Thursday, August 30, 2012

বরফের মতোই গলে যাওয়া...

আজকে অফিসে আসার সময় দেখলাম অনেক গুলো বড় বড় বরফের খন্ড একটি পিকআপে করে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের গন্তব্য সম্ভবত কাওরানবাজার। গাড়ি থেকে প্রতি মূহুর্তে বরফ গলে গলে পরছে। পথিমধ্যে জ্যামে পরলো গাড়ি। এবার প্রায় অঝোর ধারায় পানি পরছে। মোটা মোটা বরফের খন্ড গুলো ধীরে ধীরে চিকন আর পাতলা হয়ে আসছে।

কয়েকদিন আগে ইফতার কেনার জন্য বাইরে বের হয়েছি ঠিক ইফতারের আগ মুহূর্তে। ইফতারের বিভিন্ন পসরা সাজিয়ে রাস্তার দু'ধারে অনেক দোকান। এর পাশে ছোট দু'টি দোকানী দেখলাম বরফও বিক্রি করছে। প্রচন্ড গরমের দিনে রোজা এলে তখন বরফের বিক্রিও বেড়ে যায়। অবশ্য গরম এবার অতো বেশি না হওয়ায় তাদের বরফ অতো বিক্রি হচ্ছে না। ভীড় পাশের দোকান গুলোতেই। বরফ বিক্রেতাদের মুখ তাই খুবই মলিন। একদিকে ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসছে, অপর দিকে তাদের বরফও গলে যাচ্ছে। যে কোনো মূল্যে ইফতারের আগেই তাদের সব বরফ বিক্রি করতে হবে। না হলে অনেক লস হবে!

বরফের গলে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে খুবই বাস্তব এবং চাক্ষুস মনে হলেও এই বরফের মতোই আমাদের জীবনও যে ধীরে ধীরে গলে যাচ্ছে। জীবনের মূল্যবান সময় চলে যাচ্ছে। একটি নিশ্চিত পরিণতি ও গন্তব্যের দিকে যে আমরা প্রতি মূহুর্তে ধাবিত হচ্ছি তীব্র থেকে তীব্রভাবে, সেটি কিন্তু আমাদের আর মনে আসে না। স্মরণেও থাকে না।

বরফটুকু গলে যাওয়ার আগেই যে তাকে বিক্রি করে দিতে হবে, কাজে লাগাতে হবে; না হলে সমূহ বিপদ আর ভীষণ লস এটি সকলে খুব ভালো করে জানলেও, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মূহুর্ত গুলো যে অহেতুক কাজে কেটে যাচ্ছে, সেদিকে আমাদের কারো ভ্রুক্ষেপ নেই।

আমরা খুবই নিশ্চিতভাবে একটি মহাসত্যের দিকে ধাবিত হচ্ছি। সেটি হচ্ছে আমাদের জীবনের পরিসমাপ্তি তথা মৃত্যু। মৃত্যুর মাধ্যমে এ জীবনের বরফতুল্য হায়াতটি শেষ হয়ে যাবার পরই আমাদের সম্মুখীন হতে হবে এমন এক কঠিন বাস্তবতার, যার কোনো প্রস্তুতি নেই আমাদের অনেকেরই। বরফ বিক্রেতার জন্য একবার ব্যবসায় লস হলেও আরেকবার লাভের সুযোগ থাকে। কিন্তু আমাদের জীবনের এই সময়টুকু একবার চলে গেলে, এরপর শত আফসোস করলেও যে আর কাজ হবে না। বরং মৃত্যুর সাথে সাথেই আমরা সম্মুখীন হবো এক কঠিন জিজ্ঞাসাবাদের। যেখানে আমাদেরকে হিসাব দিতে হবে আমাদের এই জীবনের। হিসাব দিতে হবে প্রতিটি মূহুর্তের। এ বিষয়টিই কত সুন্দরভাবে আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন মহান রাব্বুল আলামীন। ঘোষণা করেছেন-

خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ

অর্থ: ‍"তিনিই সেই মহান স্বত্ত্বা, যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু এবং জীবন। যেনো তিনি এর মাধ্যমে তোমাদের পরীক্ষা নিতে পারেন, (দেখে নিতে পারেন) কে তার কাজে সৎকর্মশীল। আর তিনি তো পরাক্রমশালী, ক্ষমাকারী।" (সূরা মুলক, আয়াত ২)

সেই কঠিন দিন শীঘ্রই আমাদের সবার সামনে উপস্থিত হবে। সেদিনের সেই কঠিন অবস্থায় মুক্তি লাভের জন্য আজ জীবনের এই ক্ষয়ে যাওয়া মূহুর্তগুলোকেই কাজে লাগাতে হবে। যেটুকু সময় অবশিষ্ট্য আছে সেই সময়ের মধ্যেই পরকালের জন্য সম্বল তৈরী করতে হবে। দীনের জন্য, ইসলামের বিজয়ের জন্য এবং মানব রচিত মতবাদ আর মতাদর্শের জুলুম নির্যাতন থেকে বিশ্ব মানবতাকে মুক্ত করার জন্য কিছু করে যেতে হবে।

দুনিয়ার চাকচিক্য আর বিলাসিতার মোহে পরে, পরকালকে যেনো আমরা ভুলে না যাই। অবশ্যম্ভাবী সেই কঠিন বাস্তবতা যেনো আমাদের চিন্তা থেকে হারিয়ে না যায়। আল্লাহ আমাদেরকে সেই তাওফীক দিন।

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ وَاخْشَوْا يَوْمًا لا يَجْزِي وَالِدٌ عَنْ وَلَدِهِ وَلا مَوْلُودٌ هُوَ جَازٍ عَنْ وَالِدِهِ شَيْئًا إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ فَلا تَغُرَّنَّكُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَلا يَغُرَّنَّكُمْ بِاللَّهِ الْغَرُورُ (33)
 
অর্থ: "হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর এবং সেই দিনকে ভয় কর, যেদিন পিতা তার সন্তানের কোন উপকার করতে পারবে না এবং সন্তানও তার পিতার কোন উপকারে আসবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। সুতরাং দুনিয়ার জীবন যেন কিছুতেই তোমাদেরকে ধোকা দিতে না পারে এবং মহাপ্রতারক (শয়তান) যেন তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে ধোকায় ফেলতে না পারে।" (সূরা লুকমান, আয়াত ৩৩)


ইসহাক খান

মন্তব্য প্রতিবেদন : বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ প্রচারণা ও বাস্তবতা

below is an article written by Mahmudur Rahman, a renowned columnist of Bangladesh

http://www.amardeshonline.com/pages/details/2012/08/29/160966

একজন মুসলিমের দুটো আবশ্যক থাকা গুনাবলী আর কিছু কথা

إنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له ، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأن محمدا عبده ورسوله .. أما بعد

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته

[আমার ব্যক্তিগত আত্মোপলদ্ধি ; এই লেখা কারো সমালোচনা নয়]

আমরা অনেকেই আকীদাগতভাবে এবং আমলের দিক থেকে উন্নয়নের জন্য প্রতিনিয়ত প্রানান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
 
আলহাদুলিল্লাহ্। আমাদেরকে আল্লাহ্ সুবহানুহ্ তাআলা দ্বীন শিখার নিষ্ঠা দান করেছেন এবং আমরা দ্বীনের সৌন্দর্য বুঝতে শিখেছি। আমি আমার সকল ভাই-বোনদের যে দুটো গুণাবলীর কথা বলছি, তা আমাদের বেশ গোচরে থাকা সাধারন্যে দুটো অসাধারন গুনাবলী। এ দুটো গুনাবলী হলো:

১. সরল স্বীকরোক্তি প্রদান,"আমি জানি না।"
২. ক্রোধ সংবরন করা।

প্রথম গুনাবলীর গুরুত্বের সম্বন্ধে একটি ঘটনা বলি, যা Shaikh Yusuf Estes এর লেকচার থেকে, আমার ছোটভাই আমাকে বলেছে। তবে, এই ঘটনাটি আমার কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শিক্ষনীয় মনে হয়েছে।

ঘটনাটি এরুপ, একটি মুসলিম জনবসতিতে দুটি 'হালাকা' ছিল। দুই 'হালাখা'র প্রধান ছিলেন দুই Shaikh; যথারীতি তাদের মধ্যে ছিল নিজেদের Shaikh কে অন্ধ অনুসরনের প্রচলন। প্বা্শবর্তী এক মুশরিক জনবসতির সাথে তাদের ছিল দ্বন্ধ। মুশরিকদের একজন বু্দ্ধি এঁটে মুসলিম 'হালাকা'র একটিতে গিয়ে বললো, আমি মুসলিম হতে চাই। যথারীতি তারা তাকে শাহাদা'র মাধ্যমে মুসলিম হিসেবে বরন করলো। এবার সে নওমুসলিম হিসেবে প্রশ্ন করা শুরু করলো। 'হালাকা' সাধারনতঃ নওমুসলিমদের প্রাধান্য দেয়। সে জিজ্ঞেস করলো, সূরা কাহফে বর্ণিত গুহায় দাড়িয়ে থাকা কুকুরের রং কি? তখন, 'হালাখা'র Shaikh বললেন: 'কালো'।

একইভাবে, সে অপর 'হালাকা'য় গেল। অনুরুপভাবে, মুসলিম হওয়ার কথা বলে, একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলো। এবার এই 'হালাকা'র Shaikh বললো কুকুরের রং 'সাদা'।

এইভাবে, সে দুই 'হালাকা'র মুসলিমদের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিয়ে সটকে পড়লো।
 
এর সাথে Real life Scenario'র মিল খুঁজুন। আমরা সেই 'হালাকা' দুটির মতো অসংখ্য বিভেদ, বিভাজন সৃষ্টি করেছি কোরআন-সুন্নাহ'র অজ্ঞতা এবং Shaikh কে অন্ধ অনুসরনের প্রচলন দ্বারা।

যদি, 'হালাকা'দ্বয়ের Shaikh বলতো, কোরআন যার বর্ণনা নেই, তা "আমরা জানি না"। কেবল, আল্লাহ্ সুবহানাহু তাআলা'ই জানেন।

আমরা কেন বুঝি না, 'আমি জানি না' বলাটা জ্ঞান আহরনের অর্ধেক। এতে লজ্জান্বিত হওয়ার কিছু নেই।

আসুন, আমরা সবাই এই অনন্য গুন রপ্ত করার চেষ্টা করি।

এবার, এ প্রসঙ্গে, আপনাদেরকে যে কোন প্রশ্নকারী সম্বন্ধে একটু ধারনা দেই।

সাধারনতঃ প্রশ্নকারী দুই ধরনের হয়ে থাকে।

১. যারা to the point প্রশ্ন করে নিষ্ঠার সাথে জানার জন্য; তারা তৃপ্ত হয় জেনে এবং তা পালনে সচেষ্ট হয়,
২. যারা Round up and random প্রশ্ন করতে থাকে, যেভাবে বনী ইসরাইলের লোকেরা প্রশ্ন করেছিল মুসা (আলাইহিস্ সালাম) কে। এই ধরনের প্রশ্নকারীর নিষ্ঠা এবং বিশ্বাস সন্দেহযুক্ত, যাদের অধিকাংশ সত্য জেনে ও মানতে নারাজ; তারা দ্বীনের শুদ্ধতা থেকে স্পষ্টতঃ ই দুরে সরে গেল।

একটি উদাহরন দেই: যদি কেউ নামাজের ব্যাপারে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক অনেক প্রশ্ন করার পর স্পষ্টতঃ ই জেনে, নামাজ না পড়ে আর যে জানার পর আমূলে নিজেকে বদলে নেয়; এই দুইয়ের মাঝে উপরোক্ত দুই ধরনের প্রশ্নকারীর স্বরুপ বিদ্যমান।
 
তাই, এই বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে।

আবার, তর্কের বেলায় ও চার ধরনের লোক পাওয়া যায়:

১. যাদের জ্ঞান আছে এবং তারা জানে তাদের জ্ঞান আছে, তারা জ্ঞানী। তাদের কথা শুনুন।
২. যাদের জ্ঞান আছে এবং তারা জানে না তাদের জ্ঞান আছে, তাদের জানিয়ে দিন তাদের সুপ্ত প্রতিভার কথা।
৩. যারা জানে না, কিন্তু জানতে আগ্রহী; নিষ্ঠাবান ।
৪. যারা অজ্ঞ এবং অযৌক্তিক তর্ক করে, তাদের এড়িয়ে চলা উত্তম।

আমি এই মানদন্ড কাউকে পরিমাপ করার জন্য বলছি না; নিজের সীমাবদ্ধতাকে সংবরিত করার জন্য বলছি।

একজনকে দাওয়াহ্ কিংবা নসীহা প্রদান করার সময় সর্বোত্তম বিনয় অবলম্বনের প্রচেষ্টা আমাদের থাকতে হবে, তাই বলছি।

আমার মতে, দাওয়াহ্'র বেলায় ব্যক্তিবিশেষের মনস্তাত্ত্বিক আচরন বোঝাও দরকার। এটা প্রজ্ঞার পরিচায়ক।

এবার আসি, ক্রোধ সংবরন প্রসঙ্গে। রাসুল'ল্লাহ্ (সা) ক্রোধ সংবরনকারীকে সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তির আখ্যা দিয়েছেন। কেন, দিয়েছেন, তার বিস্তারিত আমরা সবাই কমবেশী বুঝি, ক্রোধ কি জিনিস!!

আমরা খুব অল্পতেই রাগি, এটাই আমাদের মূল সমস্যা। তবে, ক্রোধ সংবরন করা এবং মানুষকে ভালবেসে ক্ষমা করা মুত্তাকীদের অন্যতম বৈশিষ্ঠ্য। ক্রোধ প্রকাশ না করে ক্ষমা করে দেয়াই, প্রকৃত সংবরন। আমরা যদি অন্যদের ক্ষমা না করি, আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা'র ক্ষমা আমরা কিভাবে আশা করি।

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের ক্রোধ সংবরনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

অজ্ঞতা এবং ক্রোধ; এই দুটি শয়তানের প্রধানতম হাতিয়ার। আসুন আমরা নিষ্ঠাবান হই।

অজ্ঞতাকে জ্ঞান দ্বারা এবং ক্রোধকে ধৈর্য দ্বারা পরিবর্তিত করি।

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদেরকে শক্তি দিন।

امين
سبحانك اللهم و بحمدك أشهد أن لا إله إلا أنت أستغفرك و أتوب إليك


সায়্যিদ মাহমুদ গজনবী