Tuesday, February 19, 2013

শাহবাগে রাজনীতি

শাহবাগের আন্দোলন আজ দু সপ্তাহ হতে যাচ্ছে। কিন্তু এর পরিণতি কি বা কারা এর দ্বারা লাভবান হতে যাচ্ছে এ নিয়ে জনগণের মাঝে সচ্ছ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না তাই আজকের এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

এই আন্দোলন প্রথম শুরু হয় যখন বাংলাদেশের সেকুলার ব্লককে আশাহত করে বাংলাদেশের সেকুলার দল আওয়ামীলীগ যুদ্ধ অপরাধের বিচারকে পরবর্তী নির্বাচনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে যেয়ে কাদের মোল্লাহ কে সরকার দলীয় প্রসিকিউসনের মাধ্যমে তাকে ফাসির হাত হতে বাঁচিয়ে দেয়, এবং পরবর্তীদেরও বাঁচানোর রাস্তা খুলে দেয়। পরবর্তী নির্বাচনে যাতে বিএনপি না আসলেও জামাত অংশগ্রহণ করে এবং আওয়ামীলীগের বিজয় নিশ্চিত হয় এবং আরও বছর ক্ষণেক আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকতে পারে । যা ভারত পন্থি সেকুলার ও বস্তুবাদী ব্লক বুঝে যায় এবং আন্দোলন শুরু করে পরবর্তীতে এটিএন নিউজের মুন্নি শাহার বদৌলতের পুর ভারত পন্থী মিডিয়া এটিকে সফল আন্দোলনের দিকে নিয়ে যায়।

আমদের এই আন্দোলন দেখে মনে করার কোন কারণ নেই যে এই আন্দোলন এই দেশে মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী। বা হাসিনার, ভারতের সাথে মার্কিনীদের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে যে ছক একেছিল তা সফল হয়নি বরং এতে তার দল ও সেকুলার ব্লকের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা কমেছে এবং খালেদাও তার দল ও জাতীয়তাবাদীদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। বরং এই বিষয়টি মাইনাস ২ ফর্মুলাকে আরও শক্তিশালি করেছে, হাছিনা ও খালেদাকে আরও বেশি আমেরিকার দিকে আনুগত্যশীল করেছে।

ভারত এই আন্দোলন মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী ইসলাম পন্থীদের এক হাতে শায়েস্তা করছে এবং তাদের ভারতের প্রতি আনুগত্যশীল করতে চাচ্ছে অথবা তাদের নিষিদ্ধ করতে চাচ্ছে যাতে বাংলাদেশে ভারতের স্বার্থ বাস্তবায়নে আর কেউ বাধা হয়ে না দাড়ায়। যেটি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সালমান খুরশিদের বক্তব্য এবং এই সফরে ২০০৯ এর প্রোটকল বাস্তবানের সফল প্রচেষ্টা, ও ইসলাম পন্থী জাতায়তাবাদী পত্রিকা নিষিদ্ধের দাবি দেখে বোঝা যায়। যদিও আমেরিকা গণতান্ত্রিক ইসলামী রাজনীতি বন্ধের দাবি বাস্তবায়িত হতে দিবে না এতে আদর্শিক ইসলামী রাজনীতি ও মিলিট্যান্ট ইসলামের উদ্ভব ঘটে।

সর্বোপরি এই আন্দোলনের মাঝে সাম্রাজ্যবাদীরা বাংলাদেশের জনগণের দৃষ্টিকে দুটি মেরুর দিকে নিয়ে গেছে বস্তুবাদী সেকুলার ব্লক এবং তাদের বিরোধী জাতীয়তাবাদী ইসলাম। যাতে বাংলাদেশে আদর্শিক ইসলামী রাজনীতি বাধা গ্রস্ত হয় এবং উম্মাহ যাতে এমন কিছু আবেগ ও স্বার্থকে নিজের স্বার্থ ও আবেগ মনে করে যার সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। এবং উম্মাহর সম্পদ এবং ভুমিকে সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে।

Tuesday, February 12, 2013

দাওয়ার আমানত ও আল্লাহ্‌র সাথে কৃত ওয়াদা

আমরা যারা দুনিয়াতে দাওয়ার কাজ করছি আমদের মনে হতে পারে যে দুনিয়াতে আমরা সবচেয়ে উত্তম কারণ আমরা আমাদের জীবন সম্পদ সব কিছু দিয়ে দাওয়ার কাজ করছি। কিন্তু আমরা যদি গভীর ভাবে আমাদের কাজ গুলো পর্যবেক্ষণ করি তাহলে দেখব যে আমরা প্রায়শয় দুনিয়াবি (বস্তুগত মূল্যের দিকে জড়িয়ে পড়া) কাজের মাঝে আল্লাহ্‌র দেওয়া আমানত এবং তাঁর (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) সাথে কৃত ওয়াদা সম্পর্কে ভূলে যাই। এবং যা আমাদের আমানতের খেয়ানত এবং ওয়াদা ভঙ্গের মত গর্হিত কাজের দিকে নিয়ে যায়। তাই আল্লাহ্‌র আমানত ও তার (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) ওয়াদা সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গি গভীর করার জন্য নিম্নোক্ত আলোচনাটি করা হল।

আল্লাহ্‌ তা’আলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন,

আমি আকাশ, পৃথিবী ও পর্বতমালার সামনে এই আমানত পেশ করেছিলাম, অতঃপর তারা একে বহন করতে অস্বীকার করল এবং এতে ভীত হল; কিন্তু মানুষ তা বহন করল। নিশ্চয় সে ছিল জালেম-অজ্ঞ। (আল আহযাব: ৭২)

আমানত বলতে সাধারণত বোঝায় গুরুদায়িত্ব অর্থাৎ এমন কাজ যার জন্য কোন ব্যক্তিকে দায়ী থাকতে হয়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের মতে এটি হল আল্লাহ্‌র আনুগত্য, তাফসীরে মাযহারী তে উল্লেখ করা হয়েছে শরীয়তের যাবতীয় আদেশ নিষেধের সমষ্টি।

আল্লাহ্‌ তালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন,

আর যখন তোমার পালনকর্তা বনী আদমের পৃষ্টদেশ থেকে বের করলেন তাদের সন্তানদেরকে এবং নিজের উপর তাদেরকে প্রতিজ্ঞা করালেন, আমি কি তোমাদের পালনকর্তা নই ? তারা বলল, অবশ্যই, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি। আবার না কেয়ামতের দিন বলতে শুরু কর যে, এ বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। (আল আরাফ: ১৭২)

উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহকে রব মানা বলতে আল্লাহ্‌র আদেশ নিষেধ গুলো বোঝাচ্ছে।

তাই আল্লাহ্‌র আমানতের হক আদায় এবং তাকে রব মানা তখনই সম্ভব হবে যখন দুনিয়াতে খিলাফত থাকবে কারণ খিলাফত হচ্ছে সেই তরীকাহ যার মাধ্যমে আল্লাহ্‌র আমানতের হক আদায় করা যায় এবং তাকে (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) কে রব হিসেবে যে মানা হচ্ছে তার প্রমাণ দেওয়া যায়। এবং আমাদের ভূলে যাওয়া উচিত নয় আমরা আল্লাহ্‌র নামে শপথ করেছে যে আমরা খিলাফতকে ফিরিয়ে আনার জন্য যান এবং মাল দিয়ে সর্বাত্নক চেষ্টা করব।

আল্লাহ্‌ তা’আলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন,

যারা আল্লাহ্ নামে কৃত অঙ্গীকার এবং প্রতিজ্ঞা সামান্য মূল্যে বিক্রয় করে, আখেরাতে তাদের কোন অংশ নেই। আর তাদের সাথে কেয়ামতের দিন আল্লাহ্ কথা বলবেন না, তাদের প্রতি (করুণার) দৃষ্টিও দেবেন না। আর তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না। বস্তুত তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। (আল ইমরান: ৭৭)

আল্লাহ্‌ তা’আলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন,

হে ঈমানদারগণ, খেয়ানত করো না আল্লাহ্‌র সাথে ও রসূলের সাথে এবং খেয়ানত করো না নিজেদের পারস্পরিক আমানতে জেনে-শুনে। (আনফাল: ২৭)

রাসুল (সা) বলেছেন, মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য তিনটি ১। আমানতের খেয়ানত করে ২। ওয়াদা ভঙ্গ করে ৩। মিথ্যা বলে।

উপরক্ত আয়াত ও হাদীস গুলো নিশ্চিতভাবে আমাদের দাওয়ার আমানত ও আল্লাহ্‌র সাথে কৃত ওয়াদার বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে, যাতে এমন না হয়ে যায় গুরাবা (যারা দ্বিতীয়বার খিলাফত প্রতিষ্টার জন্য আল্লাহ্‌র কাছে থেকে মর্যাদা প্রাপ্ত হবে) হতে যেয়ে মুনাফিক জাহান্নামী না হয়ে যাই।

তাই আমাদের দাওয়াহর ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ের প্রতি অধিক যত্নবান হতে হবে। আল্লাহ্‌ তার প্রতিশ্রুত ওয়াদা “খিলাফত” আমাদের দিবেন কিন্তু আমরা যারা পরিকল্পনা মাফিক কাজ না করে শিথিলতা দিয়ে কাজ করেছি, ইসলামের জ্ঞান অর্জন না করে ওলট পালট বুজাচ্ছি এবং এক দুটি কর্মসূচী সফল হওয়ার কারণে আনন্দ বোধ করছি তাদের ব্যপারে আল্লাহ্‌ বলছেন,

তুমি মনে করো না, যারা নিজেদের কৃতকর্মের ওপর আনন্দিত হয় এবং না করা বিষয়ের জন্য প্রশংসা কামনা করে, তারা আমার নিকট থেকে অব্যাহতি লাভ করেছে। বস্তুত তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব। (আল ইমরান: ১৮৮)

অতীতে অনেক জাতি আল্লাহ্‌র সাথে অঙ্গীকার রক্ষা না করার করার কারণে আল্লাহ্‌ তাদের শাস্তি দিয়েছেন যদিও বা প্রথমে তারা আল্লাহ্‌র মনোনীত ছিল। যেমন আল্লাহ্‌ আমাদের ইয়াহুদি ও নাছারাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের দরুন তাদের পরিত্যাগ করেছেন।

আল্লাহ্ বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন এবং আমি তাদের মধ্য থেকে বার জন সর্দার নিযুক্ত করেছিলাম। আল্লাহ্ বলে দিলেন: আমি তোমাদের সঙ্গে আছি। যদি তোমরা নামায প্রতিষ্ঠিত কর, যাকাত দিতে থাক, আমার পয়গম্বরদের প্রতি বিশ্বাস রাখ, তাদের সাহায্য কর এবং আল্লাহ্কে উত্তম পন্থায় ঋণ দিতে থাক, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের গোনাহ্ দূর করে দিব এবং অবশ্যই তোমাদেরকে উদ্যানসমূহে প্রবিষ্ট করাব, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হয়। অতঃপর তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি এরপরও কাফের হয়, সে নিশ্চিতই সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। অতএব, তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের দরুন আমি তাদের ওপর অভিসম্পাত করেছি এবং তাদের অন্তরকে কঠোর করে দিয়েছি। তারা কালামকে তার স্থান থেকে বিচ্যুত করে দেয় এবং তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, তারা তা থেকে উপকার লাভ করার বিষয়টি বিস্মৃত হয়েছে। (মায়িদা: ১২-১৩)

যারা বলে: আমরা নাছারা, আমি তাদের কাছ থেকেও তাদের অঙ্গীকার নিয়েছিলাম। অতঃপর তারাও যে উপদেশ প্রাপ্ত হয়েছিল, তা থেকে উপকার লাভ করা ভুলে গেল। অতঃপর আমি কেয়ামত পর্যন্ত তাদের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিয়েছি। অবশেষে আল্লাহ্ তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন। (মায়িদা: ১৪)

তাই আমাদের প্রতিনিয়ত সতর্ক থাকতে হবে যাতে আমরা ইয়াহুদি ও নাসারাদের মত যেন আমাদের অঙ্গীকার ভূলে না যাই এবং আল্লাহ্‌র লা’নত প্রাপ্ত না হয়ে যাই।

আমরা যদি রাসূল (সা) এর সেই মহান হাদীসের দিকে তাকাই যেখানে রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যার কাঁধে খলীফার বাইয়্যাত নেই, তার মৃত্যু জাহিলিয়াতের মৃত্যু। (মুসলিম)

এই হাদীসে খিলাফতের বিদ্যমান থাকাকে ফারজিইয়্যাত আদায় হওয়ার শর্ত বোঝাচ্ছে , তাই শুধু খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য কোন দলে থকলে ফারজিয়াত আদায় হয়ে যাবে মনে করলে তা ভুল হবে। তবে যদি অবিরাম পরিকল্পনা ও দৃঢ়তার সাথে কাজ করা যায় তাহলে আশা করা যায় যে আল্লাহ্‌ হয়ত মাফ করতে পারেন। তাই আমরা যারা নিশ্চিন্ত মনে বসে বসে আসা করছি যে আমরা ত আল্লাহ্‌র দেয়া সব দায়িত্ব পালন করে ফেলেছি তাহলে আমাদের বিষয়টা নিয়ে দ্বিতীয়বার চিন্তা করা প্রয়োজন কারণ আমরা আসলে এখন জাহিলিয়্যাতেই আছি।

নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হল যা আমাদের এই অঙ্গীকার ও ওয়াদা পূরণে আরও সাবধান করবে।

আল্লাহ তা’আলা বলেন,

আর যদি আমি তাদের নির্দেশ দিতাম যে, নিজেদের প্রাণ ধ্বংস করে দাও কিংবা নিজেদের নগরী ছেড়ে বেরিয়ে যাও, তবে তারা তা করত না; অবশ্য তাদের মধ্যে অল্প কয়েকজন। যদি তারা তাই করে যা তাদের উপদেশ দেয়া হয়, তবে তা অবশ্যই তাদের জন্য উত্তম এবং তাদেরকে নিজের ধর্মের ওপর সুদৃঢ় রাখার জন্য তা উত্তম হবে। (নিসা: ৬৬)

আমাদের প্রতিনিয়ত সর্বোচ্চ ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে কারণ দ্বীন প্রতিষ্টার কাজে অতীতে জীবন দিতে হয়েছে, ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়েছে এবং তারা অল্পই ছিল।

আল্লাহ্‌ বলেন,

আর তোমাদের মধ্যে এমনও কেউ কেউ রয়েছে, যারা অবশ্য বিলম্ব করবে এবং তোমাদের ওপর কোন বিপদ উপস্থিত হলে বলবে, আল্লাহ্ আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, আমি তাদের সাথে যাইনি। (নিসা: ৭২)

আমদের সময়ানুবর্তী হতে হবে, আমাদের অধিকাংশই সময়ের ব্যপারে গাফিল। উপরোক্ত আয়াতটি তাবুকের যুদ্ধে সেই সকল সাহাবীদের ব্যপারে বলা হয়েছে যারা সময় মত প্রস্তুতি না নিতে পারার কারণে তাবুক যুদ্ধে যেতে পারানি এবং তাদের উপর আল্লাহ্‌ ও তার রাসূল ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন এবং তাদের মুনাফিক মনে করা হচ্ছিল যদিওবা তারা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবী ছিলেন। তাই আমারা যারা সময় মত সার্কেলে, পাঠচক্রে, মিছিলে, লিফলেটিং এ আসিনা তাদের আসলেই চিন্তা করা উচিত আমরা মুনাফিকের আচরণ করছি কিনা।

আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,

পেছনে থেকে যাওয়া লোকেরা আল্লাহর রাসূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসে থাকতে পেরে আনন্দ লাভ করেছে; আর জান ও মালের দ্বারা আল্লাহ্ রাহে জেহাদ করতে অপছন্দ করেছে এবং বলেছে, এই গরমের মধ্যে অভিযানে বের হয়ো না। বলে দাও, উত্তাপে জাহান্নামের আগুন প্রচণ্ডতম। যদি তাদের বিবেচনা শক্তি থাকত। (আত তাওবা: ৮১)

আমরা যারা দাওয়ার কঠিন কাজগুলো করতে চাই না তাদের উপরের আয়াতটি ভালভাবে চিন্তা করে দেখা উচিত।

আল্লাহ তা’আলা বলেন,

আর যখনই কোন সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন তারা একে অন্যের দিকে তাকায় যে, কোন মুসলমান তোমাদের দেখছে কি-না- অতঃপর সরে পড়ে। আল্লাহ্ ওদের অন্তরকে সত্য বিমুখ করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই তারা নির্বোধ সম্প্রদায়। (আত তাওবা: ৩৮)

আমরা যারা কোন কাজ আসলে নিজেকে বাঁচিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি এবং তা অন্যের হাতে তুলে দিতে চাই উপরের আয়াতটি আমাদের জন্য সতর্কতা সরূপ।

মাঝে মাঝে আমরা দুনিয়ার মায়ার কারণে দাওয়াতে কম সময় দেই তাই আল্লাহ ত ‘আলা আমাদের বলছেন,

হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কী হল, যখন আল্লাহর পথে বের হবার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধর, তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প। (আত তাওবা: ৩৮)

আমারা যারা দীর্ঘকাল ধরে দাওয়াহ করছি আল্লাহ তা’আলা তাদের সতর্ক করে বলছেন,

যারা মুমিন, তাদের জন্যে কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি ? তারা তাদের মত যেন না হয়, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল। তাদের ওপর সূদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে, অতঃপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের অধিকাংশই পাপাচারী। (হাদীদ: ১৬)

তাই আমাদের প্রতিনিয়ত অন্তরকে জাগ্রত ও শিক্ত রাখতে হবে যাতে আমাদের অন্তর কঠিন হয়ে না যায়, আর এটি সম্ভব যদি আমরা পাঁচটি বিষয় খেয়াল রাখি তা হল,

প্রথমত: প্রতিদিনই আল্লাহ্’র (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে আমাদের সদা সচেষ্ট থাকতে হবে। এর মানে হচ্ছে, ব্যক্তিগত জীবনে শারী’আহ্’র সমস্ত ফরযগুলো নিষ্ঠার সাথে পালন করা, হারামগুলো পুরোপুরি বর্জন করা এবং যথাসাধ্য নফল ইবাদত করা। অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি কাজের সাথে আল্লাহ্‌র সম্পর্ক অনুধাবনের চেষ্টা করা ।

দ্বিতীয়ত: আমাদের প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কুর’আন তেলাওয়াত করতে হবে। এই কুর’আনের বাণী যা অন্যের কাছে বহন করে নিয়ে যাচ্ছি, যাকে আমরা সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছি, আর আমরা নিজেই যদি কুর’আন পাঠ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকি তাহলে কীভাবে হবে? এছাড়াও দাওয়া-বহন করতে গিয়ে সমাজে যে বাধা, অপমান ইত্যাদির সম্মুখীন হতে হয়, যে মানসিক যাতনা তৈরী হয় কুর’আন পাঠে তা অপসারিত হয়। কুর’আন অন্তরকে প্রশান্ত করে। ব্যাটারির যেমন নির্দিষ্ট সময় পর চার্জের প্রয়োজন হয় তেমনি মুমিনেরও চার্জের প্রয়োজন হয়। তাই আমাদের উচিত হবে কুরআনকে অর্থসহ পড়া, এর অর্থ নিয়ে চিন্তা করা ও তাফসীর অধ্যয়ন করা।

তৃতীয়তঃ আমাদের দৈনন্দিন কাজের একটি অংশ থাকবে ইসলামী জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য। কেননা ইসলামী জ্ঞান ছাড়া ইসলামকে নিজের জীবনে প্রয়োগ ও অন্যের কাছে সঠিকভাবে ইসলামকে পৌঁছানো অসম্ভব। আমাদের অবশ্যই দলের সকল গৃহীত বই পরতে হবে এবং ইসলামের বিভিন্ন শাখায় নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে আমাদের প্রয়োজনীয় জ্ঞানার্জনের চেষ্টা করতে হবে এবং এটা দিয়ে আমাদের দাওয়াত ও প্রচারকে সমৃদ্ধ করতে হবে।

চতুর্থতঃ আমাদের অবশ্যই প্রতিদিনকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খবরাখবর জানতে হবে এবং এর ভিত্তিতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিশ্লেষণ দাঁড় করাতে হবে এবং প্রতিটি ঘটনাকে একটি দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখতে হবে। এটা এজন্য যে, আমাদের পুরো কাজটাই রাজনৈতিক কাজ যার অংশ হচ্ছে জালেম শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাদের দূর্বল করে ফেলা এবং ইসলামের শত্রুদের মুখোশ উম্মোচন করে দেয়া। এই কাজ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবেনা যদি না আমারা তাদের প্রতিদিনকার নিত্য নতুন অপকর্ম, জুলুম এবং জনগণের ব্যাপারে তাদের ক্ষতিকর পরিকল্পনা সমূহের ব্যাপারে সর্বশেষে সংবাদের খোঁজ না রাখি। ফলশ্রুতিতে, আমরা জনগণের সাথে ঐভাবে জনসংযোগ করতে পারবোনা যা দিয়ে আমরা জনগণকে শাসকদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে পারি এবং তাদেরকে দ্রুত আন্দোলনে নামাতে পারি। উপরন্তু, এর ফলে আমরা যথা সময়ে যথোচিত কাজ সমাধা করতেও ব্যর্থ হব এবং এমন সব সুযোগ হারিয়ে ফেলব যার সদ্ব্যবহার করতে পারলে অল্প সময়েই আমরা তার দাওয়াত ও আন্দোলনকে এক ধাপে অনেকদূর এগিয়ে নিতে পারতাম। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, রাজনীতিতে একটা মাত্র দিনও অনেক লম্বা সময় যাতে পিছিয়ে পড়া যাবেনা কখনোই।

পঞ্চমতঃ এবং সবচে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অবশ্যই আমাদের দৈনন্দিন কাজের অন্যতম অংশ হবে বাস্তবে এই দাওয়াতকে আরেকজনের কাছে পৌঁছে দেয়া, আরো কার কাছে নেয়া যায় তার সুযোগ অনুসন্ধান করা। পরিচিত-অপরিচিত, বন্ধু, আত্মীয়, কর্মস্থলের সহকর্মী প্রত্যেকের কাছে কীভাবে এই দাওয়াত নিয়ে যাওয়া যায় এ সুযোগ খুঁজে বের করতে আমাদের সদা সচেষ্ট থাকতে হবে। ইসলামের আহ্বানকে সমাজের কাছে নানা উপায়ে পৌঁছে দেয়ার চিন্তাই আমাদের সারাদিনের প্রধান চিন্তা হওয়া উচিত। আমাদের একটা বিষয় মাথায় গেথে ফেলতে হবে “হয় আমি ইসলামের দাওয়াত নিয়ে কারো কাছে যাব অথবা মানুষ আমার কাছে আসবে”।

উপরোক্ত কাজগুলো আমাদের সর্বদা ইসলামের ভিতর নিমজ্জিত রাখবে তাই শয়তান আর আমাদের আর তার কু মন্ত্রনা দিতে পারবে না এবং আমাদের অন্তর জাগ্রত ও শিক্ত থাকবে। আর যদি আমারা তা না করি তাহলে আমাদের পরিণতি হবে তার মত যার ব্যপারে আল্লাহ্‌ বলেন,

তাদের অবস্থা সে ব্যক্তির মত, যে লোক কোথাও আগুন জ্বালালো এবং তার চার দিকের সবকিছুকে যখন আগুন স্পষ্ট করে তুললো, ঠিক এমনি সময় আল্লাহ্ তার চারদিকের আলোকে উঠিয়ে নিলেন এবং তাদেরকে অন্ধকারে ছেড়ে দিলেন। ফলে তারা কিছুই দেখতে পায় না। (বাকারা: ১৭)

এবং ফলশ্রুতিতে আমরা বিছিন্ন হয়ে পড়ব ইসলাম থেকে আল্লাহ্‌র রহমত থেকে এবং ভঙ্গ হয়ে যাবে সে অঙ্গীকার যা আল্লাহ্‌র সাথে আমরা করেছিলাম, আল্লাহ তা’আলা বলেন,

অথচ তারা পূর্বে আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিল যে, তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে না। আল্লাহর অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। (আল আহযাব: ১৫)

আমারা যারা এই অঙ্গীকার ভঙ্গের দরুন দাওয়া হতে ছিটকে পড়ব তাদের মনে রাখা উচিত এতে এই দাওয়ার কোন ক্ষতি হবে না আল্লাহ্‌ অন্যদের এর জন্য মনোনীত করবেন কিন্তু আমরা হয়ে যাব ধ্বংস। আল্লাহ্‌ বলেন,

যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে প্রতিষ্ঠিত করবেন, এরপর তারা তোমাদের মত হবে না। (মুহাম্মাদ: ৩৮)

অতএব আমরা নিজেদের সংশধন করে নেই কারণ আল্লাহ্‌র রাস্তা যারা তওবা কারী তাদের জন্য সব সময় খোলা। আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,

তবে যারা তওবা করে এবং বর্ণিত তথ্যাদির সংশোধন করে মানুষের কাছে তা বর্ণনা করে দেয়, সে সমস্ত লোকের তওবা আমি কবুল করি এবং আমি তওবা কবূলকারী পরম দয়ালু। (বাকারা: ১৬০)

আমরা এখন থেকে প্রতিজ্ঞা করি আমরা তাদের মত হব যারা এই আমানত রক্ষায় সর্বচ্চ চেষ্টা করেছেন। এজন্য আমাদের দয়াওয়ার অগ্রবর্তীদের সম্পর্কে জানতে হবে এবং তাদের অনুসরণ করতে হবে। সর্ব প্রথম আমরা যদি আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) এর জীবনের দিকে তাকাই, তিনি যখন প্রথম ওহী পেলেন তখন বলেছিলেন “আজ হতে আমার আর বিশ্রাম নেই” আসলেও তিনি (সা) আর কোন বিশ্রাম নেননি তার ওফাতের আগপর্যন্ত।

সাহাবাদের ত্যাগের ব্যপার আমাদের সবার জানা তাই আমরা যদি বর্তমানে যারা ইসলামকে পুনরায় প্রতিষ্টাকারী নিষ্টাবান ব্যক্তিদের দিকে তাকাই যারা সর্ব প্রথম এই দাওয়াহকে শুরু করেছিলেন ফিলিস্তিন হতে আজ যা মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পরেছে তাহলে দেখব তারা কত কষ্ট করেছেন এর জন্য। ইন-শা-আল্লাহ তাদের ব্যপারেই আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,

মুমিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের সংকল্প মোটেই পরিবর্তন করেনি। (আল আহযাব: ২৩)

হে আল্লাহ্‌ আপনি আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা প্রতীক্ষা করছে ওয়াদা পূরণ করে মৃত্যুবরণ করার জন্য।

আল্লাহ তা’আলা বলেন,

নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ্, অতঃপর তাতেই অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না এবং তোমাদের প্রতিশ্রুত জান্নাতের সুসংবাদ শোন। (হা মিম আস সাজদা: ৩০)

হে আল্লাহ্‌ আপনি আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা আপনাকে রব মেনে দৃঢ় থকবে এবং আমাদের মৃত্যুর পূর্বে ফেরেস্তাহ দিয়ে জান্নাতের সুসংবাদ দান করুন। আমীন।

Monday, February 11, 2013

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: জাগরণ নাকি চক্রান্তের বেড়াজালে বাংলাদেশ?

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের কিছু উল্লেখযোগ্য ইস্যুর মধ্যে একটি হল যুদ্ধপরাধ ইস্যু। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে; যদিও বিচার রায় কার্যক্রম শুরু করে ক্ষমতার মেয়াদ যখন শেষ পর্যায়ে।

নানা জল্পনা-কল্পনা, ধ্যান-ধারণা শেষে সর্বপ্রথম আবুল কালাম আযাদের ফাঁসির রায় দেওয়া হয় এবং কয়দিন পূর্বে কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন। এই রায়ের মধ্যে চমকপ্রদ অংশ হল এই জায়গায় যে, যার (আবুল কালাম আযাদ) ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছে তিনি পলাতক আর যিনি হাতের নাগালে অর্থ্যাৎ রায় বাস্তবায়নে সুবিধাজনক স্থানে যিনি তাকে দেওয়া হল যাবজ্জীবন। আর এই সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদন্ড রায় দেয়ার পর ফাঁসির দাবিতে তথাকথিত বেনামী জাগরণ দেখানো হচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। মিসরের তাহরীর স্কয়ারের নামানুসারে শাহবাগ স্কয়ারের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে; যদিও তাহরীর স্কয়ারের আন্দোলন আর এই নৃত্য-গীতের মধ্যে দূর দূর পর্যন্ত কোন মিল নেই। কারণ, তাহরীর স্কয়ারের আন্দোলন ছিল অত্যাচারী শাসকের পতনের দাবিতে, বাংলাদেশের শাহবাগের মত কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়।

সকল প্রেক্ষাপটসমূহ বিবেচনা করলে দেখা যায়, এটি কোন বিচারের দাবিতে গড়ে তোলা আন্দোলন নয়; বরং, একটি সুবিশাল চক্রান্তের স্বরূপ বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা। আর অনুধাবনের লক্ষ্যে আমাদের বেশ কিছু সময় পেছনে ফিরে যেতে হবে।

২০০৯ সালে হাসিনা সরকার যখন ক্ষমতায় আসীন হয়, তখন থেকে তার আমেরিকা-ভারত প্রীতির প্রেক্ষিতে কার্যক্রম শুরু হয়। নির্বাচনে জয়লাভের শর্তস্বরূপ আমেরিকার সাথে কৃত ওয়াদাসমূহ বাস্তবায়নে সচেষ্ট হয়। একে একে ACSA/TICFA থেকে শুরু করে সামরিক মহড়া যেমনঃ টাইগার শার্ক- ১,২,৩,৪ ইত্যাদির মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে আমেরিকার দালাল সৃষ্টির চেষ্টা বজায় রাখে।

অপরদিকে, ভারতের সাথে তার চুক্তিসমূহের মধ্যে TIFA, TRANSIT ইত্যাদি বাস্তবায়ন করতে থাকে। চুক্তির ধারাবাহিকতায় চক্রান্ত বাস্তবায়নে হত্যা করে নিষ্ঠাবান সেনা অফিসারদের, আলেমদের দেওয়া হয় কুফর সমর্থনের প্রশিক্ষণ এবং তাবেদারীতে বাধ্য করা হয়।

আর অভ্যন্তরীণ স্বার্থসিদ্ধিতে যুদ্ধপরাধের বিচারের নাটক শুরু করে। জনগণের আবেগ পুঁজি করে গড়ে তোলা এই মঞ্চ নাটক বিচারের নামে জনগণের সামনে মূলা উচিয়ে ধরে রাখা ছাড়া আর কিছুই নয়। নির্বাচনপূর্ব জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুদ্ধপরাধের বিচার শুরু করলেও তা মূলত রাজনৈতিক দ্বন্দের এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বাস্তবায়ন।

কিন্তু মূল সমস্যা এখানে নয়, বরং অন্যদিকে। আওয়ামী লীগ আমেরিকার ছত্রছায়ায় নির্বাচনে জয় লাভ করলেও এটি কোন ভাবেই ভুলে যাওয়া উচিত হবেনা যে, আওয়ামী লীগ কংগ্রেস তথা ভারত-বৃটেন পন্থী একটি দল। অপরদিকে, বিএনপি আমেরিকাপন্থী। বলা যেতে পারে, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলসমূহে ভেদে প্রভুরা আমেরিকা-বৃটেন।

ক্ষমতায় আসীনের পর থেকে আওয়ামী সরকারের সাথে আমেরিকার সম্পর্ক ভালোই চলছিল। কিন্তু এই সম্পর্কের ওজন যখন ভারতের সাথে আওয়ামী লীগের তুলনায় ভারী হয়ে উঠলে বিষয়টি আওয়ামীলীগের মূল প্রভু বৃটেনের ভয় হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, আমেরিকার এই অঞ্চলে আনাগোনা ও বাংলাদেশে তাদের অবস্থানের পাঁয়তারা বৃটেনের স্বার্থসিদ্ধি এবং তার দোসর ভারতের লক্ষ্য আঞ্চলিক পরাশক্তি হওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায়। কারণ, আমেরিকা–ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক।

প্রতিবছর সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সংলাপে ভারত সম্পর্কে আমেরিকা বক্তব্য থাকে এইরূপঃ “গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত। এই সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার মূল ভিত।” অর্থ্যাৎ তাদের সম্পর্কের ভিত্তি সুস্পষ্টভাবে স্বার্থের উপর ভিত্তি করে এবং যখন কারো স্বার্থের ওপর আঘাতের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় তখন একে অপরের শত্রুতে পরিণত হয়।

যাই হোক, আমেরিকার এই অঞ্চলের উপস্থিতি যখন ভারত-বৃটেনের স্বার্থবিরোধী অবস্থানে পৌঁছায়, তখন বৃটেন তার সরকার নিয়ন্ত্রণ কলকাঠি নাড়তে শুরু করে এবং হাসিনা সরকারের নাড়ির দড়ি টেনে ধরে; এবং আমরা এর স্বরূপ দেখতে পায় যুক্তরাজ্যের ইকোনোমিস্ট পত্রিকায় আওয়ামী সরকারের একের পর এক কঠোর সমলোচনার মাধ্যমে। যার মধ্যে আমেরিকা তোষামোদের বিষয়টিও উঠে আসে।

এবং পরবর্তীতে হাসিনার অবস্থান পরিবর্তন হতে থাকে। বিভিন্ন বিষয়ে সে আমেরিকাকে এড়িয়ে চলতে থাকে। আমেরিকার সাথে একের পর এক রাষ্ট্রীয় বৈঠক থেকে ব্যস্ততার অজুহাতে অনুপস্থিত থাকতে শুরু করে। আর বিষয়টি সুস্পষ্ট হতেই আমেরিকা তার ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করে। আই.এম.এফ-এর মাধ্যমে পদ্মা দুর্নীতি ইস্যু উঠায় এবং বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়া বন্ধ করে দেয়; যা ছিল মূলত হাসিনা সরকারের মুখে চপেটাঘাত।

কিন্তু হাসিনা সরকার প্রমাণ করল যে, এই দ্বন্দে সে একাকী খেলোয়ার নয়; বরং সে তার জন্মগত প্রভু অর্থ্যাৎ বৃটেন এবং আমেরিকার অপর স্বার্থভিত্তিক শত্রু রাশিয়ার ছত্রছায়ায় রয়েছে, আই.এম.এফ-এর ঋণ প্রত্যাখান এবং EU–এর সাথে সম্পর্কন্নোয়নের দ্বারা। এটি শুধুমাত্র ঋণ প্রত্যাখান ছিল না, বরং আমেরিকাকেই প্রত্যাখান করা।

এমতাবস্থায় আমেরিকা ঠিক একই প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যেমনটি সে সর্বদা প্রস্তুত রাখে তার সাথে বিরুদ্ধাচরণকারীদের জন্য। পূর্বকৃত চুক্তি অনুযায়ী ACSA চুক্তির ভিত্তিতে সে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে তার সেনা, গোয়েন্দা উপস্থিতি সক্রিয় করার পাশাপাশি বিমান, নৌ ঘাটি স্থাপন আর সেনাবাহিনী-নৌবাহিনীতে তাদের প্রভাব বিস্তারের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে এবং রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিদের নির্যাতন, গুম, হত্যা করে চলেছে।

আর এই পরিস্থিতিতে যখন আওয়ামী লীগ সরকার তার মেয়াদের শেষ প্রান্তে, তখন নির্বাচন ইস্যু হিসেবে পুনরায় যুদ্ধপরাধ ইস্যুটি প্রদর্শনের জন্য তড়িঘড়ি কজরে কিছু বিচারের নাটক দেখাচ্ছে এবং বাকি বিচার পরবর্তীতে নির্বাচিত হলে পরিপূর্ণ করবে, এই ধরণের ইশতেহার জারিই তাদের চক্রান্তের অংশ। হয়ত, পিলখানা হত্যাকান্ডের বিচারো এইসকল মিথ্যা ওয়াদার অন্তর্ভুক্ত হবে।

কিন্তু বিষয়টি শুধুমাত্র আভ্যন্তরীণভাবে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এই বিচারকে পুঁজি করে মূলত আমেরিকা বৃটেনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শুরু হয়েছে। এবং হাসিনা-খালেদা-জামায়াত-বামদলগুলো এখানে শুধুমাত্র দাবার গুটির ভূমিকা পালন করছে।

আগেই বলা হয়েছে যে, তাদের ঐক্যের মূল হল তাদের স্বার্থ। যখন কোন অবস্থা বা কার্যক্রম স্বার্থবিরোধী হয়, তারা যে কারো বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

আরব জাগরণের পর আরব পেনিনসুলা থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আমেরিকা-বৃটেন এখন এশিয়ার দিকে দৃষ্টি দিয়েছে। কারণ এই অঞ্চলের উপর শীঘ্রই নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারলে তা যেকোন সময় হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এতদিন যাবৎ আরবের মত এই অঞ্চলসমূহ তাদের দালাল শাসক দ্ব্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু আরবের মত এই অঞ্চলেও উম্মাহ’র জাগরণের সম্ভাবনা তাদের ভাবিয়ে তুলেছে এবং এই কারণে এই অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম পূর্বের তুলনায় অধিক হার বিস্তৃত করতে উদ্যত হয়েছে। নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক কর্মসূচির নামে সেনাবাহিনীর সাথে একের পর এক সামরিক মহড়া, জঙ্গি দমনের নামে শারীরিক উপস্থিতি, অঞ্চলসমূহ অস্থিতিশীল করে রাখা ইত্যাদি অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই সবের কারণ হল; আরবের মত এই অঞ্চলেও খিলাফতের জন্য দিন দিন যে আওয়াজ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে তা রুখে দেওয়া এবং চীনের অর্থনৈতিক উন্নতি, যা যুক্তরাষ্ট্র-বৃটেন উভয়ের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে হুমকিস্বরূপ। কারন চীন ইতোমধ্যে তার অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভিত হিসেবে স্বর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। চীনকে নিয়ন্ত্রন এবং অর্থনৈতিক ফায়দা হাসিলে উভয়েই (আমেরিকা-বৃটেন) উঠে পড়ে লেগেছে।

আর বাংলাদেশে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে তাদের জন্মগত দালাল হাসিনা-খালেদা। হাসিনা বৃটেন-ভারতের স্বার্থপন্থী কাজ করে যাচ্ছে অবিরতভাবে। আর খালেদা নিজের রাজনৈতিক দুর্বল অবস্থানের কারণে এখন সরাসরি আমেরিকাকে বাংলাদেশে হস্তক্ষেপের ব্যাপারে আহবান করে যাচ্ছে নির্লজ্জভাবে।

আপনি তাদের অনেককে দেখবেন কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করে। তারা নিজেদের জন্য যা পাঠিয়েছে তা অবশ্যই মন্দ। তা এই যে, তাদের প্রতি আল্লাহ ক্রোধান্বিত আছেন এবং তারা চিরকাল আযাবে থাকবে” [আল মায়িদাহঃ ৮০]

যদি তারা আল্লাহ’র প্রতি ও রাসূলের প্রতি অবতীর্ণ বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করত, তবে কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত না” [আল মায়িদাহঃ ৮২]

আর এরই ধারাবাহিকতায় যুদ্ধপরাধের বিচারের রায় নিয়ে এই জাগরণে শাসক নাটকের সূত্রপাত ।

একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে অনুধাবন করা যাবে সম্পূর্ণ বিষয়টি । এই মুহূর্তে শাহাবাগ চত্বরে নাটকটির মূল ভূমিকায় রয়েছে বামদলগুলো। কিন্তু আসল ব্যাপার হল বামদলগুলো ১৪ দল অর্থাৎ আওয়ামী মহাজোটের অন্তর্ভুক্ত ।

বিগত ৪ বছর যাবৎ আওয়ামীলীগ তার অন্যায়, জুলুমের কারণে এমনিতেই জনসমর্থন হারিয়েছে এবং জনগণের মধ্যে ক্ষোভের পাত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে । অপরদিকে, বি এন পি তার রাজনৈতিক অদূরদর্শীতার কারণে দুর্বল, ভঙ্গুর অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে । তাই, শেষ সময়ে নিজ প্রভু আমেরিকার হস্তক্ষেপ কামনায় তার শেষ ভরসা ।

আওয়ামীলীগ যখন বুঝতে পারলো, জনগণের মধ্যে তাদের প্রতি সমর্থন শূন্যের কোঠায় এবং পরবর্তী নির্বাচনে এই যুদ্ধপরাধীর ইস্যুও কাজে দিবে না । ঠিক এইসময় বিচারের নামে নাটকের সূত্রপাত ঘটায় । এবং এর নেতৃত্ব নিয়ে নেয় বামদলগুলো ।

যাদের কিছুদিন আগে হরতালের ঘোষণা দিয়ে গান-বাজনার মাধ্যমে অহিংস বা দেশপ্রেমিক প্রমাণে উদ্যত হয়েছিল সরকার । এই বামদলগুলো আওয়ামী বিচ্ছিন্ন কোন সংঘটন না; বরং আওয়ামীলীগের সাথেই জোট বাঁধা দল ।

অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে কুফর এই জাগরণ দিয়ে একসাথে দুটি কাজ সারছে । ক. তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন খ. পুনরায় আওয়ামীলীগের আঁচলেই জাগরণের ভোট ।

এই তথাকথিত জাগরণের মূল উদ্দেশ্য:-

তথাকথিত এই জাগরণের প্রেক্ষিতে শাহবাগ চত্বরকে আজ শাহবাগ স্কয়ার বলা হয়েছে যা মূলত মিসরের ‘তাহরীর স্কয়ার’ অনুকরণে ।

স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, মিসরের আন্দোলন ছিল অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে, কোন কুফরের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে নয়। যদিও সে জাগরণও ছিনতাই করা হয়েছে ইসলামী লেবাসধারীদের মাধ্যমে এবং সে পুনরায় জাগরণ জেগে উঠেছে ।

বাংলাদেশের এই মঞ্চনাটকে শুক্রবারের সমাবেশে বক্তৃতায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এর উদ্দেশ্য ।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন এভাবে, “আমরা যুদ্ধ করিনি বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠায়, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায়” ।

মূলত, এটি একটি মিথ্যাচার । তৎকালীন মানুষ যুদ্ধে যাওয়ার আগে শপথ নিয়েছিল অত্যাচারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নয় । কিন্তু পরবর্তীতে ক্ষমতার পালাবদল হয় এক দালাল থেকে আরেক দালালের হাতে ।

এই বক্তব্যসমূহ সুস্পষ্টভাবে ধারণা দেয় তাদের ঘৃণ্য চিন্তার, জঘন্য ষড়যন্ত্রের ।

কাফেররাই কেবল আল্লাহ’র আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে। কাজেই নগরীসমূহে তাদের বিচরণ যেন আপনাকে বিভ্রান্তিতে না ফেলে” [আল মু’মিন: ৪]

আর তাদের মত হয়ে যেয়ো না, যারা বেরিয়ে পড়েছে নিজেদের অবস্থান থেকে গর্বিতভাবে এবং লোকদেরকে দেখাবার উদ্দেশ্যে। আর আল্লাহ’র পথে তারা বাঁধা দান করত। বস্তুত আল্লাহ’র আয়ত্তে রয়েছে সে সমস্ত বিষয় যা তারা করে” [আল আনফাল: ৪৭]

তারা জনগণের মাঝে ইসলামের প্রতি ভালোবাসা, আবেগ মুছে দিতে চায়। কারণ দিন দিন জনমত ইসলামের দিকেই ধাবিত হচ্ছে । ইসলামের প্রতি জনসচেতনতা তাদের ভাবিয়ে তুলছে এবং এই কারণে তারা তাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে লিপ্ত এবং বামদল! আওয়ামী-বি.এন.পি প্রত্যেকেই এখানে ননীর পুতুল; যা ইতোপূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে ।

এবং পাশাপাশি এই ষড়যন্ত্রকারীরা মানুষের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে যেমনটি করা হয়েছিল পূর্বে। অতঃপর সংঘাতের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে নিজেদের শারীরিক অবস্থার জানান দিবে কুফর শক্তিসমূহ ; যা আমরা বর্তমানে পাকিস্তানে দেখছি ।

অথচ এরা যদি তোমাদের কাবু করতে পারে, তাহলে এরা শত্রুতে পরিণত হবে, এরা নিজেদের হাত ও কথা দিয়ে তোমাদের অনিষ্ট সাধন করবে, এরা তো এটাই চায় যে, তোমরাও তাদের মত কাফের হয়ে যাও” [আল মুমতাহিনাঃ ২]

সুতরাং আমাদের মুসলিমদের জন্য এটি কোনভাবেই সমীচীন হবে না যে, আমরা এই সকল চক্রান্তে পা দিয়ে কুফরের চক্রান্ত বাস্তবায়নে তাদের সাহায্য করব ।

বরং, ধর্মনিরপেক্ষতার মত অসুস্থ মতবাদ ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে এই সকল চক্রান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কর্তব্য এবং কুফরের চক্রান্তের সমুচিত জবাব দেওয়া আমাদের দায়িত্ব আর এটি সম্ভব শুধুমাত্র ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা খিলাফাহ পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।

ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা উম্মাহর সাথে প্রতারণাকারী প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির নিশ্চয়তা দেয়(ইসলামী রাষ্ট্রের খসড়া সংবিধান, ধারা-৬৮)

ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা মুসলিমদের উপর অপর রাষ্ট্রের খবরদারিতা খর্ব করবে। (ইসলামী রাষ্ট্রের সংবিধান, পররাষ্ট্রনীতি, ধারা-১৭৬)

ইসলামী রাষ্ট্র এর সেনাবাহিনীকে মুক্ত রাখে বিদেশী শক্তির প্রভাব থেকে ।

ইসলামী রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হল ইসলামের আক্বীদা । সুতরাং, ইসলামী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সকল বিষয়সমূহ ইসলামের আদলেই পরিচালিত হয়; যাতে ব্যক্তি বর্তমানে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার মত ব্যক্তি স্বার্থসিদ্ধির সুযোগ নেই ।

আজকে বাংলাদেশসহ সারা মুসলিম বিশ্ব ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক বা স্বৈরতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা মুসলিমদের কাফিরদের অধীনস্থ করে রেখেছে। আর এই কাফিরদের হাতে ভুলুন্ঠিত হচ্ছে মুসলিমদের বিশ্বাস ও জীবন। পরিবর্তনের রাজনীতির মিথ্যা আশ্বাসে কোন পরিবর্তন আসেনা। বিভিন্ন মতবাদ-দলের ছদ্মাবরনে এরা সবাই ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনের আনুগত্যকারী দালাল। এরা কখনো একটি অপরটির বিকল্প হতে পারেনা।

মুসলিমদের জন্য একমাত্র বিকল্প, বৈধ, গ্রহণযোগ্য ও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কতৃক মনোনীত ব্যবস্থা খিলাফত শাসন ব্যবস্থা। যা রাসূল (সা) মদীনাতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। খিলাফত সরকারই মুসলিমদের একমাত্র মুক্তির উপায়। এটা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরয দায়িত্ব। খালেদা-হাসিনা বা অন্য কোন গণতান্ত্রিক বা মানবরচিত শাসন ব্যবস্থার শাসকের সাথে মুসলিমদের খলীফার কোন তুলনায় হয়না। সারা বিশ্বে মুসলিমদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অচিরেই আসবে খিলাফাহ . . . . . . . ইন-শা-আল্লাহ।

“. . . অতঃপর আবারো আসবে নব্যুয়তের আদলের খিলাফত . . . . .” [মুসনাদে আহমদ]
  
  
তথ্যসূত্র:

http://www.globalsecurity.org/military/facility/acsa.htmhttp://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-02-02/news/325986
http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=e4cb439c73e474cd2ee23a9455ada295&nttl=20130115090233166321
http://prothom-alo.com/detail/date/2013-01-30/news/325297

http://m.washingtontimes.com/news/2013/jan/30/the-thankless-role-in-saving-democracy-in-banglade/