরাধনা করা হয় । সমাজের অনেকের জন্যই তারা যাবতীয় সমস্যা সমাধানের উত্‍সস্বরুপ। অপরদিকে জনপ্রিয় চিত্রাভিনেতা,সংগীতশিল্পী এবং ক্রীড়াবিদরাও কারো কারো উপাস্যের আসন দখল করে নিয়েছে; এদের অনুসরণ ও সমকক্ষ হওয়ার চেষ্টাতেই অনকের পুরো জীবন ব্যপ্ত। আরো কিছু মানুষ আছে যারা নিজের কামনা-বাসনার দাসে পরিণত হয়েছে। তাদের কামনা-বাসনাই তাদের উপাস্য।

ইসলাম এসেছে মানুষকে চিন্তা করাতে যে সে কার দাসত্ব করছে । অনেক সময় মানুষ যাদের দাসত্ব করে তারা তার নিজের চেয়ে ভিন্ন কিছু নয় । তারাও তারই মত সীমাবদ্দ্ব ,দুর্বল ও পরমুখাপেক্ষী । তাহলে মানুষ এসব জিনিসকে কেন উপাসনা করবে ? ইসলাম এসেছে মানুষকে সীমাবদ্ধ, দুর্বল জিনিসের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে মহান স্রষ্টা আল্লাহ'র দাসত্বে নিয়োজিত করতে । আল্লাহ'ই সকল কিছুর স্রষ্টা এবং একমাত্র তিনিই প্রার্থনার যোগ্য । আল্লাহ্ পাক সূরা আয্-যারিয়াতে বলেন ,

"আমি জ্বিন ও মানব জাতিকে একমাত্র আমার ইবাদতের উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করেছি"।

মানুষের সকল দিক নির্দেশনার একমাত্র উত্‍স আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। অর্থাত্‍ মানুষের সকল ধ্যান ধারনা, জীবনের যাবতীয় সমস্যার সমাধান ও সমাজ পরিচালনার নীতিমালার একমাত্র উত্‍স হচ্ছেন আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা । দুর্ভাগ্যবশতঃ আজকের দিনে আমরা আমরা শুধুমাত্র জায়নামাযেই আল্লাহকে স্বরণ করি ।আমাদের যাবতীয় লক্ষ্য , জীবনের উদ্দেশ্য, সামাজিক রীতিনীতি ও আইন-কানুন আসে অন্যান্য দুর্বল উপাস্যের (?) কাছ থেকে । আসুন আমরা সকলে মিলে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ)" এর প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করি, যাতে করে আমাদের সম্পুর্ণ জীবন ব্যবস্থাটাই আল্লাহ্'র ইবাদত হয়ে যায় ।

ইসলাম শুধুমাত্র নামাজ, রোজা ও কয়েকটি রীতিনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়

আজকাল ইসলাম কয়েকটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান সর্বস্ব ব্যাপার হয়ে দারিয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া, রমযানের রোযা রাখা, হজ্ব করা, লম্বা জামা ও টুপি পড়া এবং জুম্মার নামাজের পর লম্বা দোয়া করা ইত্যাদিকেই বর্তমানে ইসলামের বিধিবিধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমাদের প্রাত্যহিক কার্যাবলীর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। আমাদের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, আমাদের পছন্দ ও অপছন্দ ইসলামের সম্পূর্ণ বিপরীত। টাকা, ফূর্তি এবং স্থুল বাসনা চরিতার্থ করাই এখন প্রত্যেকের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

ইসলাম প্রচলিত অন্যান্য ধর্মের মত নয়। এটি মানবজাতির জন্য একটি ব্যবহারিক ও সামগ্রিক জীবনবিধান। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং জীবনযাপনের নিয়ম-কানুন তিনিই প্রদান করেছেন। আল্লাহ পাক সূরা আল মায়েদাহ্-তে বলেন-

আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে তোমাদের জন্য পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের উপর আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জীবনবিধান হিসেবে মনোনীত করলাম।’

ইসলাম, জীবনযাপন উপযোগী ব্যাপক সমাধান ও আইন প্রনয়ন করেছে। ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক জীবন সহ সবকিছুতেই ইসলাম সুস্পষ্ট আইন ও বিধান প্রদান করেছে। আল্লাহ আমাদের সাথে তার সম্পর্কের পদ্ধতি প্রদান করেছেন, যেমনঃ নামায, রোজা, হজ্ব ইত্যাদির; আবার ব্যক্তির নিজের সাথে নিজের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পদ্ধতি প্রদান করেছেন, যেমন: মানুষ যা খায় এবং যা পড়ে সে সম্পর্কের বিধান। এছাড়াও আল্লাহ তা'আলা সমাজে মানুষ অন্য মানুষের সাথে কিভাবে সম্পর্ক স্থাপন করবে তা নিয়ন্ত্রণ করা জন্যও বিধান প্রণয়ন করেছেন; যেমন কিভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে, কিভাবে শাসনকার্য ও বিচার ব্যবস্থা চলবে এমনকি বিপরীত লিঙ্গের সাথে আচরণ কিরূপ হবে।

সূরা আন-নাহল এ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন-

এবং আমি আপনার নিকট এমন এক পুস্তক প্রকাশ করেছি যাতে সকল বিষয়ে সবিস্তারে বর্ননা করা হয়েছে।’

যেহেতু আমরা আমাদের প্রাত্যহিক জীবন থেকে আল্লাহর মনোনীত দ্বীন-ইসলামকে পরিত্যাগ করেছি, সেহেতু আমাদের জীবনে ধ্বংস, বিশৃঙ্খলা ও হতাশা ভয়ংকর রূপে দেখা দিয়েছে। মানুষের উদ্ভাবিত ধ্যান-ধারনা ও আইনকানুন আমাদের অবস্থার পরিবর্তন করতে সম্পূর্নরূপে ব্যর্থ হয়েছে। এখন সময় এসেছে ইসলামকে কিছু আচার সর্বস্ব ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করার মানসিকতা ঝেড়ে ফেলে একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান হিসেবে গ্রহণ করার।

Thursday, March 28, 2013

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত আলোচনা: পরিবর্তন নাকি সাম্রাজ্যবাদীদের ফায়দা লুটের উত্তম পরিবেশে বাংলাদেশ??

বেশ দীর্ঘ সময় যাবৎ বাংলাদেশের আভ্যন্তরীন পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। শাহবাগ রাজনীতি থেকে শুরু করে অন্যান্য সকল ইস্যুগুলোর ফলে বাংলাদেশ একরকম গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মত দিচ্ছেন অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।

কিন্তু প্রশ্ন হল আসলেই কি বাংলাদেশ গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে নাকি সাম্রাজ্যবাদীদের ধারাবাহিক চক্রান্তের বেড়াজালে ঘুরেফিরে আটকা পরে আছে??

একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে, বর্তমানে যেসকল বিষয়সমূহ আমাদের সামনে সুনিপুণভাবে তুলে আনা হচ্ছে, তার প্রত্যেকটি সাম্রাজ্যবাদীদের সুদীর্ঘ পরিকল্পনার ক্ষুদ্র অংশবিশেষ।

বাংলাদেশে প্রতি নির্বাচন পূর্ববর্তী মৌসুমে এই ধরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়ে থাকে এবং নির্বাচন পর্যন্ত তা টিকিয়ে রাখা হয়। আর এর মধ্যেই জনগণের নিকট ৫ বছর যাবৎ হয়ে আসা যুলুমের সমাধান হিসেবে অপর যালিমকে পছন্দের ব্যাপারটি তুলে ধরা হয়; যে/যারা কিনা এর পূর্বে বারবার প্রতারণা করে আসছে। আর এভাবেই মার্কিন-ভারতের স্বার্থসিদ্ধির দ্বার খোলা থাকে পরবর্তী ৫ বছরের জন্যও।

আর এই চক্রান্তের ধারাবাহিকতায় মূলত এতসকল জাগরণ-আন্দোলনের বহিঃপ্রকাশ; যেখানে সমাধান একেবারেই অনুপস্থিত। আর উম্মাহকে ব্যস্ত রাখা হয়েছে এসকল নাট্যমঞ্চ দ্বারা।

কিন্তু এবার এই চক্রান্ত পূর্বের তুলনায় অধিক ভয়াবহ; কারণ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এই অঞ্চলে চীনের উত্থান এবং পুঁজিবাদের বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি খিলাফতের প্রখর সম্ভাবনা উপলব্ধি করতে পেরেছে এবং সেই লক্ষ্যে তার এজেন্ডা বাস্তবায়নে তড়িঘড়ি শুরু করেছে।

কিছুদিন আগে (১১ই মার্চ, ২০১৩) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার বক্তব্যে এই এই উপমহাদেশে বাংলাদেশকে ঘিরে মার্কিন-ভারতের ঐক্যবদ্ধ চক্রান্তের ধারাগুলো স্পষ্টরূপে ফুটে উঠে।

বাংলাদেশ এবং এই উপমহাদেশকে ঘিরে আমেরিকার পরিকল্পনা সুদীর্ঘ এবং বিগত বছরগুলোতে আমরা এর বাস্তবায়নের পাঁয়তারা দেখে আসছি।

দালাল শসক দ্বারা সামরিক মহড়া থেকে শুরু করে মার্কিন স্বার্থপন্থী চুক্তিসমূহ একের পর এক বাস্তবায়ন ঘটিয়ে যাচ্ছে এবং সেনাবাহিনীর উপর কতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে অবিরত। কারণ, নিষ্ঠাবান সেনা অফিসারদের মাঝে তাদের দালাল সৃষ্টি প্রচেষ্টা সফল হলে, তাদের কুকীর্তি সম্পাদনে সেনাবাহিনীর তরফ থেকে বাধা আসবেনা আর তারা তাদের ঘৃণ্য কার্যক্রম চালিয়ে যাবে নিশ্চিন্তে। আর সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ বছর বাংলাদেশেই তারা আয়োজন করতে যাচ্ছে মিলিটারি-মিলিটারি কনফারেন্স।

তাছাড়া, মে মাসের মাসের ২২ তারিখ বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে আমেরিকা United States Coast Guard Cutter Jarvis নামক একটি নৌযান উপহারের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের পাঁয়তারা করে যাচ্ছে।

মজিনা বাংলাদেশে F.B.I এর উপস্থিতি সুনিশ্চিতকরণ এবং সেনাবাহিনীর সাথে বিভিন্ন যৌথ মহড়ার পাশাপাশি অন্যান্য কার্যক্রম বিস্তারণের কথাও বলেছে; যা বাংলাদেশের জন্য অশনি সংকেত বৈ আর কিছুই নয়।

আমরা যদি পাকিস্তানের দিকে তাকায়, তবে দেখব দালাল শাসকদের সাহায্যার্থে একইভাবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সাথেও যৌথ মহড়ার নামে তাদের জাল বুনেছিল সেনাবাহিনীতে আর পাকিস্তানে “রেইমন ডেভিস” বা “ব্ল্যাক ওয়াটারের” উপস্থিতি সুনিশ্চিত করে। ফলশ্রুতিতে আজ পাকিস্তানের বাস্তবতা ভয়াবহ।

বাংলাদেশ থেকেও একইভাবে ফায়দা লুটতে তারা এই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে; পাশাপাশি F.B.I এখানে জনগণের মাঝে মার্কিন গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাবে; যা কিনা পরবর্তীতে মার্কিনিদের অবস্থান সুনিশ্চিতকরণের দ্বার হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দী চীনকে দমনে সে সাথে করে নিয়েছে ভারতকে। বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যিক চুক্তির নামে ইনদো-প্যাসিফিক করিডোর নির্মানের ব্যবস্থা করছে; যা শুধুমাত্র ভারত-মার্কিন স্বার্থ নিশ্চিত করবে।

যদিও পরবর্তীতে ভারতকেও নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত এই সমঝোতা। আর এতসব চক্রান্ত বাস্তবায়নের ইস্যুগুলো বাংলাদেশে আমরা বর্তমান দেখতে পাচ্ছি।

মজিনা তার বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে পরবর্তী ৫ বছরে বাংলাদশের সেনাবাহিনীর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে তার কার্যক্রমের ব্যাপারে দৃঢ়তা প্রকাশ করেছে। অর্থ্যাৎ, পরবর্তী ৫ বছরের সরকার সম্পর্কে তারা নিশ্চিত আর জনগণকে তারা লেলিয়ে রেখেছে হাসিনা-খালেদার মত গণতান্ত্রিক শসন ব্যবস্থার উচ্ছিষ্ট নিয়ে কামড়া-কামড়িতে।

অথবা, এমন কিছু তথাকথিত আবেগী আন্দোলনের সাথে যেখানে উম্মাহ’র পুনর্জাগরণের সম্ভাবনা পর্যন্ত নেই; বরং লুকিয়ে আছে কাফিরগোষ্ঠী এবং তার দালাল বাহিনীর ভয়ঙ্কর চক্রান্ত।

অবশ্যই, সমধানের জন্য এসকল সাম্রাজ্যবাদী কুফর শক্তি বা তাদের দালালদের কাছে অথবা এই শাসনব্যবস্থার মাঝে ঘুরপাক খাওয়া আবর্জনার মাঝে ঘুরপাক খাওয়ার সমতুল্য।

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে অবশ্যই আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে মার্কিন-ভারতের এইসব চক্রান্তের বিরুদ্ধে এবং তাদের দালালসমূহ ও দালাল তৈরির কারখানা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে, ইসলামী জীবন ব্যবস্থা আলিঙ্গনে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা খিলাফাহ পুনঃপ্রতিষ্ঠা একমাত্র সমাধান।

আল্লাহ আমাদের সত্য উপলব্ধি এবং এর ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাওফীক দিন এবং মুসলিম উম্মাহ’র গৌরব খিলাফাহ রাষ্ট্রব্যবস্থা ফিরিয়ে দিন।
 

Press Release link:



Tuesday, March 26, 2013

Drawing/Painting (At-Tasweer)

[The following excerpt is taken from the book "The Islamic Personality" by famous scholar Sheikh Taqi uddin an-Nabhani (rah)]

Drawing is to trace/draw (rasama) the picture of something, and of drawing is the making of statues (tamathil) and it includes carving/sculpting (naht). The drawing itself or the carving/sculpture is the picture/image (sura) and (suwar) is its plural. It is also called (tasaweer) in the language and it includes sculpting, and it is said linguistically that drawing (tasaweer) is sculpting (tamathil). The Shar’a forbade the drawing of anything with a soul (ruh) in it among humans, animals and birds whether it is drawn upon paper, skin, clothes, vessels/receptacles (awani), jewellery, cash etc so all of this is forbidden since the mere drawing of something in which there is a soul is forbidden whatever the thing being drawn. Drawing that which has not soul in it is permitted without any sin therein. The Shar’a allowed the drawing of trees, mountains, flowers etc which do not have a soul. As for forbidding that which has a soul, this is established by the Shari’ah texts. Al-Bukhari extracted from the hadith of ibn Abbas who said: “When the Prophet (SAW) saw the drawings in the House (Ka’aba), he did not enter until he commanded their effacement (maha).” “From Aisha that she raised a curtain which had drawings. The Messenger of Allah (SAW) entered and removed it. She said: ‘So I cut it into two pillows. I saw him leaning upon one of them and upon it was a drawing.” And Muslim and Al-Bukhari extracted from the hadith of Aisha that she said: “The Messenger of Allah (SAW) entered upon me and I had covered my (sahwa) by a (qiram) in which there were drawings. When he saw it, he tore it. His face changed colour and he said: ‘O Aisha, the people most severely punished on the Day of Judgement are those who imitate the creation of Allah.” The (qiram) is a thin curtain in which there are colours or a curtain in which there are drawings and engravings. In the hadith of Muslim: “From Aisha who said: ‘The Messenger of Allah came from a voyage and I had covered my door with a curtain with a (durnuka) with horses in it with wings. He commanded me and I removed it.’” The (durnuka) is a type of clothing. Al-Bukhari extracted from the hadith of ibn Abbas: The Messenger of Allah (SAW) said: “Whoever draws a drawing, Allah will punish him for it on the Day of Judgement until he breathes a soul/life (ruh) into it whereas he cannot so breathe.” And he extracted via the way of ibn Umar “that the Messenger of Allah (SAW) said: ‘Verily those who make these drawings will be punished on the Day of Judgement. It is said to them: Give life to that which you created.’” From ibn Abbas to whom came a man and said: I draw these drawings and make these statues so give me a fatwa about them. He said: Come close to me. So he came closer until he placed his hand upon his head and said: I inform you from the Messenger of Allah (SAW) what I heard the Messenger of Allah (SAW) saying: “Every drawer is in the Fire. For every drawing he drew, there will be created a soul to punish him in the Hellfire. So if you must do so, then make trees and that which has no soul (nafs).” Ahmad narrated from Abu Hurayra who said: “The Messenger of Allah (SAW) said: ‘Jibril (AS) came to me and said: ‘I would come to you in the night and nothing prevented me from entering the house you were in except that there was a stature of a man in the house, there was a (qiram) curtain in the house and there was a dog in the house. So he commanded to lop off the head of the statue so it becomes like the form of a tree, he commanded to cut the curtain to make of it two (tawtian) pillows and commanded with the dog to be removed. The Messenger of Allah (SAW) did so.’” The (qiram) is the thin curtain of wool with colours. And Al-Bukhari narrated via the way of Abu Juhayfah that he bought a youth who was a cupper (hajjam) so he said: “Verily the Prophet (SAW) prohibited the price of blood, the price of the dog, the earnings of the prostitute and he cursed the taker of riba and its giver, the tattooer, the one tattooed and the drawer.”

These ahadith in their generality request the leaving of drawing decisively, and this is the evidence that drawing is forbidden. It is general including every picture (sura) whether it has a shadow or not, whether it is complete or incomplete. So there is no difference in forbidding drawings between what does or does not have a shadow, and between the complete picture which is able to live and the incomplete picture which is not able to live. All are forbidden due to the generality of the ahadith. And due to the hadith of ibn Abbas about the House (Ka’aba) that the pictures that were in the Ka’aba were drawn in traces without any shadow but the Messenger did not enter until they were effaced. And the hadith of Aisha indicated that the curtain had drawings traced upon it without any shadow. It is narrated that the Prophet (SAW) sent Ali in an expedition and said to him: “Do not leave a statue except that you destroy it, nor a drawing except that you efface it nor an elevated grave except that you level it.” He mentioned both types, the one which has a shadow which is the statue and the one without a shadow which is the drawing that is effaced. The distinction between that which has a shadow and that which has no shadow is not correct nor does it have a basis, and its being living or non-living is not a reason in its forbiddance nor does there exist an evidence excluding it from the forbiddance. As for permitting the drawing of that which has no soul among trees, mountains etc this is because the ahadith which came forbidding drawing restricted the forbidding in the picture which has a soul. This restriction is recognised and has an understanding that is acted upon. Its understanding is that the picture which has no soul inside is not forbidden. Yes, some ahadith came unrestricted but some of them came restricted, and the usuli principle is carrying the unrestricted upon the restricted. The forbidding is only upon the picture which has a soul in it, which is the human being, animal and bird. As for other than these, it is not forbidden to draw them; rather it is permitted. Also the allowance of drawing that which has no soul of trees etc, this came explicitly in the ahadith. In the hadith of Abu Hurayra: “He commanded to lop off the had of the statue so that it becomes like the form of a tree” which means that there is nothing wrong with the statue of a tree. And in the hadith of ibn Abbas: “If you must do so, then make a tree and that which has no soul (nafs).” 

The ahadith which came forbidding drawing are not reasoned nor did there come the reasoning of drawing by any reason, hence no reason is sought. As for what ibn Umar narrated of the statement of the Messenger: “It will be said to them: ‘Give life to that which you created’” and what came in the hadith of Aisha about drawing: “The people most severely punished on the Day of Judgement are those who imitate the creation of Allah”, all this did not come in the form of reasoning. No reason is understood from the words and sentences in these ahadith. All that is in the matter is that the Messenger likens (yushabbihu) drawing with creation and the drawers with the Creator. The resemblance (tashbeeh) does not mean reasoning nor does it become a reason since resemblance of something with something does not make that which is likened to the reason for that which resembles; rather it is possible to be a description for it, and the description of the thing is not a reason for it. Accordingly it is not said that drawing is forbidden because there is an imitation of the creation of Allah therein. Allah ta’ala created mankind, animals and birds and He created trees, mountains and flowers. So if drawing human beings, animals and birds is forbidden for the reason of imitating the creation of Allah then this reason exists in trees, mountains, flowers etc since they are also created by Allah so, at that point, drawing them is forbidden due to the existence of the reason in their drawing. The reason revolves around that which is reasoned in presence and absence even though the texts came permitting the drawing of trees and everything that has no soul. Accordingly drawing human beings, animals and birds is forbidden due to the text which came forbidding them and not for any reason. Drawing trees, mountains and everything without a soul is permitted without any sin therein due to the texts which came to allow it.

The drawing which Allah forbade is only the tracing/drawing (rasm) or engraving etc which a human performs directly by himself. As for drawing (tasweer) via the way of photographic equipment, it is not included nor is it of the forbidden drawing but rather it is allowed. This is because its reality is that it is not drawing, but is only the transporting (nuql) the shadow (dhill) from the reality to the film nor is it drawing a person by the drawer. The drawer by photographic equipment does not draw the person but only prints (intaba’a) the shadow of the person upon the film by means of the equipment so it is transporting of the shadow not drawing and via the means of equipment not by the drawer. So it does not enter into the prohibition which came in the ahadith. The ahadith say: “Those who make these drawings”, “Verily I drew these drawings”, “Every drawer”, “the drawers.” The one who takes the picture of the person or animal with photographic equipment does not make these pictures nor does he perform this drawing nor is he a drawer. Rather it is the photographic equipment which transports the shadow to the film nor does he do anything other than moving the equipment. Therefore he is not a drawer nor is it possible for him to be a drawer by any means whatsoever; thus the prohibition does not include him at all. Also the drawing whose forbidding came in the ahadith has been described and its type limited, and this is the one which imitates the creation of Allah and the one in which the drawer resembles the Creator in relation to how he creates a thing. So he creates a picture either by tracing/drawing it from his mind or drawing it from its origin present in front of him; in both these cases he created the picture because he is the one in whom there is creativity (ibda’). As for the photographic picture, it is not of this type since it is not creating the picture nor does creativity exist therein; it is merely printing the shadow of something existing upon film. Hence it is not considered of the type of drawing whose forbiddance came in the ahadith, and the ahadith do not apply upon it nor is it included under it in forbidding. The technical reality of the picture by hand and the photographic picture completely strengthens that; they are two types whodiffer completely. The technical (faniyya) pictured drawn by hand and it is not the photographic picture (whether) technically or in creativity. From here, additionally, the photographic picture is allowed without blame in it.

This is in relation to drawing as it is. As for possessing (iqtina) the picture which is drawn, if it was in a place prepared for worship like a mosque, musalla and their like, this is definitely forbidden due to what came in the hadith of ibn Abbas that the Messenger (SAW) refused to enter the Ka’aba until the pictures were effaced. This is a decisive request to leave so it becomes an evidence of forbidding. As for possessing it in a place not prepared for worship like houses, offices, schools etc there is detail and explanation therein. If the picture were possessed in a place where it is treated with respect (ta’dhim), it is disliked (makruh) not forbidden. If it is a place where it is not treated with respect, it is permitted without blame therein. As for its being disliked in the place where the picture is treated with respect, it is due to the hadith of Aisha that the Messenger removed the curtain which had a picture and the hadith of Abu Hurayra that Jibril refused to enter the house because there was a statue, picture and a dog therein. As for this dislike being specific to the picture placed in a place of respect and there being no blame if it exists in a place where it is not treated with respect, this is because of the hadith of Aisha that the Messenger removed the curtain in which there was a picture when it was elevated, and he leaned upon the elbow while there was a picture therein. And due to the hadith of Abu Hurayra in which Jibril said to the Messenger: “And command the curtain to be cut off to be made two pillows of it (tawtian)” which indicates that the prohibition is (musallat) upon placing the picture in a place of respect for it nor is it (musallat) upon possessing it.

As for placing the picture in a place wherein it is treated with respect being disliked not forbidden, this is because the prohibition which came in the ahadith was not linked to any connotation indicating decisiveness like a threat against the possessor of the picture or censuring him or the like as came in drawing; rather it came merely requesting to leave (it). There came other hadith prohibiting possessing statues and permitting possessing the embroidered (marquma) picture i.e. traced (marsum), which is considered a connotation that the prohibition is not decisive. In the hadith of Abu Talha in Muslim with the words: “I heard the Messenger of Allah (SAW) saying: ‘The angels do not enter a house in which there is a dog or picture” and in the narration via a way narrated by Muslim that he said: “…except (raqm) upon a garment (thawb).” This indicates the exclusion of the embroidered (marquma) picture in the garment and its understanding is that the angels enter the house in which there is a carving (timthal) embroidered upon a garment i.e. a plicture traced/drawn in sketching (rasm). If this hadith is joined to the other prohibiting ahadith, it is a connotation that the request to leave is not decisive so possessing the picture in a place where it is treated with respect is disliked not forbidden.


Sunday, March 24, 2013

ইসলামের বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা

ইসলামের বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থাকে বর্বরোচিত এবং পশ্চাদপদ হিসাবে আখ্যায়িত করে ইসলামের শত্রুরা ব্যাপকভাবে আক্রমণ করে আসছে। এই অপবাদ নিরসন করতে আজকের এই প্রবন্ধে ইসলামের বিচার এবং শাস্তির ব্যবস্থার উপর আলোকপাত করা হয়েছে এবং পশ্চিমাদের অপপ্রচার (বিকৃতি) উন্মোচন করা হয়েছে।

ইসলামের বিচার ব্যবস্থা:

যে কোন বিষয়ে ইসলামের সিদ্ধান্ত বা রায় কে বাধ্যতামূলকভাবে প্রয়োগ করাকে ইসলামের বিচার ব্যবস্থার মূলনীতি হিসাবে গ্রহণ করা হয়েছে। এটি নিম্নলিখিত দায়িত্বগুলো পালন করবে:

১) জনগণের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি;

২) সামাজিক অধিকারের জন্য ক্ষতিকর সবকিছু প্রতিহত করা;

৩) জনগণ এবং সরকারের (যথা- খলীফা, ওয়ালী’র ইত্যাদির) মধ্যে উদ্ভুত বিরোধ নিষ্পত্তি করা।

ইসলামের জন্মলগ্ন থেকেই আদালত এবং বিচার ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে যা ইসলামের আইনের মৌলিক উৎস যথা- কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াস দ্বারা পরিবেষ্টিত (নিয়ন্ত্রিত)।

একজন প্রধান বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে বিচারিক অঙ্গনের কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হয়, যিনি অন্যান্য সকল বিচারক নিয়োগ এবং স্তর/ কার্য পরিধি নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করেন।

ইসলামের তিন ধরণের বিচারকের অস্তিত্ব বিদ্যমান। খলীফা একজন বিশ্বস্ত, যোগ্য, ও ন্যায়পরায়ন বিচারককে প্রধান বিচারপতি বা কাযী-উল্-কুযাত নিয়োগ করবেন। প্রধান বিচারপতি বিধি মোতাবেক নিন্মলিখিত বিচারকদের নিয়োগ করবেন:

১. কাযী-উল্-খুসুমাত - কাযী উল খুসুমাত পারিবারিক আইন, চুক্তি আইন, ক্রিমিনাল আইন ইত্যাদি ব্যাপারে বিচারকার্য পরিচালনা করেন।

২. কাযী-উল্-মুহতাসিব - কাযী উল মুহতাসিব ব্যবসা পরিদর্শক, অসামাজিক কার্যকলাপ বিরোধী পরিদর্শক, পরিবেশ ও স্বাস্থ্য পরিদর্শক তথা জনস্বার্থ দেখাশুনাকারী বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কাযী মুহতাসিবের রায় প্রদান করার জন্য কোন বিচারালয় প্রয়োজন হয় না। তিনি যেকোন সময়ে যেকোন জায়গায় অপরাধ সনাক্ত করতে পারলে সাথে সাথে সেখানেই রায় প্রদান করে তা পুলিশের সাহায্যে বাস্তবায়ন করতে পারেন।

৩. কাযী-উল্-মাযালিম - কাযী-উল-মাযালিম খলীফা থেকে শুরু করে শাসকগোষ্ঠীর যেকোন ব্যক্তির যে কোন ধরণের অন্যায় আচরণের ব্যাপারে আইনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। তিনি বাদি ছাড়াই নিজে উদ্যোগী হয়ে রাষ্ট্রের যে কোন দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারেন। খলীফার বিরুদ্ধে মামলা চলাকালীন সময়ে এই আদালতের বিচারককে পদচ্যুত করা যাবেনা।

সকল বিচারককে অবশ্যই মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন, স্বাভাবিক বুদ্ধি সম্পন্ন/ সুস্থ মস্তিস্ক/ প্রকৃতিস্থ, ন্যায়পরায়ণ/ সৎ এবং বিচারিক জ্ঞান সম্পন্ন অর্থাৎ কোন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিকে কোন নীতি কিভাবে প্রয়োগ হবে তা জানতে হবে। সরকারের অন্যায় কাজের বিচারের জন্য নিযুক্ত বিচারকের অতিরিক্ত যোগ্যতা হলো তাঁকে অবশ্যই পুরুষ হতে হবে এবং মুজতাহিদ (যিনি ইজতিহাদের যোগ্যতা রাখেন) হতে হবে।

যে কোন শাসক, প্রশাসক, কর্মকর্তা এমনকি খলীফাকেও পদচ্যুত করবার কর্তৃত্ব রয়েছে কাজী মাযালমি এবং তা রাসূল (সাঃ) ও খুলাফায়ে রাশেদীনের সময় সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল। রাসূল (সাঃ) আব্দুল্লাহ্ ইবনে নাওকেল (রাঃ) কে মদিনার বিচারক নিযুক্ত করেছিলেন এবং রশিদ ইবনে আবদুল্লাহকে বিচার ব্যবস্থার প্রধান ও অভিযোগ সংক্রান্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ করেন। ।(ইবনু ইসহাক খণ্ড ৪ ও ইমাম শা’ফীর “সহজ আইন বিজ্ঞান”)। একজন বিচারক দিয়ে একটি আদালত গঠিত হয় এবং তিনিই রায় দেওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত। অন্য আরও বিচারক থাকতে পারেন, তবে তাঁরা কেবলমাত্র পরামর্শ দ্বারা সহযোগিতা করতে পারেন। প্রকৃত অর্থে তারা বিচারক নন। কারণ রায় নির্ধারিত হয় ইসলামের মৌলিক উৎস দ্বারা, পশ্চিমাদের মত মানব মস্তিস্ক দ্বারা নয়। যেহেতু কেবলমাত্র শতভাগ প্রমাণিত হলেই ইসলামে শাস্তি কার্যকর করার বিধান বিদ্যমান রয়েছে তাই ইসলামে আপীল আদালত নেই। সাক্ষ্য প্রমাণে কোন প্রকার সন্দেহ থাকলেই ঐ মোকদ্দমা বাতিল হয়ে যায়। যখন সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়ে যায়, তখন ঐ বিষয়ে প্রদত্ত রায় স্বয়ং আল্লাহর রায় হিসাবে গণ্য হয় এবং তা ফিরিয়ে নেয়া যায় না।

বিচার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা

· ইসলামী রাষ্ট্রে শরিয়াহ্ অনুযায়ী বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা । যেহেতু খিলাফত রাষ্ট্রে বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন, সেহেতু বিচার বিভাগ জনগণের উপর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে করে।

· খিলাফত রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থা নিরপেক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত। বিচারকের অন্যায়ের ব্যাপারে ইসলাম কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছে। এজন্য বিচারকগণ শরীয়াহর প্রত্যেকটি আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবেন এবং পরিপূর্ণ দায়িত্ববোধ থেকে কর্তব্য পালন করেন।

· খিলাফত রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রিতার কোন অবকাশ নাই। নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য নির্দিষ্ট আইন বিদ্যমান থাকায় দ্রুত বিচার কার্যক্রম এই শাসন ব্যবস্থার একটি গতিশীল দিক।

· বিচার প্রাপ্তি সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যূনতম সরকারী ফি নির্ধারণ ও নিশ্চিতকরণ করা হয়ে থাকে।

· বিচার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধানের লক্ষ্যে খিলাফত রাষ্টের বিচার ব্যবস্থা রাষ্ট্রের প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি নাগরিকের হাতের নাগালের মধ্যে নিয়ে যাওয়া খলিফার দায়িত্ব। তাই জনগণকে বিচার প্রাপ্তির জন্য অযথা হয়রানিমূলকভাবে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করে আর্থিক, শারীরিক ও মানসিক কষ্ট স্বীকার করতে হয় না।

ইসলামের শাস্তির ব্যবস্থা: (নিজাম আল উকুবাত)

ইসলামের শাস্তির ব্যবস্থা তথা দন্ডবিধি হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার দয়ার প্রমাণ এবং ইসলামের সৌন্দর্য্য। দন্ডবিধির মূলনীতি সমূহ নিম্নরূপ:

১) একজন মুসলিম (পুরুষ বা নারী) তার প্রত্যেকটি কাজের জন্যই দায়িত্বশীল। শরীয়াহতে যে সকল অপরাধের শাস্তি নির্দিষ্ট করা আছে তা রাষ্ট্র কার্যকর করবে। সমাজকে রক্ষা করে শুধুমাত্র এই কারণেই এই নীতি গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং শরীয়াহ্ আদালতের মাধ্যমে কোন অপরাধের শাস্তি হয়ে গেলে ঐ একই অপরাধের জন্য আখিরাত তথা পরকালের শাস্তি থেকে পরিত্রাণ পাওযা যায়। কারণ দুনিয়ার তুলনায় আখিরাত বা জাহান্নামের শাস্তি বহুগুণ কঠিন এবং যন্ত্রণাদায়ক। রাসূল (সাঃ) এর সময় অনেক মুসলিম তাদের নিজেদের অপরাধ নিজেরাই স্বীকার করতো, কারণ শেষ বিচারের দিন তাদের ঐ অপরাধ আমলনামায় গণ্য হোক তা তারা চাইতো না। আবু দাউদ হতে বর্ণিত, যখন একজন লোক নিজের অবৈধ যৌনাচার নিজে স্বীকার করল এবং পাথর নিক্ষেপ করে তাকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়া হলো তখন রাসূল (সাঃ) বললেন “কস্তূরীর সুগন্ধির চেয়ে সে আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দীয়”। অপর একটি হাদীসে বর্ণিত আছে, আবু দাউদে বর্ণিত, “রাসূল (সাঃ) এর নিকট একজন মহিলা আসলো এবং বললো, ‘আমি জেনা করেছি’। রাসূল (সাঃ) বললেন, ‘চলে যাও’। সে ফিরে গেল এবং পরের দিন আবার আসলো এবং বললো “সম্ভবতঃ আপনি আমাকে ফিরিয়ে দিতে চান যেমনি দিয়েছিলেন মা ইয বিন মালিককে। আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি আমি গর্ভবতী।” তিনি (সাঃ) বললেন, ‘চলে যাও’, এবং শিশুর জন্মের পর আস, সে শিশুর জন্মের পর আসলো এবং বললো, “এইতো সে। আমিই তাকে জন্ম দিয়েছি।” তিনি (সাঃ) বললেন, ‘চলে যাও এবং তাকে পান করাও যে পর্যন্ত না স্তন না ছাড়াও’। যখন মহিলাটি শিশুটিকে স্তন ছাড়াল তখন সে তাকে নিয়ে রাসূল (সাঃ) এর নিকট আসলো। এই সময় শিশুটির হাতে কিছু ছিল যা সে খাচ্ছিল। তখন শিশুটিকে মুসলিমদের মধ্যে একজনকে দেয়া হল এবং রাসূল (সাঃ) মহিলাটির বিষয়ে নির্দেশ দিলেন- অতঃপর তার জন্য একটি গর্ত খোড়া হল এবং তিনি (সাঃ) তার বিষয়ে নির্দেশ দিলেন এবং মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হল। যারা পাথর ছুড়েছিল তাদের মধ্যে একজন খালিদ। সে তাকে একটি পাথর নিক্ষেপ করলো। যখন মহিলাটির এক ফোঁটা রক্ত তার গালে পড়ল, তখন সে মহিলাটিকে গালি দিল। তখন রাসূল (সাঃ) তাকে বললেন, “হে খালিদ, বিনীতভাবে। সেই স্বত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, সে এতবেশি অনুতপ্ত হয়েছে যে, যদি কোন বর জালেম ও এই ধরণের তওবা করত তবে সে ও মাফ পেয়ে যেত। ।” এরপর তার বিষয়ে নির্দেশ দেয়া হল, তিনি (সাঃ) তার জন্য দোয়া করলেন এবং তাকে কবর দেওয়া হল। (মুসলিম)

২) দন্ডবিধির নীতি হল “শাস্তিকে যথাসম্ভব নিবৃত্ত করা”, যেহেতু শাস্তির কঠোরতা নিবৃত্তির প্রাথমিক কাজ করে। কোন প্রমাণের অংশ বিশেষ ও যদি সন্দেহজনক হয় তা শাস্তি নিবৃত্ত করবে। যখন রাসূল (সাঃ) এর নিকট কোন লোক এসে তাদের অপরাধ স্বীকার করে তাদের উপর শাস্তি কার্যকর করার আবেদন জানাতো তখন রাসূল (সাঃ) শাস্তি প্রয়োগ করা হতে নিজেকে সরিয়ে রাখতে কিভাবে চেষ্টা করতেন তা সীরাতে বর্ণিত আছে। তিনি (সাঃ) বলেছেন, “একজন নিরপরাধীকে শাস্তি প্রদান করার চেয়ে একজন অপরাধীকে মুক্তি দেয়া উত্তম।” একজন ইমামের জন্য ভুলক্রমে একজনকে শাস্তি দেয়ার চেয়ে ভুলক্রমে একজনকে ক্ষমা করা উত্তম।”

এরপরেও কি একজন মুসলিম ইসলামী দন্ডবিধির বিরুদ্ধে পশ্চিমা আক্রমণ কল্পনা করতে পারে। আসলে এই বিষয়ে তাদের মিথ্যা প্রচার এবং বিকৃতিতো রয়েছেই, দায়ী তাদের অজ্ঞতাও।

অধিকন্তু পশ্চিমাদের তুলনায় ইসলামের সৌন্দর্য লক্ষ্য করুন। তাদের মৌলিক দর্শন হচ্ছে কাউকে অভিযুক্ত করা বা সাজা দেয়ার জন্য সামান্য একটুকরা দলীল খোঁজা বা সাক্ষী যোগাড় করে তার মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণ করা। ষষ্ঠ বার্মিংহাম কিংবা ৪র্থ গিলফোর্ডের কথা স্মরণ করুন যারা প্রত্যেকেই জেলখানায় কয়েক বছর সাজা ভোগ করার পর নিরপরাধী প্রমাণ হয়েছিল। ইসলামের পুনরুত্থানের দুশ্চিন্তায় পশ্চিমারা আজ এতটাই বিকাররগ্রস্থ হয়ে পড়েছে যে, একজন মুসলিমকে সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে সাজা দেয়ার জন্য তার মুখের দাঁড়ি কিংবা পরিধানের হিজাবকেই পশ্চিমারা যথেষ্ট/ পর্যাপ্ত প্রমাণ হিসাবে বিবেচনা করছে!

৩) ইসলাম পাঁচটি বিষয় সংরক্ষণ করে যা জিম্মিদের (অমুসলিম নাগরিক) ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “যে কোন জিম্মির ক্ষতি করলো, সে যেন আমারই ক্ষতি করলো।” তাছাড়া ইসলামী রাষ্ট্রের মধ্যে সকল নাগরিককে সমান দৃষ্টিতে দেখা হয় এবং এক্ষেত্রে কোনরূপ বৈষম্য বৈধ নয়। বিষয়গুলো নিম্নরূপঃ

ক) বিশ্বাস: পশ্চিমা ধর্ম নিরপেক্ষ নীতি ধর্মকে ক্রমাগত আক্রমণের বিষয়বস্তুতে পরিণত করেছে। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ইসলাম নয়, যে কোন ধর্মীয় বিশ্বাস, এমনকি খৃষ্টাণ ধর্ম এবং আমাদের পূর্ববর্তী নবী-রাসুলগণ যথা ঈসা (আঃ)-কেও আক্রমণ এবং অসম্মান করার পিছনে তাদের তথাকথিত বুদ্ধিজীবিরা অপরিমিত সময় অপচয় করেছে এবং করে যাচ্ছে। পবিত্র কুরআনে আছে “দ্বীনের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই” (২.২৫৬) অর্থাৎ অমুসলিমদেরকে ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য করা যাবে না এবং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস লালন ও পালনের অধিকার সংরক্ষিত। কিন্তু ইসলামী আক্বীদা-ই যেহেতু দ্বীনের ভিত্তি, তাই যে কোন অমূল্য রত্নের মতই দ্বীনকে সংরক্ষণ করা হয়। আর তাই কেউ একবার ইসলাম গ্রহণ এবং উপদেশ প্রাপ্ত হবার পর ত্যাগ করতে চাইলে তার শাস্তি হচ্ছে ইসলাম বিশ্বাসকে অপমান করার শাস্তির মতই মৃত্যুদন্ড। অদ্ভূত বিষয় হচ্ছে, সালমান রুশদী কিংবা সম্প্রতি বাংলাদেশের তাসলিমা নাসরিনের বিষয়টিকে পশ্চিমারা অগ্রহণযোগ্য দাবী করে, আবার তারাই নিজেদের বিশ্বাসের নামে অন্য মানুষকে হত্যা এবং ধ্বংস করার নীতি অবলম্বন করে।

খ) সম্মান: ইসলামে নারীর সম্ভ্রমকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে দেখা হয় এবং নারীকে যে কোন প্রকার ক্ষতি, অপমান, অপবাদ থেকে কঠোরভাবে নিরাপত্তা দেয়া হয়। এটি রাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক। এটি পুরোপুরিই পশ্চিমা নীতির বিপরীত, যারা নারীকে কেবলমাত্র কামনার দৃষ্টিতেই দেখে এবং নারী দেহকে বিপনন যোগ্য পণ্যের মতই ব্যবহার করে। যারা পেছনে/ অসাক্ষাতে কোন নারীর বিরুদ্ধে অপবাদ রটনা করে তাদের শাস্তি দেয়ার মাধ্যমেও ইসলাম নারীকে সুরক্ষা দিয়েছে। অধিকন্তু যারা জনসমক্ষে সঠিকভাবে নিজেদেরকে পর্দা দ্বারা আবৃত করেন না এবং যারা ব্যভিচার বা জিনা করে তাদেরকে শাস্তি প্রদানের মাধ্যমেও ইসলাম নারীর সম্ভ্রম ও মর্যাদাকে সমুন্নত করেছে।

গ) চিন্তা/মন/মস্তিস্ক: মদ পান এবং যে কোন বস্তু যা মস্তিস্ককে নেশাগ্রস্থ করে, তা ইসলামে নিষিদ্ধ। অপরদিকে পশ্চিমারা মদের উপরই জীবন-যাপন করছে, আর এখন তারা নেশাকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করছে। এসব বিষয় যখন তাদের সামাজিক মূল্যবোধ এবং নৈতিকতাকে ধূলিস্মাৎ করে দিচ্ছে তারা এখন বিকল্প সমাধান সন্ধান করছে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

ঘ) সম্পদঃ পশ্চিমা সরকারগুলো, তাদের ব্যাংক এবং এই ধরণের সংস্থাগুলো যেভাবে কৌশলে অত্যন্ত সভ্য চেহারা নিয়ে জনগণের সম্পদ প্রতিনিয়ত চুরি করে যাচ্ছে, ইসলাম সেখানে চুরির অপরাধ ঠেকাতে হাত কাটার মত কঠোর শাস্তির বিধান রেখে জনগণের সম্পদ সুরক্ষা করেছে। এই শাস্তিটাকে পশ্চিমারা বর্বরোচিত এবং পশ্চাদপদ আখ্যায়িত করে প্রবলভাব আক্রমণ করে আসছে। অথচ এই আক্রমণ একেবারেই ভিত্তিহীন, বরং তা ইসলামের প্রতি তার শত্রুদের প্রবল ঘৃণা এবং বিকৃতির ষড়যন্ত্র দিবালোকের মত উন্মোচন করতে সাহায্য করে। কারণ চুরির অপরাধে কারো হাত কাটতে হলেও কয়েকটি কঠিন শর্ত পূরণ করতে হয়। যথাঃ দুজন সাক্ষী থাকতে হবে, সম্পদ নিরাপদ স্থান হতে হস্তগত হতে হবে। এছাড়া যদি এমন কেউ চুরি করে যে নিতান্ত দরিদ্র এবং নিরুপায় ছিল, তাহলে উপরোক্ত শর্তগুলো পূরণ হলেও শাস্তি প্রযোজ্য নয়, যদি নির্দিষ্ট পরিমাণের (নিসাব) চেয়ে কম সম্পদ চুরি করে তাহলেও হাত কাটা হবে না। এগুলো এবং আরো কিছু শর্ত শাস্তির সম্ভাব্যতা হ্রাস করে অনেকাংশে।

ঙ) জীবন: রাসূল (সা) বলেছেন, “কা’বা” গৃহ এবং এর চতুর্পার্শে যা কিছু আছে তার চেয়ে একজন মুসলিমের রক্ত অধিক মূল্যবান।” আর তাই হত্যার শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড। অবশ্য নিহতের পরিবার ইচ্ছা করলে দিয়তের বিনিময়ে ক্ষমাও করতে পারে।

প্রত্যেক মানুষই এইসব নিরাপত্তা আকাঙ্খা করে যা শুধুমাত্র ইসলাম নিশ্চিত করে। যে কোন পুরুষ বা নারী জিজ্ঞেস করুন, তারা জীবন, সম্পদ, সম্ভ্রম ইত্যাদির নিরাপত্তা চায়। আর ইসলাম ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোন সমাজই এসব নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান করে না বরং পশ্চিমে প্রায়ই এসব নিরাপত্তার লংঘন এবং অপব্যবহার ঘটে থাকে। মাথার উপর ঋণের বোঝা, তার সাথে অপরাধের উচ্চতার, বিশেষতঃ ধর্ষন, চুরি ইত্যাদি এবং সেই সাথে এই সকল সমস্যার সমাধানহীন জীবন ব্যবস্থায় কোনভাবেই মানসিক প্রশান্তি অর্জন সম্ভব নয়।

ইসলামের দন্ডবিধি চার ভাগে বিভক্ত:

১) হুদুদ: এই শাস্তি হচ্ছে “আল্লাহর (সুবহানাহুতা ওয়া তা’আলা) অধিকার এবং তা কেউ ক্ষমা করতে পারে না।” ছয়টি ক্ষেত্র এর অন্তর্ভূক্ত:

ক) অবিবাহিত পুরুষ/ নারীর ব্যভিচার: (১০০ দোররা বা চাবুকের আঘাত), বিবাহিত পুরুষ/ নারীর ব্যভিচার: (পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা), সমকামিতা: (মৃত্যুদন্ড)।

খ) অপবাদ দেওয়া, সম্মান নষ্ট করা, মিথ্যা কথা প্রচার করা এবং উড়ো খবর রটানো (৮০ দোররা)।

গ) চুরি (হাত কাটা)

ঘ) মদ পান করা এবং নেশা করা (৮০ দোররা)

ঙ) দুই দল মুসলিম দ্বারা আইন লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘন। যথাঃ খলীফা আবু বকর (রাঃ) এর সময় মুরুতাদদের যাকাত অস্বীকার করার বিষয়।

চ) মুরতাদ, অর্থাৎ কোন মুসলিম ইসলাম ত্যাগ করা (মৃত্যুদন্ড)।

২) আল-জিনায়াত: “ব্যক্তির অধিকার এবং ক্ষমা করারও অধিকারী”। মূলতঃ হত্যাকান্ড সংক্রান্ত ঘটনাগুলো হতে পারে তা বেআইনীভাবে কিংবা দূর্ঘটনাবশতঃ, এবং নিহত ব্যক্তির স্বজন বা পরিবারের দিয়তের বিনিময়ে ক্ষমা করার অধিকার এই ক্ষেত্রের অন্তর্ভূক্ত। উদাহরণ স্বরূপঃ

ক) যে ব্যক্তি উদ্দেশ্যমূলকভাবে খুন করে তার ক্ষেত্রে দিয়ত হচ্ছে ১০০ উটের সমপরিমাণ যার মধ্যে ৪০টি হতে হবে গর্ভবতী।

খ) যদি কোন ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃতভাবে কাউকে খুন করে সেক্ষেত্রে তার দিয়ত হচ্ছে ১০০ উটের সমপরিমাণ।

ইমাম আন-নাসায়ী তার বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেন যে, শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গের জন্য দিয়ত রয়েছে, যেমন চোখের জন্য রক্ত পণ হচ্ছে ৫০টি উটের সমপরিমাণ।

৩) আল-তা’জির: এটি হচ্ছে “সমাজের অধিকার”। যা কিছু সমাজের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে তা এই ক্ষেত্রের অন্তর্ভূক্ত, যেমন- রাস্তায় দাঁড়িয়ে চিৎকার-চেচাঁমেচি করা বা রাস্তায় আবর্জনা ফেলা ইত্যাদি। রাষ্ট্রই এই ধরণের অপরাধের শাস্তি নির্ধারণ করে।

৪) আল-মুখালাফাত: এটি হচ্ছে “রাষ্ট্রের অধিকার”। এই ক্ষেত্রের অন্তর্ভূক্ত বিষয়ে রাষ্ট্র নিজেই নিয়ম/ আইন তৈরী করে থাকে। যেমন- রাস্তায় গাড়ির গতিসীমা অতিক্রম, যেখানে গাড়ি রাখার নিয়ম নেই সেখানে রাখা ইত্যাদি।

সর্বশেষ বলা যায়, বিচার করা এবং শাস্তি প্রয়োগ করার বাধ্য বাধকতার মধ্যেই বিচার এবং শাস্তির ব্যবস্থার মূল ভিত্তি নিহীত রয়েছে। কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্র ব্যতীত কোন ব্যক্তির জন্য কোন প্রকার শাস্তি কার্যকর করা বৈধ নয়। ইসলামি বিচার ও শাস্তি ব্যবস্তার এই সকল দায়িত্ব কার্যকর ভাবে প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক, অন্যথায় পুরা উম্মাহ্ এর জন্য দায়ী থাকবে, যদিও তারা সালাত আদায় করে, হজ্ব করে, যাকাত দেয়। এই দায় থেকে অব্যাহতি পেতে রাসুল (সাঃ) এর সুন্নাহর অনুসরণে ইসলামী রাষ্ট্র তথা খিলাফত প্রতিষ্ঠার কাজে যোগ দেয়া সকল মুসলিমের জন্য বাধ্যতামূলক তথা ফরয। এই রাষ্ট্রই আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করবে।

“The Judicial And Punishment System” প্রবন্ধ থেকে অনূদিত
এস আহমেদ
৩০/১/২০১৩

Wednesday, March 20, 2013

অধিকতর গণতন্ত্রচর্চাঃ জঙ্গলযাত্রা শুভহোক

মানুষ আর প্রাণীজগতের অন্য জন্তুগুলার মাঝে পার্থক্য কেবলই চিন্তা করিবার সামর্থ্যের উপর। প্রাণীকুলের চিন্তাশক্তি (intellect) না থাকায় ইহারা প্রবৃত্তি (instinct) দ্বারা পরিচালিত হয়। টিকিয়া থাকিবার প্রবৃত্তি তাহাদের ঐক্যবদ্ধ করে আর পারস্পরিক চাহিদা পূরণে দলবদ্ধভাবে শিকার করিয়া থাকে।

এই সময়ের রাষ্ট্রগুলা যেমন টিকিয়া থাকিবার প্রবণতা নামক জংলী নীতিতে গড়িয়া উঠিয়াছে, তেমনই মানুষের ঐক্যবদ্ধ হইবার যে বন্ধন তাহাও স্রেফ পারস্পরিক স্বার্থে। বস্তুগত লাভের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হইবার এই বন্ধনকে ডাকাতির বন্ধনও বলা যায়। কারণ ডাকাতগণ ডাকাতির মাল ভাগাভাগিতে খুব সততার পরিচয় দেয়। যদিও ইহাদের কর্মই অনৈতিক। এইখানে মুনাফাই নীতি, সর্বোচ্চ মুনাফাই বড় সাফল্য। আর এই নীতির আদর্শিক রূপকে আদর করিয়া পুঁজিবাদ নামে ডাকা হয়। যাহার রাষ্ট্রীয় শোষণ নীতির নাম হইল গণতন্ত্র।

এই রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি উপাদানের সহিত মুনাফা জড়িত। শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ, সংবাদপত্র, আইন রক্ষাকারী বাহিনী সবাই শীতের রাত্রিতে সারমেয় প্রজাতি যেমন খড়ের গাঁদা খুঁজিয়া নেয় তেমনই সুবিধা প্রদানকারী পক্ষ খুঁজিয়া নেয়। ইহারা মুনাফা অর্জনকারী যত দাবী আছে ঐগুলা নিয়া পড়িয়া থাকে এবং ইহাকেই গণদাবীরূপে উপস্থাপন করিবার প্রয়াস চালায়। যেমন করিয়া না খাইয়া মরা জনগণের প্রাণের দাবী কেয়ারটেকার সরকার বলিয়া একপক্ষ আবদার করে তো অপরপক্ষ শাসাইয়া কহে যুদ্ধাপরাধীর বিচার না করিলে এই জনগণ হার্ট অ্যাটাকে পটল তুলিবে।

এই ব্যবস্থার পরতে পরতে জংলী সৌন্দর্য প্রতিভাত হয়। গুলি করিয়া মারিবার ক্ষেত্রে যেমন মহামানবিক ধারাবাহিকতা, তেমনই শত খুনের অপরাধীকে ক্ষমা করিতে অমানবিক উদারতা। প্রতি পঞ্চবার্ষিক মেয়াদ শেষে ইহাদের নির্বাচন নামক শয়তানের আরাধনার আয়োজন করা হয় যাহার প্রস্তুতি হিসাবে কিছু মানব বলি দেওয়া লাগে পরাশক্তি নামক খোদাকে দেখাইতে যে আমরাই পরবর্তী মেয়াদে তোমার পূজার হকদার। শয়তানের কিছু প্রতিনিধি আছে যাহারা এই ব্যাপারগুলার দেখাশুনা করিয়া থাকে।

আবার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলাতেও পশুপাখির মত জংলী ঐক্য দেখা যায়। এই যেমন, কোন সাংবাদিক মরিল তো কেউ কিছু কহিবে না, খালি সাংবাদিকেরাই কাউয়াসদৃশ কা কা করিবে। পুলিশ মরিল তো কেবল  পুলিশপ্রজাতি কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ করিবে, নেতা মরিল তো কেবল তাহার দলের লোকজন শুয়োরের মত ঘোঁত ঘোঁত করিবে। আর আমজনতা হইল গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগীর মত। ইহারা মরিলে কিছু আসিবে যাইবে না। কেবল চিল, শকুনের মত কিছু লোক ছুটিয়া আসিবে এই লাশগুলা নিয়া কিভাবে ফায়দা হাসিল করা যায় এই নেক মকসূদ নিয়া।

তবুও আমরা আরেকটা নির্বাচনের আশায় বসিয়া থাকি। ভাবি এইবার কোন মহাত্মা আসিয়া আমাদিগকে উদ্ধার করিয়া লইয়া যাইবে। কিন্তু চিন্তা করিয়া দেখি না সমস্যা কোথায়। রাষ্ট্র চলিবে জঙ্গলের নীতিতে অথচ আশা করিতেছি এইখান থেকে মানুষ জন্মাইবে। যখন মানব সন্তান তাহার শ্রেষ্ঠত্ব যেই চিন্তা শক্তির কারনে তাহার ব্যবহার ব্যতিত শুধুমাত্র মুনাফার ভিত্তিতে জীবন চালাইবে তখন পরিণতি তো এইটাই হইবে। অথচ এই রাজনীতিবিদ, পুলিশ, বিচারক সব এই সমাজ হইতে জন্ম নিয়া এইখানেই বাড়িয়া উঠিয়াছেন। কিন্তু কুফর সিস্টেম তাহাদের রাক্ষসে পরিণত করিয়াছে। এইটা সেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যাহা কিছু মানুষকে আইন তৈরির খোদায়ী ক্ষমতা প্রদান করে। মজার ব্যাপার হইল ঐ আইন আবার তাহাদের উপরেও কার্যকর যাহারা ইহার স্রষ্টা। মানে এই যে, একজন মানুষ নামক সীমাবদ্ধ জীব তাহার এবং তাহারই মত অন্য মানুষের জন্য বিধান তৈরি করিবে অথচ সে নিজেই জানেনা তাহার উপযোগী বিধান কোনটা।

আজকে যখন এই সিস্টেমের মারপ্যাঁচে পড়িয়া পুরা জাতি এক গভীর সঙ্কটে। তখনও কিছু মাথাচেলা বুদ্ধি প্রতিবন্ধি আলোচনার টেবিলে বসিয়া গণতন্ত্র আরও উত্তমরূপে চর্চা করিবার থিওরি কপচাইতে থাকেন। আর যখনই কেহ গণতন্ত্রের সমস্যা নিয়া কথা কহিতে যায় তাহাকে ইঙ্গ – মার্কিন পীরিতের দুশমন হিসাবে জঙ্গি ট্যাগ লাগাইয়া দেয়।

তাই যদি এখনও বুঝিবার সময় না আসে তবে অতি শীঘ্রই আমাদিগকে জঙ্গল যাত্রা করিতে হইবে আদৌ যদি সিস্টেমের চাপ সহ্য করিয়া টিকিতে পারি আরকি। আমাদের প্রত্যাবর্তন যদি ইসলামের দিকে হয়, তবে মহান খিলাফাহর আগমন শুনিব অতি শীঘ্রই ইনশাল্লাহ। অন্যথায়, জঙ্গলযাত্রা শুভহোক। ফি আমানিল্লাহ!!!!!!!!


আবদুর রহমান

সংকীর্ণ জীবন

১) সদ্য বেসরকারি নামকরা ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ পাশ করা কোন কর্মোদীপ্ত মেধাবী যুবক। ভার্সিটি থেকে বেরোনোর সাথে সাথেই চাকরি পেলো কোন নামকরা বেসরকারী ব্যাংকে; যার পে স্কেলও বেশ ভালো। বছর দুয়েক না যেতেই ব্যাংক তার জন্য অনুমোদন করলো ফ্ল্যাট আর গাড়ীর লোন। আর, ওই যুবকও সাত পাচ না ভেবে সেই সুযোগ লুফে নিলো; যদিও বাকী জীবন তাকে এই লোনের ঘানি টানতে হবে।

আমেরিকান ইসলামী সুবক্তা আর মনোবিদ ইয়াসির ফাজাগা একটি বেশ সুন্দর মন্তব্য করেছিলেন একবার, যা অনেকটা এমন:

”We buy things that we don’t need, with the money we don’t have, to impress the people we don’t like.”

অনেকেই হয়তো আপাতঃদৃষ্টিতে উপরের উদাহরণটিতে কোন গোঁজামিল খুঁজে পাবে না। আর না পাওয়ার পেছনে রয়েছে আমাদের বস্তুবাদী সমাজের পরিয়ে দেয়া রঙ্গিন চশমা। যদি সেক্যুলার দৃষ্টিভঙ্গিতেও এগোই, তবুও ঐ যুবক এমন এক জীবনমান আর জীবনোপকরণের পিছনে ছুটছেন যার উপযুক্ততা তিনি অর্জন করেন নি অথচ তা নিজের জন্য উপযুক্ত সাব্যস্ত করার জন্য কত বছরের গতর খাটুনি আর দাসত্বের শিকলে নিজেকে বন্দী করেছেন তা তিনিই জানেন। এবার দেখি, ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে, এই জীবন কতটা ভয়াবহতা, সংকীর্ণতা আর সীমালঙ্গনের। সুদের গুনাহ্ কিংবা ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা করা বাহুল্যতা আর এর শোচনীয় পরিণতির কথা আমরা সবাই জানি। অথচ আমরা এমন সওদা করছি যার আদ্যোপান্ত একজনকে নিক্ষেপ করছে জীবনের সবচেয়ে উত্তুঙ্গ আর কর্মময় সময়ে আল্লাহদ্রোহিতায়!

২) কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসণে মাস্টার্সের পাশাপাশি বিসিএস করা কোন যুবক বেশ বড় অংকের ঘুষ দিয়ে সরকারি ভূমি অফিসে চাকরি নিলো। ভূমি অফিসের দুর্নীতি আর ফাইলবন্দীত্বের সাথে যাদের পরিচয় আছে তারা জানে ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের আয়ের ফিরিস্তি; যার নব্বই শতাংশ আসে দুর্নীতি থেকে; তবে ব্যতিক্রমও থাকতে পারে। আমি কেবল প্রচলিত রেওয়াজের কথাই বলছি। এই সকল অফিসে মেধাবী অফিসার কিংবা তৃতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তারা এতটাই অর্থবুভুক্ষু হয়ে থাকেন যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভবপর নয়। এদের অনেকেই রাতারাতি বাড়ি-গাড়ীর মালিক বনছেন; অথচ তাদের অন্তরে এতটুকুন স্বস্তি নেই। কারণ, একটাই এদের আয়ের মূল উৎস ঘুষ।

৩) এক ছোটভাই বেশ কিছুদিন ধরে এক প্রবাসী মেয়ের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ের দর কষাকষি করছে। মেয়েপক্ষ একটু বেশী ধনাঢ্য হওয়ায় তাদের আবদারও বেশী। মাহর, উপহার আর বিয়ে পরবর্তী ওয়ালিমা বাবদ বেশ বড় অংকের টাকা চাই বৈবাহিক কার্য সম্পাদনের জন্য; যার জন্য হিমশিম খেতে হচ্ছে ওই ছোটভাইকে। এখানে, দর কষাকষি বলেছি এ জন্যই যে, এই বিয়ের মূল উদ্দেশ্য দুনিয়াবি স্বার্থ হাসিল; যার কারণে এই বিয়ের সম্ভাবনাটুকুও এই সকল আবদার-উপহারের সমানুপাতিক হয়ে পড়েছে। আর বিয়েকেন্দ্রিক চিন্তাভাবনায় রীতিমতো হতাশ আর বিপর্যস্ত ওই ছোটভাই।

উপরের এমন উদাহরণ চাইলে, অসংখ্য দেয়া যায়।
সংকীর্ণতা, হতাশা আর গ্লানিতেই আশ পাশ; অথচ এই জীবনের তাড়নায় তারা গড়ছে আবাস।


কুরআনের দু’একটি আয়াহ্ দিয়ে যবনিকাপাত করতে চাই যা আমাদের বিভ্রম দুর করতে সহায়ক হবে, বি’ইদনিআল্লাহ:

“মানবকূলকে মোহগ্রস্ত করেছে নারী, সন্তান-সন্ততি, রাশিকৃত স্বর্ণ-রৌপ্য, চিহ্নিত অশ্ব, গবাদি পশুরাজি এবং ক্ষেত-খামারের মত আকর্ষণীয় বস্তুসামগ্রী। এসবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভোগ্য বস্তু। আল্লাহর নিকটই হলো উত্তম আশ্রয়।“ [সুরা আল-ই ইমরান:১৪]

“হে মানুষ, কিসে তোমাকে তোমার মহামহিম পালনকর্তা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল?” [সুরা ইনফিতার: ০৬]

“এবং যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব।“ [সুরা ত্ব-হা:১২৪]


সায়্যিদ মাহমূদ গজনবী

Friday, March 15, 2013

মুমিনের কোনোদিন পরাজয় নাই...

قُلْ لَنْ يُصِيبَنَا إِلا مَا كَتَبَ اللهُ لَنَا هُوَ مَوْلانَا وَعَلَى اللهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ 51

قُلْ هَلْ تَرَبَّصُونَ بِنَا إِلا إِحْدَى الْحُسْنَيَيْنِ وَنَحْنُ نَتَرَبَّصُ بِكُمْ أَنْ يُصِيبَكُمُ اللهُ بِعَذَابٍ مِنْ عِنْدِهِ أَوْ بِأَيْدِينَا فَتَرَبَّصُوا إِنَّا مَعَكُمْ مُتَرَبِّصُونَ 52

অর্থ: “হে নবী আপনি বলে দিন! আল্লাহ আমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তার বাইরে আমাদের কিছুই হবে না। তিনিই আমাদের অভিভাবক, আর আল্লাহর উপরই যেন মুমিনরা তাওয়াক্কুল করে।

হে নবী আপনি (অবিশ্বাসীদেরকে) বলে দিন! তোমরা কেবল আমাদের জন্য দু’টি কল্যাণের একটিরই অপেক্ষা করছ (হয়তো আমরা তোমাদের হাতে শহীদ হবো অথবা বিজয়ী হবো) আর আমরাও তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছি মহান আল্লাহর আযাবের। হয়তো এই আযাব তিনি স্বয়ং তোমাদেরকে দিবেন অথবা আমাদের মাধ্যমে তোমাদের উপর এই আযাবের বাস্তবায়ন করবেন। অতএব তোমরা অপেক্ষা কর, নিশ্চয়ই আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ।” (সূরা তাওবা, আয়াত ৫১-৫২)

দেশের সাম্প্রতিক অবস্থা আমাদের সবারই জানা। আমাদের চোখের সামনেই হচ্ছে সব। কিন্তু এখানে বিশ্বাসী বা একনিষ্ঠ মুমিনরা আজ কোনঠাসা। জালিম ও তাদের দোসরদের উল্লাসই মিডিয়া ফলাও করে প্রচার করছে। একজন সম্মানিত আলিমকে অপমানিত করার ব্যর্থ চেষ্টা আজ যারা করছে তাদের পরিণতি নি:সন্দেহে ভয়াবহ হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। অতীত ইতিহাস সাক্ষী, যারাই কোনো আলিমের সাথে দুর্ব্যবহার করেছে, অসম্মান করতে চেয়েছে কিংবা কোনো আলিমকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে -তাদের পরিণতি হয়েছে শোচনীয়।

আজকে যারা একজন আলিমের ফাঁসি দেখার জন্য জেনে না জেনে ঢোলের তালে তালে নাচছে, তারা জানেনা এদেশের ভবিষ্যত তারা কোন অন্ধকার গহ্বরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যুদ্ধাপরাধ নামক একটি খুবই ঠুনকো অজুহাতের আড়ালে আজ হারিয়ে গেছে এই দেশের সবচেয়ে বড় বড় ইস্যুগুলো। সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও ভারতের ভয়াবহ নীল-নকশা আজ সবার অগোচরে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পথে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশের ৮/১ (এক অষ্টমাংশ) ভূমি নিয়ে এশিয়ার নতুন ইসরাইল রাষ্ট্রগঠন আজ সময়ের ব্যাপার মাত্র। বঙ্গোপসাগরে আমেরিকার যুদ্ধ জাহাজ আসার জন্য এদেশে একটি বড় আকারের ম্যাসাকার প্রয়োজন। হানাহানি আর রক্তপাতের একটি অজুহাত দরকার। যার ফলে তারা শান্তি (!) প্রতিষ্ঠার নাম করে এখানে তাদের সোলজারদের অনুপ্রবেশ ঘটনাতে সক্ষম হবে। গণতন্ত্র ফেরি করা কিংবা শান্তি বিতরণের মহান বাণীর আড়ালে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি করবে।

আর সেই প্রেক্ষাপট রচনা ও এদেশের জনগণের সামনে ইসলামী রাজনীতি ও ইসলামী ব্যক্তিত্বদেরকে কালারিং করার জন্যই আজ তারা নানান ইস্যু ও নাটক করে চলেছে। কর্পোরেট মিডিয়াগুলোও তাদের প্রভুদের দেয়া পয়সা হালাল করার জন্য হলুদ সাংবাদিকতার সর্বোচ্চ পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করছে। কিন্তু তাদের সকলের জেনে রাখা প্রয়োজন চূড়ান্ত বিজয় কেবলমাত্র মুমিনদেরই। তারা যতই চক্রান্ত করুক না ইনশাআল্লাহ একবিংশ শতাব্দী ইসলামের শতাব্দী। এই উম্মাহর তরুণ-যুবকরা জেগে উঠছে। গণতন্ত্রের মড়ক আস্তাকূড়ে নিক্ষেপ করে, শোষণ নিপীড়ন আর মানব রচিত সকল তন্ত্র-মন্ত্র ছিন্ন করে এক আল্লাহর সার্বভৌমত্বের দাবী তোলা এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পুর্ণাঙ্গ ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবী জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাবার এখনই শ্রেষ্ঠ সময়।

বিজয় অতি নিকটে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ বলেন,

وَلا تَهِنُوا وَلا تَحْزَنُوا وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ (139) إِنْ يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللهُ الَّذِينَ آَمَنُوا وَيَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَاءَ وَاللهُ لا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ (140) وَلِيُمَحِّصَ اللهُ الَّذِينَ آَمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ (141) أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنْكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّابِرِينَ 142

অর্থ: “আর তোমরা ভয় পেয়ো না এবং দুঃখিতও হয়ো না, (কারণ সাময়িক বিপদের পরে) তোমরাই বিজয়ী হবে -যদি মুমিন হয়ে থাকো।

যদি তোমাদেরকে কোন আঘাত স্পর্শ করে থাকে তবে তার অনুরূপ আঘাত উক্ত কওমকেও স্পর্শ করেছে। আর এইসব দিন আমি মানুষের মধ্যে পালাক্রমে আবর্তন করি এবং যাতে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে জেনে নেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহীদদেরকে গ্রহণ করেন। আর আল্লাহ জালিমদেরকে ভালবাসেন না।

(সত্য মিথ্যার এই সংঘাত আল্লাহ এজন্য সংগঠিত করেন) যাতে আল্লাহ পরিশুদ্ধ করেন ঈমানদারদেরকে এবং (এই লড়াইয়ের মাধ্যমে) ধ্বংস করে দেন কাফিরদেরকে।

তোমরা কি মনে করো যে, তোমরা এমনিতেই জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ আল্লাহ এখনো প্রত্যক্ষ করে দেখে নেননি যে তোমাদের মধ্যে কারা আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে এবং জানেননি ধৈর্যশীলদেরকে।” (সূরা আলে ইমরান, ১৩৯-১৪২)


ইসহাক খান

শুধু আবেগ নির্ভর আন্দোলন নয়, চাই বিবেক নিয়ন্ত্রিত সঠিক সিদ্ধান্ত

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ দু'টি বিষয় দান করেছেন। একটি হচ্ছে আবেগ, অপরটি বিবেক। আবেগ এবং বিবেক এই দু'টি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ দু'টো এমন বিষয় যার কোনো একটিকেও বাদ দেয়া সম্ভব নয়। মানুষের যে কোনো কাজে এই দু'টি বিষয়ের সমন্বিত ও পরিমিত উপস্থিতি সেই কাজ ও বিষয়কে সর্বোচ্চ সফলতায় উন্নীত করতে পারে। একইভাবে এই দু'টি বিষয়ের সমন্বয়হীনতা বা কম-বেশি যে কোনো কাজ বিশেষত আন্দোলনকে নিক্ষেপ করতে পারে অন্ধকার আস্তাকুড়ে।

আবেগ হচ্ছে গতি। দ্রুততা। চলার শক্তি। আর বিবেক হচ্ছে নিয়ন্ত্রক। এখন যদি কোনো গাড়ির গতি যত দ্রুত আর শক্তিশালীই হোক না কেন, যদি সেই গাড়ির নিয়ন্ত্রণ বা নিয়ন্ত্রক সুস্থ্য ও বিচক্ষণ না হয় তাহলে যে কোনো সময় এই গতি ও দ্রুততাই সেই গাড়ি ও তার সকল আরোহীর জন্য মৃত্যু ডেকে নিয়ে আসতে পারে।

আবার শুধু নিয়ন্ত্রক যদি একা একা বসে থাকে, যদি গতি ও চলার শক্তি না থাকে তাহলেও কিন্তু সেই গাড়ি কোনো কাজে আসবে না। এক্ষেত্রে গতি ও নিয়ন্ত্রক উভয়ের সমন্বিত সুষম ব্যবহারই একমাত্র আবশ্যক কর্তব্য।

আমাদের দেশের সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হওয়া শাহবাগ আন্দোলনের পুরোটাই আমার কাছে তরুণ প্রজন্মের আবেগকে ব্যবহার করে স্বার্থান্বেষী একটি মহলের ফায়দা লোটার অপচেষ্টা বলে মনে হয়েছে। এক্ষেত্রে বিবেকবানদের ভূমিকা ছিলো খুবই গৌন। নীরব। অনেকে নিজেদের বিবেককে ইচ্ছাকৃতভাবেই ঘুম পারিয়ে রেখেছিলেন। এই সুযোগে যৌবনের উন্মত্ত আবেগের পাগলা ঘোড়া ছুটেছে তার নিজ গতিতে। ক্ষণে ক্ষণে পাল্টেছে দাবী-দাওয়া ও চাওয়া-পাওয়া। এই আন্দোলন এতোটাই আবেগ নির্ভর ছিলো যে তারা কার কাছে চাচ্ছে? কি চাচ্ছে? কিভাবে চাচ্ছে? আর কি কি তারা চাইবে? এর কোনোটিরই সুনির্দিষ্ট কোনো ছক বা পরিকল্পনা তাদের মাথায় ছিলো না। উম্মাহর এই তরুণ-যুবকদেরকে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে এবং এখনও দিচ্ছে তারা কিছুক্ষণ পর পর রহস্যময় উৎস থেকে কিছু ওহী (নির্দেশনা) এনে পাঠ করছিলেন। কখনো কখনো উদ্দীপ্ত তারুণ্যকে শপথ পড়াচ্ছিলেন। দীক্ষা দিচ্ছিলেন। আবার তারপর তাদেরকে নাচ-গানসহ নানাবিধ বিনোদন আর নারী-পুরুষ ফ্রি-মাইন্ড সহাবস্থানের নামে বেলেল্লাপনা উসকে দিয়ে শাণিত করার নামে নির্জীব করছিলেন।

শুধু আবেগ নির্ভর হওয়ার কারণে মাত্র অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই এই আন্দোলন আজ যে কোন পর্যায়ে এসেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাদের ভবিষ্যতও বিচক্ষণ ব্যক্তিদের কাছে আজ উদ্ভাসিত হয়ে গেছে।

একইভাবে এই শাহবাগের এই আন্দোলন ও নাস্তিকদের অন্যায় আস্ফালনের বিরুদ্ধে এক পর্যায়ে দেশের আপামর আলেম-উলামা ও ইসলামী প্রতিষ্ঠান সমূহ পাল্টা আন্দোলনে নামেন। অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো দেশ জেগে উঠে। সারা দেশের ধর্মপ্রাণ তাওহীদী জনতা আলেমদের পাশে এসে দাঁড়ান। ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর সমর্থনে তারা তাদের সাধ্যানুযী প্রতিবাদ, বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন। যার ফলে কল্পনাতীত দ্রুত গতিতে শাহবাগী নাস্তিকদের সূর পাল্টে যায়। এর চেয়েও দ্রুততার সাথে তাদের ধর্ম ও ইসলাম বিদ্বেষী সূর পরিবর্তিত হয় ধর্মকারী হিসেবে। এবার তারা নিজেদেরকে ইসলামের অনুগত ও খুবই ভক্ত একেকজন মুত্তাকী প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেন। চিহ্ণিত যেই নাস্তিকগুলো গত কয়েকবছর বুক ফুলিয়ে নিজেদেরকে নাস্তিক বলে পরিচয় দিতো তারাও যেনো শেয়াল থেকে বেড়াল হয়ে গেলো। তাদের হুক্কা হুয়া আজ মিঁউ মিঁউ শব্দে প্রতিধ্বনিত হয়ে মুমিনদের হাসির খোরাক যোগাচ্ছে। তাদের এই দ্বিমুখী স্বভাব বুঝতে পেরেই গত প্রায় বছর খানেক আগে 'দুই কেজি মুরগীর কতটুকু খাবেন' নামক নাস্তিকদের বাস্তবতা ও স্বভাব বিষয়ক একটি লেখায় বলেছিলাম আসলে আমাদের দেশে প্রকৃত নাস্তিক নেই বললেই চলে। সারা দেশ তন্ন তন্ন করে খুঁজে দু'ই একজন প্রকৃত নাস্তিকও পাবো কিনা সন্দেহ আছে। কারণ নাস্তিকতার ভেকধারী কেউ আজ পর্যন্ত দুই কেজি মুরগীর পুরোট খেয়েছে বলে শোনা যায়নি। তারা এমনিতে সুবিধা নেয়ার জন্য নাস্তিকতার ভাব ধরলেও মুরগী খাওয়ার সময় ধর্ম এবং সামাজিক রীতি মেনেই যবেহ করে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করেই খেয়ে থাকে। এছাড়া অন্যান্য প্রায় সকল সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করে থাকে। -যাই হোক এটি ভিন্ন প্রসঙ্গ। ভবিষ্যতে কখনো এ বিষয়ে আলাদা করে লেখার ইচ্ছা আছে।

নাস্তিকদের বিরুদ্ধে আজ যে বিশ্বাসী মুমিনদের আন্দোলন শুরু হয়েছে সত্য বলতে গেলে তাও মূলত: আবেগ থেকেই। এই আন্দোলনের মূল উপজীব্য বিষয় মুমিনদের অন্তরে বিদ্যমান ইসলাম ও প্রিয়নবী সা. এর প্রতি শর্তহীন ভালোবাসা। আবেগের শক্তি ও গতি যেমন উপকারী তেমনি বিবেকের নিয়ন্ত্রণ ও সুশৃংখল পরিচালনাও অপরিহার্য বাস্তবতা। আজ উলামায়ে কিরাম যদি পুরো উম্মাহর মনের দাবী এ দেশে ইসলাম বিরোধীদের অপতৎপরতার বিষয়ে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ ও সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মূল দাবীতে এই আন্দোলনকে প্রথিত করতে না পারেন তাহলে শুধু আবেগ নির্ভর এই আন্দোলনও যে শীঘ্রই হারিয়ে যাবে -তা এক কঠিন তিক্ত অতীত সত্য বাস্তবতা।

অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ও বাস্তব প্রমাণ হাতে থাকার পরও উলামায়ে কিরাম ও উম্মাহর নেতৃবৃন্দ যদি দেশের আপামর জনসাধারণকে সংগঠিত ও সুশৃংখল করে একটি চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিতে না পারেন তাহলে এটি হবে আমাদের এক বিশাল ব্যর্থতা।

মিডিয়াতে ইসলাম ও উলামায়ে কিরামদের অবস্থান খুবই সীমিত প্রায় নেই বললেই চলে। মিডিয়ার ব্যাপারে শ্রদ্ধেয় আলিমদের কেনো এই উদাসীনতা ও সীমাহীন নিরাসক্তি তার বোধগম্য কোনো গত বিগত এক যুগেও আমি পাইনি। অথচ যদি শীর্ষ উলামাগণ চাইতেন তাহলে আজকে আলিমদের হাতে অন্তত ১৫ টি শক্তিশালী মিডিয়া থাকতো। এই অবিবেচক নির্লিপ্ততার কারণেই আজ বিশ্বাসীদের অনেক বড় বড় অর্জন গুলোর সঠিক সংবাদও জাতি পাচ্ছে না। এ বিষয়ে উলামায়ে কিরাম ও জাতীয় নেতৃবৃন্দের সজাগ দৃষ্টি দেয়ার সময় কি এখনও আসেনি?

পাশাপাশি নাস্তিক ও সাম্রাজ্যবাদীদের দালালদের ব্যাপারে দীর্ঘমেয়াদী শাস্তি ও সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। কারণ আজ আমরা যাদের কাছে নাস্তিকদের শাস্তি চাচ্ছি, আসলে তারাই তো তাদেরকে গানম্যান ও প্রটেকশন দিয়ে নিরাপদে অপকর্ম করে যাবার সুযোগ দিয়ে রেখেছে। ইসলামের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি তো তারাই করছে -সুতরাং তাদের একটি মিথ্যা আশ্বাস বা আইওয়াশ মূলক কাজের ফলে বিভ্রান্ত হয়ে উলামায়ে কিরাম ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ যদি তৃপ্তির ঢেকুর তুলেন তবে এটি হবে আমাদের জন্য খুবই দু:খজনক একটি অধ্যায়।

মহান আল্লাহ আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দকে সঠিক বিষয়টি যথাযথভাবে উপলব্ধি করার তাওফীক দিন। মানুষের স্বার্বভৌমত্ব ও গোলামীতে আটকা পরে যাওয়া, গণতন্ত্রের মড়কের নিচে চাপা পরে থাকা অসহায় মানবতার মুক্তির জন্য ইসলামকে পুনরায় সমাজ ও রাষ্ট্রে বিজয়ী হিসেবে নিয়ে আসার লক্ষ্যে সঠিক কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করার তাওফীক দিন, আমীন।

 
ইসহাক খান

Wednesday, March 6, 2013

নারী, ফুটন্ত কড়াই থেকে জলন্ত উনুনে

বাঙ্গালী নারীর অতীত অবস্থা:

আমরা যদি মাত্র দুই প্রজন্ম আগে ফিরে যাই,আমাদের দাদী-নানীদের যে চিত্র দেখব তা কম-বেশী একই রকমের। শৈশব পেরোতে না পেরোতে সংসার, কিছু বুঝে উঠার আগে মা, তার পর কোল জুরে একের পর এক সন্তান, বিরাট সংসারের ঝক্কি এক হাতে সামলানো সেই সাথে ক্ষেত-খামারে কাজ করা মানুষের খাদ্য যোগান দেয়া। তার উপর আছে শ্বাশুড়ীর গঞ্জনা। সবার উপরে আছে স্বামীর অবহেলা। কবে যে পৌড়া থেকে বৃদ্ধায় পরিনত হয়, নারী টের পায় না। এক সময় সে তার নিজ সন্তানের বোঝা বলে গন্য হয়। জন্মের সময় পরিবারে ভ্রুকুন্ঠনের উদ্রেককারী এই নারী মৃত্যুর মাধ্যমে পৃথিবীর বিরাট উপকার সাধন করে চলে যায়। বেগম রোকেয়া তাই আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা ভুমিষ্ঠ হইয়াই শুনিয়াছি যে আমরা জন্মিয়াছি দাসী, চিরকাল দাসী, থাকিব দাসী,”এ অবস্থা অবশ্যই কাম্য নয়। কী করা যায়? নারী হৃদয় কেঁদে উঠে। তোদেরি কল্যানে, বোন! কিন্তু কী করিব? কাঁদিতে শক্তি আছে, কাঁদিয়া মরিব”

না আর কান্না নয়। দেখা গেল পুরুষ নামের অপর শক্তি শুধু মাত্র অর্থ-উপার্জন করে বলে সব ব্যাপারে মেয়েদের দাসী জ্ঞান করে। তাই নারীর এই বিপুল কর্মযজ্ঞ, নিরব ত্যাগ কিছুই তার চোখে পরে না। তাই মেয়েরা যদি তার গন্ডি ছেড়ে বেড়িয়ে এসে ঘড়-সংসার এর সাথে সাথে আর্থিক ভাবে সক্ষম হয়ে উঠতে পারে তবে তার স্বীকৃতি সে আদায় করে নিতে পারবে। পরগাছা জীবনই তার দুরগতির কারণ।

বেগম রোকেয়ার ভাষায়, “ভগীনিগন, চক্ষু রাঙ্গাইয়া জাগিয়া উঠুন- অগ্রসর হউন। বুক ঠুকিয়া বল মা! আমরা পশু নই; বল কন্যে। আমরা জড় অলঙ্কার রুপে লোহার সিন্দুকে আবদ্ধ থাকিবার বস্তু নই; সকলে সমস্বরে বল, আমরা মানুষ। আর কার্যত: দেখাও যে আমরা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ অংশের অর্ধেক।”

কিন্তু আসলেই কি অর্থ উপার্জন না করাটাই মেয়েদের অপরাধ ছিল? অন্য কথায় টাকা দিয়ে কি সম্মান কেনা যায়? এই মৌলিক প্রশ্নের উত্তরের পিছনে সময় নষ্ট করা হলো না। শুরু হলো আরেক কালো অধ্যায়ের। সেই প্রসঙ্গে পরে আসি, আগে দেখা যাক সমাধানের প্রয়োগ।

সমাধান:

আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। এতে এক ঢিলে দুই পাখি মরবে। মেয়েরা প্রকৃত কর্তৃত্ব ফিরে পাবে। দেশের অর্থনৈতিক গতি প্রবল হবে। তাই রাষ্ট্র অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নীতি প্রনয়ণ করল। BCWD (National Council For Women’s Development)-১৯৯৭ এর ফেব্রুয়ারীতে সরকার নীতি চুড়ান্ত করে যা ঐ বছর মার্চে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে প্রয়োগ শুরু হয়ে যায়।

নীতিমালার লক্ষ্য ছিলঃ সর্বক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ের সম অধিকার। মেয়ে ও নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য দুরীকরণ। নারীকুলের মানবাধিকার নিশ্চিত করা। নারীদের মানব সম্পদে পরিণত করা। অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিমন্ডলে মেয়েদের স্বীকৃতি দেয়া। প্রশাসন, রাজনীতি, শিক্ষা, খেলাধুলাসহ সকল আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে নারী পুরুষের অংশ গ্রহনে সমতা আনয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়ণ। নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে ইতিবাচক ভাবমূর্তি উপস্থাপন। প্রচার মাধ্যমে মেয়েদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি উপস্থাপন। স্বাস্থ্য, পুষ্টি, আশ্রয় নিশ্চিতকরণ।

এই নীতির আলোকে আমরা সেখানে পাই নারী শিক্ষাকার্যক্রমের আওতায় প্রথমে ৮ম শ্রেনী পরে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছে। চালু হয়েছে বৃত্তি, উপবৃত্তির ব্যবস্থা। ফলাফল হিসাবে আমরা দেখি যে ১৯৯০ সালে যেখানে নারী সাক্ষরতার হার ছিল ১৩.৪% বর্তমানে তা ৩০% ছাড়িয়ে গেছে। একই ভাবে চাকুরীতে কোটা পদ্ধতির প্রবর্তন, নারী কর্মী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ, ক্ষুদ্র-মাঝারী ঋণের আওতায় মেয়েদের সংখ্যা বাড়ানো, উদ্যোক্তা হিসেবে উৎসাহ প্রদান সহ মিডিয়াতে ব্যাপক উপস্থিতি, গৃহীত নীতির বাস্তব প্রয়োগেরই সাক্ষ্য বহন করে। অধিক সন্তান এবং তাড়িতাড়ি বিয়ে মেয়েদের অর্থনৈতিক কাজের অন্তরায়। তাই ব্যাপক প্রচার ও মাঠ কর্মের মাধ্যমে অল্পসন্তান ও দেরীতে বিবাহ উৎসাহিত করা হচ্ছে। জন্ম নিয়ন্ত্রনের উপকরণের ব্যাবহার ৪৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। গড় বিয়ের বয়স ১৩.৫ থেকে বেড়ে ১৯.৫ এ ঠেকেছে। Total Fertility Rate ৪.৫ থেকে কমে ৩.৪ এ নেমেছে। চাকুরী ক্ষেত্রে মেয়েদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্যনীয়। প্রাথমিক, মাধ্যমিক,উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যথাক্রমে শতকরা ২০,৭৪,৯ এবং ১৪জন নারী শিক্ষক শিক্ষা দানে নিয়োজিত আছেন। ২য় শ্রেনীর অফিস কর্মী হিসাবে যেখানে ১৯৯০ সালে ৯% নারী নিয়োজিত ছিল তা ২০০৪ সালে এসে ৩৭.১%এ দাঁড়ায়।উচ্চতর পেশার ২৬০৬টি পদের মধ্যে নারীদের দখলে আছে ১১১৮টি। কৃষিক্ষেত্রে মালিক হিসাবে আছে ২২.৩% নারী এবং কর্মী হিসেবে আছে ২৫.৩% নারী। প্রায় ২০০০টি ছোট বড় গার্মেন্টসে নিয়োজিত কর্মীদের শতকরা ৯০ভাগই নারী। বর্তমানে ১৫মিলিয়ন নারী ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত।

কেমন আছে আজকের নারীঃ সাফল্য এসেছে। পরিসংখ্যান তাই বলে। অনেক মেয়েই আজ পরগাছা নয়। কিন্তু গোড়ার সেই গলদ, পুরুষদের প্রশ্ন না করা, “মেয়েদের প্রভু হবার হুকুম তোমাদের কে দিয়েছে ?”- আজকে পর্বত আকারে দেখা দিয়েছে। নারীকে সুরক্ষিত করতে যেয়ে করা হয়েছে অরক্ষিত। পূর্বে স্বামী তাকে অসম্মান করত, বর্তমানে গলির মোড়ের চা বিক্রেতা, বাসের হেল্পার, ফুটপাথের ছেলে, অফিসের বস, স্বামীর বন্ধু, যতো শ্রেনীর পূরুষ লোক আছে সকলে তাকে অসম্মান করে। মেয়েদের স্কুলে যাবার সংখ্যার সাথে তাল মিলিয়ে বেড়েছে বখাটে ছেলেদের গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে অশ্লীল মন্তব্য করার মাত্রা। শুধুমাত্র নারীদের চিহ্ন শরীরে ধারণ করার জন্য গিলতে হয় এই অশ্রাব্য কথাবার্তা। সহ্য করতে না পেরে পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় সিমি, রুমি, তৃষার মত কোমলমতি উজ্জল মেয়েরা। প্রতি ২১ মিনিটে একটি মেয়েকে আজকে এই জাতীয় লাঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে। প্রতিদিন প্রত্রিকার পাতায় কমপক্ষে ৩জন নারীর ধর্ষনের রিপোর্ট ছাপা থাকে। ১৯৯৭ সালে ধর্ষিত হয়েছিল ৭৫৩ জন, ১৯৯৯ সালে যা বেড়ে হয় ১২৩৮ জন। আমরা জানি প্রকৃত সংখ্যা আরো আনেক বেশী। ১২০০০০ গার্মেন্টস নারী কর্মীদের একটি বিরাট অংশ এই যৌণ নিপীড়ণের শিকার। বর্তমানে বাংলাদেশে ৬০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ পতিতা রয়েছে। যাদের মধ্যে ৬৫%এর বয়স ১১ থেকে ১৩ এর মধ্যে। ৩৩%এর বয়স ১৩ থেকে ১৫ এর মধ্যে। মেয়েরা তো স্বাবলম্বী হচ্ছে, প্রস্টিটিউটের সংখ্যা এত বাড়ছে কেন?

অন্ততঃ ৬০ বছর আগেও তো পরিস্থিতি এরকম জঘন্য ছিল না! মিডিয়ার নারীকে একটি মুখরোচক পন্য ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না পাবলিকের কাছে। সব চেয়ে মর্মান্তিক অবস্থা মায়েদের। সন্তানের সংখ্যা একটি বা দুইটি। তাও একটি বিড়াট মাথা ব্যাথার কারন। কে দেখবে এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। পরিবারে শিশু বেড়ে উঠে গৃহকর্মীর কাছে। যাদের আর্থিক সংগতি নেই তারা শিশুদের শেকলবন্দী করে রাখে, যার ছবি আমরা পত্রিকায় দেখেছি। পিতা-মাতা জীবিত থাকার পরও এতিম এই অসহায় শিশুগুলো হতে থাকে যৌণ নিপীড়ণের শিকার। ঘরে, বস্তিতে, পথে। কী মর্মান্তিক!

গ্রামের নারীদের অবস্থা পাল্টে গেছে। তাদের বেশীর ভাগ শহরে চলে আসছে, বরণ করছে ভাসমান জীবন। বাকিরা ক্ষুদ্র ঋণের কল্যানে সন্তান পালন আর ব্যাবসা পরিচালনা, এক হাতে সব কাজ করছে। স্বামীরা পুজীর অভাবে হাওয়া খায় আর বৌ পেটায়। আসলে সুবিধা হয়েছে তাদেরই।

ঠিক এরকম একটা ভবিষ্যতের চিত্র কি আমাদের পুর্ব প্রজন্ম চেয়েছিল?

পৃথিবীর সব চেয়ে সস্তা বস্তুতে পরিনত হয়েছে এমন এক প্রানী যার সম্মান সৃষ্টিকর্তার কাছে সবচেয়ে বেশী। আমাদের নানী যদি আমাকে প্রশ্ন করেন “কেমন আছিস তোরা?” কী উত্তর দিব আমরা! তারা লাঞ্চিত হয়েছে নিজ পরিবারে। আমরা লাঞ্চিত হচ্ছি সমস্ত সমাজে - এই পার্থক্যটাই শুধু হয়েছে।

কেন এমন হলো ? আসলে আমরা এমন এক সমাজকে গড়ে তুলেছি সেখানে এমনটাই তো হওয়া স্বাভাবিক। এমনই হবার কথা। আসলে সমস্যা ছিল নারীর প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে। বিখ্যাত কবি বায়রন বলেছিলেন, “পুরুষদের সাথে এক টেবিলে বসে খাবার অধিকার মেয়েদের নেই। তাদের জন্য উপযুক্ত স্থান হল ঘরের মধ্যে রান্না ঘর।”

দাইমাস্তিন অপর এক স্থানে বলেছেন, “আমরা নারীদের মধ্যে দেহপসারিনীদের উপভোগের জন্য ব্যাবহার করি, আর প্রেমিকদের মনোরঞ্জনের জন্য রাখি এবং স্ত্রীদের রাখি সন্তান উৎপাদনের জন্য।”

সমাজের এক অংশ যখন অন্য অংশের প্রতি এমন দৃষ্টিভঙ্গী লালন করে, তখন অর্থ কেন অন্য কোনভাবেই নারী তার প্রকৃত সম্মান ধারন করতে পারবে না। আজকে ঘরে যে পুরুষরা তার পরিবারের প্রতি অন্যায় করে, সেই পুরুষই সমাজের কোন না কোন পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। কেন সে অন্য নারীর প্রতি মহানুভবের দৃষ্টি নিক্ষেপ করবে? খুবই অযৌক্তিক কথা। বরং যৌক্তিক হল সে তার পরিবারের সাথে যা করতে পারে নি, অন্য নারীর সাথে তাই করবে, তাই করছে। মানুষ তার রচিত নিয়মে এমন কোন পরিবর্তন আনবে না যে পরিবর্তন তাদের স্বার্থের পরিপন্থী। আর তাদের রচিত এই অন্যায় সমাধান ধংস করে প্রজন্মের পর প্রজন্মের জীবন। অন্ধকার থেকে বের করার নামে ঠেলে দেয় ঘোর অন্ধকারে।

কী করা উচিত ছিলো? আমাদের পরিবার গুলোতে যদি ইসলাম ঠিকমত থাকতো তাহলে আসলে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না। আল্লাহ (সূবহানাহু ওয়া তায়ালা) পুরুষদের নারীর অভিভাবক রুপে সৃষ্টি করেছেন, প্রভু হিসাবে নয়। ঠিক যেমন রাষ্ট্রের অভিভাবক রাষ্ট্রনায়ক। যখন নারীদের উপর অন্যায় হচ্ছিল, তখন যেমন কুরআনের আয়াত, রাসূল (সাঃ) হাদীস বিদ্যমান ছিল। এখনও আছে। ভূল যেটা হয়েছে যে আমরা অনুসন্ধান করি নি, এ ব্যাপারে সৃষ্টিকর্তা কী রায় দিয়েছেন। কিন্তু নিজেদের নীতি যখন ব্যার্থ হয়েছে তখন আবার সুকৌশলে ইসলামের উপর দোষ চাপাতে পিছ পা হয় না অনেকে। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যাক্তি ২জন বা তার অধিক কন্যা সন্তান লালন পালন করে সৎ পাত্রস্থ করার আগ পর্যন্ত আল্লাহর আমানত হিসাবে রাখবে, জান্নাতে ওই ব্যক্তি এবং আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) এর মধ্যে ২ আঙ্গুলের ব্যাবধান থাকবে। এই বলে তিনি তার আঙ্গুল তুলে ধরেন। এই হাদীসের চর্চা পরিবারে থাকলে কেউ কন্যা সন্তানের জন্মকে বোঝা ভাবতে পারত না। দাসী তো অনেক পরের কথা।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, “......... নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবন যাপন কর। অতঃপর যদি তাকে অপছন্দ কর তবে হয়তো এমন কিছু অপছন্দ করছ যাতে আল্লাহ তোমাদের জন্য প্রভুত কল্যান রেখেছেন।”[সূরা নিসা: ১৯]

রাসূল (সাঃ) বলেছেন “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যাক্তি উত্তম যে তার পরিবারের নিকট উত্তম। নিশ্চয়ই আমি আমার পরিবারের জন্য সর্বোত্তম।” তিনি (সাঃ) আরো বলেছেন, “গোটা দুনিয়া হলো সম্পদ। আর সৎ কর্মশীল স্ত্রী হল তার মধ্যে শ্রেষ্ট।

আরাফাহর ময়দানে বিদায় হজ্জের গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে রাসূল (সাঃ) স্ত্রীর প্রতি যত্নশীল হতে বলেছিলেন। সন্তান পালনের কষ্টকর কাজের জন্য আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) নারীকে যথার্থ পারিশ্রমিক দিয়েছেন। সন্তান জন্ম দান, স্তন্যদান এবং বড় করা প্রতিটির জন্য আলাদা করা নেকী। সেই সাথে রয়েছে মাতৃত্বের অনন্য স্বাদ। সন্তানের হক আছে তার পিতা মাতার কাছে। সে শেকল বন্দী হবার বস্তু নয়, নিপীড়নের পাত্র নয়। পিতামাতার হক আছে সন্তানের কাছে। আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেছেন, তাদের মধ্যে একজন বা উভয়ে বৃদ্ধ হলে আমরা যেন তাদের প্রতি এমনকি উহ শব্দটিও উচ্চারণ না করি। আল্লাহ এবং রাসুল (সাঃ) এর পর আমাদের কাছে সবচেয়ে সম্মানের বস্তু আমাদের মা-বাবা।

মেয়েরা কর্তৃত্ব চায় না, মেয়েরা সম্মান চায়, স্বস্তি চায়। যা শুধু তার সৃষ্টিকর্তা প্রণীত নিয়মই তাকে দিতে পারে। অথচ নারীর সে চাওয়া ভুল খাতে প্রবাহিত করে চরম লাঞ্চনার মুখোমুখি দাড় করিয়ে, নারীর অনুভুতির গলা টিপে মারে সৃষ্টিকর্তার উপর দোষ চাপানোর ষড়যন্ত্র চলছে পুরোদমে।

মেয়েদের ক্ষুব্ধ প্রশ্নের মুখে তার সামনে শত্রু হিসেবে তার প্রভুকে দাড় করিয়ে দেওয়ার হীন চেষ্টাও আমরা প্রতিনিয়ত প্রত্যক্ষ করছি।

যেমন আন্দদা শংকর রায় বলেন, “প্রকৃতির অবিচার নারীকে মেরে রেখেছে- বিদ্রোহ নিষ্ফল। এই দেখনা প্রতি মাসে কয়দিন বর্ষাকাল। পুরুষের এমন ঝঞ্ঝাট আছে? কিংবা এক যাত্রায় পৃথক ফল। পুরুষের কাছে যা ৫মিনিটের সুখ, নারীর কাছে তাই ১০মাসের অসুখ। প্রকৃতির এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে নারীর করার কিছুই নেই।”(নাউযুবিল্লাহ)। সৃষ্টিকর্তার দেয়া নিয়ামত ‘সন্তান’ আমাদের কাছে ঝামেলা হিসাবে উপস্থাপন কারার স্পর্ধা তারা কোথায় পায়?

শেষ কথাঃ মেয়েরা তাদের অবস্থা পরিবর্তন করতে যেয়ে গরম কড়াই থেকে ঝাপিয়ে উনুনে পড়েছে। আসলে তাকে সুকৌশলে ফেলা হয়েছে। এতে তাকে যথেচ্ছ ব্যাবহার করা সুধাজনক হয়। নারী সমস্যার সমাধানের সত্যিকারের চেষ্টা থাকল এতোবড় ভুল হবার কথা নেই। মেয়েদের উপর অন্য মেয়ে কিংবা পুরুষের সমাধান চাপিয়ে নেয়ার দিন শেষ করতে হবে। এই মানব রচিত সুবিধাবাদী সমাধানের পরিণতি আমরা স্বচক্ষে দেখেছি। আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) আমাদের সৃষ্টি করেছেন, আমাদের মধ্যে চাহিদা,প্রয়োজন দিয়েছেন, আমাদের চাওয়া পাওয়া তিনিই (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) ভালো জানেন। সে হিসাবেই তিনি নিয়ম নির্ধারন করেছেন। যার মাধ্যমে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। আল্লাহ যা হক দিয়েছে তার চেয়ে বেশী নেয়ার কথা যে বলবে তার অন্য উদ্দেশ্য থাকবে। সে অধিকার আমাদের ধ্বংসের দিকেই নিয়ে যাবে দুনিয়া ও আখিরাতে। তাই চলুন সমাজ, রাষ্ট্র এবং পরিবারের ইসলাম কায়েম করি, যা আমাদেরকে শুধু নয় প্রত্যেককে, প্রতিটি বস্তুকে, ন্যায় বিচার তথা আলোর দিকে চালিত করবে।


নুসরাত জাহান