Wednesday, June 3, 2009

আল কুরআন এর সংজ্ঞা

কুরআনের সংজ্ঞা নিম্নরূপ,

এটি আল্লাহর কালাম যা তাঁর বান্দা মুহাম্মদ (সা) এর উপর আরবী ভাষায় নাযিল হয়েছে। এটি একটি মু'জিযা এর সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সূরার ক্ষেত্রেও। এটি লিপিবদ্ধ আছে এবং আমাদের কাছে এটি মুতাওয়াতির বর্ণনায় এসে পৌছেছে। এর পঠন এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহর ইবাদত করি এবং সূরা ফাতেহা দিয়ে এর শুরু এবং সূরা নাস দিয়ে এর সমাপ্তি।

উপরোক্ত সংজ্ঞা থেকে বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। প্রথমত এটি আল্লাহ-র কালাম। এবং সেই কালাম যা হচ্ছে অলৌকিক (এ'জাজ)। কোরআনের এ’জাজ হচ্ছে এর অতি উচ্চমাত্রার বাগ্মীতা বা বাকশৈলিতা। এবং আল্লাহর অন্য কোনো কথা এ কোরআনের অংশ হবে না, উদাহরনসরূপ: হাদিসে কুদসী।

দ্বিতীয়ত সম্পূর্ণ কোরআনই আরবী ভাষায় নাযিলকৃত। এটি সম্পূর্ন আরবী এবং এতে কোনো বিদেশী শব্দ নেই। ইমাম শাফী' তার আর-রিসালাহ গ্রন্থে বলেন: ‌‌‌'‌আল কোরআন এই দিক নির্দেশনা দেয় যে আল্লাহর কিতাবের কোনো অংশই আরবী ভাষার বাইরে নয়...।' যারা এ ধরনের মতামত ব্যক্ত করেন যে কোরআনে অনারব শব্দ বিদ্যমান, তারা হয়তো কিছু শব্দ পেয়েছেন যা কিছু আরবের কাছে অপরিচিত। কিন্তু যেহেতু শব্দগুলো কোরআনে এসেছে, তাই সেসব শব্দ আরবী শব্দ হিসেবেই বিবেচিত হবে। অসংখ্য আয়াত এ নির্দেশনা দেয় যে কোরআন সম্পূর্ন আরবী ভাষায় নাযিলকৃত। যেমন:

نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الأمِينُ ~ عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ ~ بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ


বিশ্বস্ত রুহ একে নিয়ে অবতরন করেছে। আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি ভীতি প্রদর্শনকারীদের অন্তর্ভূক্ত হন। সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়। [সূরা শু'আরা: ১৯৩-১৯৫]

وَكَذَلِكَ أَنْزَلْنَاهُ حُكْمًا عَرَبِيًّا


এমনিভাবে আমি এ কোরআনকে আরবী ভাষায় নির্দেশরুপে নাযিল করেছি। [সূরা রাদ: ৩৭]

وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ قُرْآنًا عَرَبِيًّا


এমনিভাবে আমি আপনার প্রতি আরবী ভাষায় কোরআন নাযিল করেছি। [সূরা শুরা: ৭]

قُرْآنًا عَرَبِيًّا غَيْرَ ذِي عِوَجٍ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ


আরবী ভাষায় এ কোরআন বক্রতামুক্ত, যাতে তারা সাবধান হয়ে চলে। [সূরা যুমার: ২৮]

وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّهُمْ يَقُولُونَ إِنَّمَا يُعَلِّمُهُ بَشَرٌ لِسَانُ الَّذِي يُلْحِدُونَ إِلَيْهِ أَعْجَمِيٌّ وَهَذَا لِسَانٌ عَرَبِيٌّ مُبِينٌ


আমরা তো ভালোভাবেই জানি যে, তারা বলে: তাকে জনৈক ব্যাক্তি শিক্ষা দেয়। যার দিকে তারা ইঙ্গিত দেয় তার ভাষাতো আরবী নয়, এবং এ কোরআন পরিষ্কার আরবী ভাষায়। [সূরা নাহল: ১০৩]

কোরআনের অনুবাদও কোরআন বলে গন্য হবে না তা যতই বিশুদ্ধ হোক না কেন। এ কারণেই আমরা অনুবাদ হতে আহকাম আহরন করতে পারি না, অনুবাদ দিয়ে নামাযও পড়া যায়না এবং অনুবাদ পঠনে ইবাদতও হয়না।

তৃতীয়ত, কোরআন আমাদের মাঝে মুতাওয়াতির বর্ণনার মাধ্যমে এছে পৌছেছে যা একে নিশ্চিত বিশুদ্ধতা দান করে। এটি আমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ (সা) এর সময় হতে মুখস্থ ও লিখিতরূপে আজকের দিন পর্যন্ত এসে পৌছেছে।

মুসলিম উম্মাহর ঐক্য

ঐক্যবদ্ধ থাকা মুসলিম উম্মাহ-র জন্য ফরয এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হওয়া হারাম। আল্লাহ সুবহানাহু তা'য়ালা বলেন,

وَٱعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ ٱللَّهِ جَمِيعاً وَلاَ تَفَرَّقُواْ


তোমরা আল্লাহ-র রজ্জু শক্তভাবে আকড়ে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। [সূরা আলে ইমরান ৩:১০২]

আল্লাহ সুবহানাহু তা'য়ালার আয়াত ও রাসূল (সা) এর বহু হাদীস থেকে একথা স্পষ্ট যে, বিশ্বের মুসলিমরা এক উম্মত। ভাষা, বর্ণ, অঞ্চল, জাতিয়তাবাদ ইত্যাদির ভিত্তিতে মুসলিমদের বিভক্ত করা আল্লাহ ও তার রাসূল (সা)-এর আদেশ এর সম্পূর্ণ পরিপন্থি। যেমন আল্লাহ সুবহানাহু তা'য়ালা বলেন,



وَكَذٰلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطاً لِّتَكُونُواْ شُهَدَآءَ عَلَى ٱلنَّاسِ وَيَكُونَ ٱلرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيداً


আর এভাবেই আমরা তোমাদেরকে একটি ন্যায়পরায়ণ উম্মত করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী হতে পারো এবং রাসূল হবে তোমাদের জন্য সাক্ষী। [সূরা বাকারাহ ২:১৪৩]

إِنَّمَا ٱلْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ


নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই-ভাই... [সূরা হুজুরাত : ১০]

রাসূল (সা) বলেন,

ألمسلم أخو ألمسلم


মুসলিমরা পরস্পর ভাই-ভাই ... [বুখারী]

এছাড়াও আমরা জানি,

ألمسلم أمة واحدة و بلادهم واحدة و حربهم واحدة


মুসলিমরা একটাই উম্মত, তাদের একটাই দেশ, তাদের একটাই যুদ্ধ ...
*
[হাদীসটির উপরোক্ত আরবী text ও বানান-এ ভূল থাকতে পারে, যদিও মর্মগত দিক দিয়ে এ কথার ব্যাপারে কোনো ভূল নেই]


মুসলিম শরীফের হাদীসে রয়েছে,

من اتاكم و أمركم جميع يريد أن يشق عصاكم او يفرق جماعتكم فاقتلوه
তোমরা ঐক্যবদ্ধ থাকা অবস্থায় কেউ এসে যদি তোমাদের সারিতে ফাটল সৃষ্টি করতে চায় কিংবা তোমাদের দলে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করতে চায়, তাকে হত্যা কর। [মুসলিম]

তিনি আরো বলেছেন,

من خرج من الجماعة فقد خلع ربقة الاسلام من عنقه حتى يراجعه
যে ব্যাক্তি জাম'য়াত (উম্মাহ) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, সে তার গলদেশ থেকে ইসলামের হার খুলে ফেলেছে, (এ অবস্থা অব্যাহত থাকবে) যতক্ষন না সে ফেরত আসে।

Thursday, May 21, 2009

কৃষিতে ইসলামের অবদান (coming soon)...

কৃষি হচ্ছে মূলত উদ্ভিদ ও প্রাণী থেকে খাদ্য এবং তন্তু উতপাদনের বা সংগ্রহের সুসংগঠিত পদ্ধতি. মানবসভ্যতার ইতিহাসে কৃষি সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে, কারণ বিশ্বব্যাপী আর্থসামাজিক অবস্থা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কৃষিব্যবস্থার অগ্রগতি অন্যতম প্রধান নিয়ামক. শিল্পবিপ্লবের আগ পর্যন্ত পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিল. নিত্যনতুন কলাকৌশল উদ্ভাবন এবং প্রয়োগের ফলে কৃষিজ উতপাদন বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ সমস্ত কলাকৌশল নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে..........